ঢাকা, মঙ্গলবার ১৪, জুলাই ২০২৬ ৯:০৫:৪২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
বন্যায় প্রাণহানী বেড়ে ৫১, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী ব্যাংককের বারে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ গেল ২৭ জনের ১৭ বছর পর রাজধানীতে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত দেশজুড়ে আজও অতিভারী বৃষ্টির শঙ্কা

ফিলিস্তিনি বীর কিশোরী আহেদ তামিমি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ০১:১৯ পিএম, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার

ফিলিস্তিনি বীর কিশোরী আহেদ তামিমি। নিজের মাতৃভূমির জন্য তার প্রাণ কাদে। জন্মের পর থেকেই তিনি দেখেছেন স্বজাতির প্রতি শত্রুদের নির্যাতন। দেখেছেন কিভাবে জ্বলছে স্বদেশ। তাই তো প্রতিবাদের আগুণ কিশোরী আহেদ তামিমির চোখে-মুখে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দিলে দেশবাসীর সঙ্গে ক্ষোভে ফেটে পড়ে সে নিজেও। কারণ, পবিত্র ভূমি জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে চায় ফিলিস্তিনিরাও।

এক ইসরাইলি সেনার গালে ঘুষি মেরে বীরের মর্যাদায় ভূষিত হয়েছেন ১৬ বছরের ফিলিস্তিনি কিশোরী আহেদ তামিমি। কোকড়ানো ও সোনালি চুলের এই কিশোরী তাদের বাড়ির প্রবেশ পাথের কাছে দাঁড়ানো দুই ইসরাইলি সেনার দিকে হেঁটে এগিয়ে যান। সেনাদের কাছাকাছি গিয়ে নিজেদের বাড়ির আঙিনা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বলেন তিনি। কিন্তু ওই দুই সেনা তার কথায় কোনো কর্ণপাত না করে দাঁড়িয়ে থাকে।

তিনি ওই দুই সেনাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু সেনারা কোনো তোয়াক্কা না করায় এক সেনার গালে সজোরে থাপ্পড় বসিয়ে দেন তিনি। ইসরাইলি দুই সেনাকে ফিলিস্তিনি কিশোরীর রুখে দাঁড়ানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপরই ফিলিস্তিনের নবী সালেহ গ্রামের ১৬ বছর বয়সী এই কিশোরী নতুন প্রজন্মের এক বীরপ্রতীক হিসেবে ফিলিস্তিনের কাছে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান। শুধু পশ্চিম তীর নয়, গোটা ফিলিস্তিনেই আহেদ এখন প্রতিবাদের প্রতীক।

এনবিসি নিউজ জানায়, গত শুক্রবার জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করার প্রতিবাদে পশ্চিম তীরে বিক্ষোভ করছিল ফিলিস্তিনিরা। এ সময় ফিলিস্তিনের বিখ্যাত কিশোরী অ্যাক্টিভিস্ট আহেদ তামিমির পরিবারের এক সদস্যকে মাথায় গুলি করে ইসরাইলি সেনারা। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে কিশোরী আহেদ তামিমি। এই দৃশ্য কেউ একজন মোবাইল ফোনের ক্যামেরা ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি। এই ভিডিওকে ঘিরে ফিলিস্তিনি কিশোরীর বিরুদ্ধে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে উসকানি দেয় ইহুদিবাদী সংবাদ মাধ্যমগুলো।

থাপ্পড়ের প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলি সেনারা ওই কিশোরী আহেদ এবং তার ২১ বছর বয়সী চাচাতো বোন নুর নাজি আল তামিমিকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার ভোরে ওই ফিলিস্তিনি কিশোরীর বাড়িতে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। আহেদের ব্যক্তিগত ল্যাপটপ, মোবাইল এবং বেশ কিছু ইলেক্ট্রনিক জিনিস জব্দ করা হয়। এমন কি মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে পুলিশ স্টেশনে গেলে মা নারিমান আল তামিমিকেও গ্রেপ্তার করা হয়। মা-মেয়ের কেউই মুক্তি পাননি। বরং তাদের আটকাদেশের মেয়াদ বেড়েছে।

অভিযানের সময় তামিমির পরিবারের লোকজনকে সেনারা মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। এ ঘটনায় ফিলিস্তিনিরা সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ ও নিন্দা জানান। তাদের কথা, দখলদার ইসরাইলি সেনাদের প্রতিরোধ করার অধিকার রয়েছে ফিলিস্তিনিদের।

দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগডোর লিবারম্যান গতকাল মঙ্গলবার বলেন, শুধু ওই কিশোরী নয়, এ ঘটনার জন্য দায়ী তার বাবা-মাসহ কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রাপ্য সাজা তাদের ভোগ করতেই হবে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ যদি কোনো ধরনের বিক্ষোভ করার চেষ্টা করে, তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে। এই কড়া বার্তাটি সবাইকে মনে রাখার ও মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে দুই সেনার ওপর হামলার অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে ১০ দিনের সাজাও ঘোষণা করা হয়েছে। ইসরাইলের শিক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেন্নেত মঙ্গলবার আর্মি রেডিওতে এক ঘোষণায় বলেন, ‘অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডে জড়িত দুই ফিলিস্তিনি কিশোরীকে জেলেই পচে মরতে হবে।’

আহেদ তামিমি সব সময়ই প্রতিবাদী। নয় বছর বয়স থেকে সে ইসরায়েলবিরোধী মিছিলে শামিল হয়। ২০১৪ সালে বাড়ির কাছ থেকে ছোট ভাইকে ইসরায়েলি বাহিনীর লোকজন ধরে নিতে গেলে সে বাধা দিয়েছিল। কিন্তু এতেও আটকাতে না পেরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের হাত কামড়ে ধরেছিল সে। শুধু সে নয়, তার পুরো পরিবারই প্রতিবাদী। আহেদের বাবা বাসেম আল তামিমিও তাদের গ্রামে একজন প্রতিবাদী মানুষ হিসেবে পরিচিত, যিনি সব সময়ই ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলেন।