ঢাকা, বুধবার ০৮, জুলাই ২০২৬ ১২:৪৮:৩১ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে নারীর মৃত্যু কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ চট্টগ্রাম বোর্ডের বুধবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে আর্জেন্টিনার রূপকথার জয় ফরাসি আদালতের রায়: নির্বাচনে লড়ার সুযোগ পাচ্ছেন পেন

পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে আর্জেন্টিনার রূপকথার জয়

স্পোর্টস  ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:২০ এএম, ৮ জুলাই ২০২৬ বুধবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

দুই গোল হজম করেও আর্জেন্টিনা অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল। মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তারা।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে খাদের কিনারে চলে গিয়েছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধে খোদ অধিনায়ক লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিসের হতাশা, আর অন্যদিকে মিসরীয় গোলকিপার মোস্তফা শোবেরের অতিমানবীয় ফর্ম; সব মিলিয়ে বিদায়ের ঘণ্টা বাজছিল আর্জেন্টিনার।

কিন্তু ফুটবল ঈশ্বর যেন আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অন্য এক মহাকাব্য লিখে রেখেছিলেন। ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর ৪ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল, আর শেষ মুহূর্তের ইনজুরি টাইমের গোলে মিসরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখলো লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের শুরু থেকেই এলোমেলো ফুটবল খেলা আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ১৫ মিনিটেই লিড পায় মিসর। মারওয়ান আত্তিয়ার ক্রস থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে বাতাসে পরাস্ত করে বুলেট গতির হেডে গোল করেন ইয়াসের ইব্রাহিম।

পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। বক্সের ভেতর আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

কিন্তু লিওনেল মেসির ডান দিকের নিচু কোণ ঘেঁষে নেওয়া শটটি দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন মিসরের গোলকিপার মোস্তফা শোবের। এই মিসের মাধ্যমে বিশ্বকাপের একই আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা (এর আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে) ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ড গড়েন এলএমটেন। 
এরপর প্রথমার্ধের বাকি সময়ে ম্যাক আলিস্টারের হেড ও হুলিয়ান আলভারেসের শট রুখে দিয়ে মিসরের গোলপোস্টে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান শোবের। ৩১ মিনিটে মেসির একটি দূরপাল্লার বুলেট শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ১-০ তে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়ার্ধের ৬০তম মিনিটে মারওয়ান আত্তিয়ার ফাউলের কারণে ভিএআর পরীক্ষার পর মিসরের একটি গোল বাতিল করেন রেফারি। তবে ৬৭ মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি। মোহামেদ সালাহর শুরু করা এক নিখুঁত ‘ক্লাসিক কাউন্টার অ্যাটাক’ থেকে হাইসেম হাসানের ক্রসে ফাঁকায় বল পেয়ে সহজ শটে গোল করেন মোস্তাফা জিকো। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে শিরোপাধারীরা।

যখন মনে হচ্ছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় সময়ের ব্যাপার মাত্র, তখনই শুরু হয় আর্জেন্টিনার রুখে দাঁড়ানোর গল্প। ৭৯ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে লিওনেল মেসির বাড়ানো চমৎকার নিখুঁত ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে জোরালো হেডে মিসরের জাল ভেদ করেন ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ২-১।

এর চার মিনিটের মাথায় পুরো স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। লাওতারো মার্তিনেসের তৈরি করা আক্রমণ থেকে বল গনসালো মন্তিয়েলের গায়ে লেগে মেসির সামনে আসে। সুযোগ হাতছাড়া করেননি মহাতারকা; তার নেওয়া শট গোলরক্ষক শোবেরের হাত ছুঁয়ে ক্রসবারের নিচের অংশে লেগে জালে জড়ায়। স্কোরলাইন তখন ২-২!

ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ম্যাচের যোগ করা সময়ে (৯০+২ মিনিট) আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। লাওতারো মার্তিনেসের অ্যাসিস্ট থেকে কাউন্টার অ্যাটাকে বক্সের মাঝখান থেকে নিখুঁত হেডে বল জালে জড়ান এনসো ফার্নান্দেস। পুরো স্টেডিয়াম তখন আলবিসেলেস্তেদের উল্লাসে মাতোয়ারা।

২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও ৩-২ ব্যবধানের এই অবিশ্বাস্য ও মহাকাব্যিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। মিসরের রূপকথা ভেঙে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ আটে জায়গা করে নিয়ে বিশ্বমঞ্চে টিকে রইলো বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের শিরোপা ধরে রাখার রোমাঞ্চ।