ঢাকা, রবিবার ২৫, অক্টোবর ২০২৬ ০:৪০:৪৭ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
রাজধানীতে প্রতিদিন গড়ে ভাঙছে প্রায় ৪৪টি সংসার সৌদিতে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা কতটা আছে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে,৩জনের প্রাণহানী কমছে না পোলাওর চাল ও আটা-ময়দার দাম ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ২৬ অক্টোবর থেকে চলবে মহানগর এক্সপ্রেস তিব্বতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প: নিহত ১৬, আহত অর্ধশতাধিক অপ্রতীম হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল

বিয়ের পর মালালাকে নিয়ে ফেসবুক-টুইটারে ট্রল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:০৪ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০২১ শুক্রবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী পাকিস্তানের নারী অধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাই বিয়ে করেছেন।  পাকিস্তান ক্রিকেট দলের কর্মকর্তা আসের মালিককে জীবনসঙ্গী করেছেন তিনি।  
বিয়ের খবর নিজের টুইটার একাউন্টে শেয়ার করেছেন মালালা ইউসুফজাই। ৯ নভেম্বর বিয়ে আসরের কিছু ছবিও শেয়ার করেছেন। এরপর ওই টুইট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া চলছে ফেসবুক ও টুইটারে।  অনেকে মালালাকে নতুন জীবনে অভিনন্দন জানালেও কেউ কেউ তাকে নিয়ে ট্রল করছেন।
এই ট্রলের খোরাক মালালার আগের একটি মন্তব্য নিয়ে। গত জুনে ভগ ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই তরুণী বলেছিলেন, 'মানুষ কেন বিয়ে করে'।  বিয়ের পর তার ওই মন্তব্য নিয়ে টুইটারে ঝড় চলছে।
ফেসবুক-টুইটারে যারা মালালার বিয়ের সমালোচনা করছেন তাদের বেশিরভাগই দক্ষিণ এশিয়। 
লিভিং ডেড নামে একটি টুইটার একাউন্ট থেকে মন্তব্য করা হয়েছে, আমি ঠিক স্মরণ করতে পারছি, একজন কিছুদিন আগেও বিয়ে বিয়ের সমালোচনা করেছে, পার্টনারশিপকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।  আহ! কত বড় কপটতা।
এ মন্তব্যের পর তিনি বিয়ের পর মালালা ৭ নভেম্বর যে টুইট করেছেন সেটিও জুড়ে দিয়েছেন। যেখানে মালালা লিখেছেন, আজকের দিনটি আমার জীবনে খুবই মূল্যবান। আমি আর আসের অংশীদার হিসেবে হিসেবে গাঁটছড়া বেঁধেছি।  বার্মিংহামে আমাদের বাসায় ঘরোয়া আয়োজনে আমরা বিয়ে করেছি।  আমাদের জন্য দোয়া করবেন।  আমরা সামনের দিনগুলোতে একসঙ্গে পথ চলব।
মালালা বিয়ে নিয়ে ভগ ম্যাগাজিনকে দেওয়া মন্তব্যের কমাস না যেতেই গাঁটছড়া বাঁধায় তার সমালোচনায় মাতছেন নেটিজেনরা।  
পাকিস্তান থেকে শাখান নামে একজন উর্দূতে টুইট করেছেন। যার অর্থ দাঁড়ায়— ‘মালালা এক সময় দাড়ি ও বিয়ে দুটোরই বিরোধী ছিলেন, আর এখন তিনি দাড়িওয়ালা একজনকে বিয়ে করেছেন, আমাদের বোকা বানিয়েছেন।’
কুরাত কুয়াসার নামে একজন টুইট করেছেন— ‘আপনি যদি পার্টনারশিপ করেই থাকতে পারতেন তাহলে বিয়ে করার ইচ্ছে হলো কেন?’
মিস্টারসি-স্মোকার নামে একজন টুইট করেছেন, মালালা, আপনি বিয়ে করলেন কেন? এটা ছাড়াও তো আপনি পরিবার গড়তে পারতেন। এই মেয়ে কয়েক মাসে আগেই বিয়ের নিন্দা করছিল। কত বড় ভণ্ডামি!’
রাজীআইয়ার নামে একজন টুইটারে লিখেছেন— ‘মালালা বলেছিলেন, মানুষকে কেন বিয়ে করতে হয় আমি বুঝি না, এখন তিনি তা না বুঝেই বিয়ে করেছেন। ভণ্ডামির আরেক নাম মালালা।’
প্রসঙ্গত, তালেবানের গুলিতে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা পাকিস্তানি কিশোরী মালালা হয়ে উঠেছিলেন নারীশিক্ষার আন্দোলনের সামনের সারির কর্মী, সবচেয়ে কম বয়সে জিতে নিয়েছিলেন শান্তির নোবেল।
আসের মালিকও বিয়ের একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন। সেখানে মালালাকে আংটি পরিয়ে দিতে দেখা যাচ্ছে তাকে। আর মেয়ের বিয়ের কথা জানিয়ে মালালার বাবা জিয়াউদ্দিন ইউসুফজাই টুইটারে লিখেছেন, এটা আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তুর পেকাই ইউসুফজাই (মালালার মা) আর আমি অভিভূত, কৃতজ্ঞ।’


রয়টার্স লিখেছে, বিশ্বের অনেক অঞ্চলে, বিশেষ করে পশ্চিমের দেশগুলোয় মালালা তার সাহস আর নারী শিক্ষার আন্দোলনে ভূমিকার জন্য প্রশংসিত। তবে তার নিজের দেশ পাকিস্তানের মানুষ তার অবস্থান নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত।
পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকার মেয়ে মালালা ইউসুফজাইয়ের জন্ম ১৯৯৭ সালের ১২ জুলাই। নারী শিক্ষার বিরোধী তালেবান জঙ্গিদের এলাকায় বসে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার পক্ষে বিবিসি ব্লগে লেখালেখি করে তিনি যখন পশ্চিমা বিশ্বের নজর কাড়েন, তখন তার বয়স মাত্র ১১ বছর।
নারী শিক্ষার পক্ষে কথা বলায় তাকে পড়তে হয় প্রাণনাশের হুমকির মুখে। ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর সোয়াত উপত্যকার মিনগোরাত এলাকায় ১৪ বছর বয়সি মালালা ও তার দুই বান্ধবীকে স্কুলের সামনেই গুলি করে তালেবান। পাকিস্তানে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করে বুলেট সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও পরে যুক্তরাজ্যের কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে তাকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওই ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে, মালালার স্বপ্ন সফল করতে ২০১২ সালের ১০ নভেম্বরকে ‘মালালা দিবস’ ঘোষণা করে জাতিসংঘ।
তাৎক্ষণিকভাবে পাকিস্তানে ফিরতে না পারলেও মালালা যুক্তরাজ্যে থেকে তার লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন। পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, জর্ডান, সিরিয়া ও কেনিয়ার মেয়েদের শিক্ষার সহায়তায় গঠন করেন মালালা ফান্ড।
২০১৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিয়ে বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘চরমপন্থিরা বই আর কলমকে ভয় পায়। তারা নারীদের ভয় পায়। তালেবানরা ভেবেছিল বুলেট দিয়ে আমাদের স্তব্ধ করে দেবে। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে।’
পরের বছর ভারতের শিশু অধিকার কর্মী কৈলাস সত্যার্থীর সঙ্গে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান মালালা, যিনি এখন যুক্তরাজ্যেই থাকছেন, লেখাপড়া শেষ করেছেন ।