ঢাকা, রবিবার ১৯, জুলাই ২০২৬ ১৭:০৭:২৩ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
উত্তরে নদনদীর পানি বাড়ছে, বন্যার শঙ্কা হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ আজ রাতে ফাইনালের মহারণে আর্জেন্টিনা-স্পেন আগামী ৩ দিন ভারী বৃষ্টির আভাস, ৬ জেলায় বন্যার শঙ্কা মেসিকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এখন এমবাপের গোলের বন্যার ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় ইংল্যান্ড

বৈশাখী উত্তাপে গরমে অস্থির নগর জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:১৪ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ বুধবার

বৈশাখী উত্তাপে গরমে অস্থির নগর জীবন

বৈশাখী উত্তাপে গরমে অস্থির নগর জীবন

বৈশাখ এলেই বাঙালির মনে জাগে উৎসবের আমেজ, নতুন বছরের আনন্দ আর ঐতিহ্যের রঙিন ছোঁয়া। কিন্তু সেই আনন্দকে অনেকটাই ম্লান করে দিচ্ছে বৈশাখী তাপদাহ। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন নগরে এখন যেন আগুন ঝরছে আকাশ থেকে। তীব্র রোদ, ভ্যাপসা গরম আর ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নগরজীবন।
সকাল থেকেই রোদের তেজ এমন যে, ঘর থেকে বের হওয়াই যেন একপ্রকার চ্যালেঞ্জ। দুপুর গড়াতেই পিচঢালা সড়কগুলো হয়ে উঠছে উত্তপ্ত, বাতাসে নেই স্বস্তির ছোঁয়া। রিকশাচালক থেকে শুরু করে অফিসগামী মানুষ—সবাই গরমে হাঁসফাঁস করছেন।
কারওয়ান বাজারে সবজি কিনতে আসা গৃহিণী শিউলি আক্তার বলেন, “সকালেই বের হয়েছি, তারপরও এই গরম সহ্য করা যাচ্ছে না। রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হয়, মাথা ঘুরে যায়।”
মতিঝিল এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী রাশেদ মিয়া জানান, “অফিসে যেতে বের হলেই ঘামতে শুরু করি। বাসে উঠলে তো আরও কষ্ট—গরমে দম বন্ধ হয়ে আসে।”
শুধু পথচারী নয়, সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষরা। দিনমজুর, রিকশাচালক কিংবা ফুটপাতের দোকানিরা রোদে পুড়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। রাজধানীর মিরপুর এলাকায় রিকশা চালান আব্দুল করিম। তিনি বলেন, “গরমে শরীর একদম দুর্বল হয়ে যায়। কিন্তু কাজ তো বন্ধ রাখা যাবে না, না হলে সংসার চলবে কীভাবে?”
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বৈশাখ মাসে এমন তাপদাহ নতুন কিছু নয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা আগের চেয়ে কিছুটা বেশি অনুভূত হচ্ছে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমে মানুষের কষ্ট বাড়ছে।
চিকিৎসকদের মতে, এই সময় হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, মাথাব্যথা, বমি ভাবসহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা খাবার খাওয়া এবং রোদ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
গরমের প্রভাব পড়েছে নগর জীবনের স্বাভাবিক ছন্দেও। অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে কিছুটা স্বস্তি মিললেও দিনের বেশিরভাগ সময়ই নগর যেন থমথমে হয়ে থাকে।
তবে এই বৈশাখেই আসে কালবৈশাখী ঝড় আর স্বস্তির বৃষ্টি। অনেকেই আশায় বুক বাঁধছেন, এক পশলা বৃষ্টি হয়তো এই তাপদাহ থেকে কিছুটা মুক্তি দেবে।
সব মিলিয়ে, বৈশাখের ঐতিহ্য আর আনন্দের মাঝেও তীব্র গরমে অস্থির হয়ে উঠেছে নগর জীবন। তবুও জীবন থেমে নেই—মানুষ লড়ছে, কাজ করছে, আশা করছে একটু স্বস্তির বাতাস আর বৃষ্টির ছোঁয়ার জন্য।