ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ১৫:০৭:৪৬ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
১৪ বছরের অগাস্টিনার হত্যায় ক্ষোভে ফুঁসছে আর্জেন্টিনা কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় ৪ বাংলাদেশি আহত রামিসা ধ*র্ষণ-হত্যা মামলার রায় ৭ জুন রামিসা হত্যা মামলা: রায়ের দিন নির্ধারণ হতে পারে আজ সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার

ফুল ভাসিয়ে পাহাড়ে বর্ষবরণ শুরু, প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:৫৬ এএম, ১২ এপ্রিল ২০২৬ রবিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

পাহাড়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব বিজু, বিহু,বিষু, বৈসু, সাংগ্রাই, সাংলান ও চাক্রান। আজ রোববার পানিতে ফুল ভাসানোর মাধ্যমে এসব উৎসব শুরু হয়েছে। এই উৎসব উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক বহমান শুভেচ্ছা বাণী দিয়েছেন। 

জানা গেছে, জলদেবতার উদ্দেশ্যে ফুল পূজা করে তারা ফুল ভাসান। এসময় তারা প্রার্থনা করেন পুরনো বছরের সব দুঃখ, কষ্ট, গ্লানি মুছে নতুন বছর যেন সবার জীবনে আশীর্বাদ বয়ে আনে। ১২ তারিখ ফুল বিজু, ১৩ তারিখ মূল বিজু এবং ১৪ তারিখ নতুন বছরকে গজ্জ্যাপজ্জ্যা বলা হয়।

যুগ যুগ ধরে নিজের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে বিভিন্ন রকমের খাবার, খেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে এই উৎসব পালন করা হয়। উৎসবটি পাহাড়ের এক এক সম্প্রদায়ের কাছে আলাদা আলাদা নামে পরিচিত, যেমন- বিজু, বিহু, বিসু, বৈসু, চাংক্রান, সাংগ্রাই এবং সাংলান।

আজ সকালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শঙ্খ নদীতে ফুল নিবেদনের মাধ্যমে বান্দরবানে চাকমাদের বিঝু, তঞ্চঙ্গ্যাদের বিষু তথা নতুন বর্ষবরণ উৎসব শুরু হয়।

পঞ্জিকা অনুসারে বছরের শেষ দুদিন ও বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন চাকমারা ফুল বিজু, মূল বিঝু ও গজ্জ্যাপজ্জ্যা এই তিন দিন বিজু পালন করে থাকে। আগামীকাল চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মূল অনুষ্ঠান। কাল ঘরে ঘরে হরেক রকমের শাক-সবজি ও তরকারির মিশ্রণে 'পাজন' রান্না করে নিমন্ত্রিত ও আগমনী অতিথিদের মাঝে পরিবেশন করা হবে। সবাই ঐতিহ্যবাহী ও নিজস্ব সংস্কৃতির ধারার নতুন কাপড় পরে দলবেঁধে পুরো গ্রাম ঘুরে বেড়াবে।

নববর্ষের প্রথম দিনকে চাকমারা বলেন গজ্জ্যাপজ্জ্যা। এদিনও মূল বিজুর আমেজ থাকে। মুরুব্বি ও বয়স্কদের নিমন্ত্রণ জানিয়ে ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করে আর্শীবাদ নেওয়া হয়। এরপর বিহারে ভিক্ষু সংঘকে 'ছোয়াইং' ভোজন দান করা হয়। বিকেলে বাড়িতে পারিবারিক মঙ্গলে ধর্মীয় গুরুদের আমন্ত্রণ করে মঙ্গল সূত্রপাঠ শোনা হয়।

এপ্রিলে তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব হলো- মারমাদের সাংগ্রাই, চাকমাদের বিজু, ত্রিপুরাদের বৈসু, তঞ্চঙ্গ্যাদের বিষু, ম্রোদের চাংক্রান পোয়ে, খুমীদের সাংক্রাই, খেয়াংদের সাংলান, চাকদের সাংগ্রাইং এবং খুমী সম্প্রদায়ের সাংক্রাই। পুরো মাসজুড়ে এসব সম্প্রদায়ের বৈচিত্রময় জীবনধারা, নানা সংস্কৃতির সম্মিলন উৎসবে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

জানা গেছে, মাহাঃ সাংগ্রাই পোয়ে  ১৩৮৫ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে সাংগ্রাই র‍্যালি, রিলং পোয়ে, বুদ্ধ বিম্ব স্নান, পাড়ায় পাড়ায় পিঠা তৈরি ইত্যাদি।

সূত্র বলছে, সাংগ্রাই, বিজু, বিষু, বৈসু উৎসব ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বান্দরবানে সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে দুই স্তর বিশিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে। আশা করি সবাই নিরাপদে উৎসব উদযাপন করতে পারবেন।

এদিকে পাহাড়ের উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, চাংক্রান, বিষু ও চাংলান উপলক্ষ্যে পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর জনসাধারণের প্রত্যেককে শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান।

এতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন সম্প্রদায় অথবা পাহাড় কিংবা সমতলে বসবাসকারী সকলে-বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায় এবং পাহাড় ও সমতলে বসবাসকারী সকলের ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব আমাদের জাতীয় উৎসবেরই অংশ। পাশাপাশি এসব উৎসব জাতীয় জীবনে শান্তি ও আনন্দ বয়ে নিয়ে আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ইতিহাস বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা আমাদের ঐতিহ্যকে গৌরবময়, প্রাচুর্যময় ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে। মানুষে-মানুষে সম্প্রীতি ও মিলনের অমিয় বাণী মিশে আছে আমাদের লোকজ ঐতিহ্যে।