ঢাকা, শনিবার ১৮, জুলাই ২০২৬ ৮:৫৩:৪৪ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
রাজধানীর সড়কে যেন গর্তের রাজত্ব, প্রতিদিন দুর্ভোগে লাখো মানুষ বৃষ্টির প্রভাবে সবজির দামে ঊর্ধ্বগতি, স্থিতিশীল মাছ-মাংসের দাম ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ: ফাইনালে গুরু-শিষ্য মুখোমুখি ৬ মাসে ২৩৮ শিশু-কিশোরীসহ ৪০৪ জনকে ধর্ষণ: এইচআরএসএস গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক নারীকে মুক্তি দিল ইরান আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশনের প্রধান হলেন বাংলাদেশের রাবাব ফাতিমা

ভারতের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম হলেন প্রতিবন্ধী নারী ইরা সিঙ্ঘল

আপডেট: ০৪:২১ এএম, ৬ জুলাই ২০১৫ সোমবার

1436114609উইমেননিউজ ডেস্ক, ঢাকা : প্রতিবন্ধিতাকে জয় করে ভারতের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার ফলাফলের তালিকায় সবার শীর্ষে স্থান দখল করে নিয়েছেন অদম্য মেধাবী নারী ইরা সিঙ্ঘল। দিল্লীর বাসিন্দা ইরা ডাক্তারি ভাষায় ৬২ শতাংশ চলাচলে অক্ষম। তবে ৩০ বছর বয়সী এই যুবতীকে থামিয়ে রাখতে পারেনি তাঁর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। ২০১০ সালে তিনি ইন্ডিয়ান রেভিনিউ সার্ভিস পরীক্ষায় সফল হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে চাকরি দেয়া হয়নি। কারণ, কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি শারীরিকভাবে এই চাকরির জন্য সক্ষম নন। কিন্তু প্রতিকূলতার কাছে হার মানেননি ইরা। তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন নিজের মেধা ও যোগ্যতার শ্রেষ্ঠত্ব। সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রিবিউনালের সহায়তায় তিনি যে শারীরিকভাবে সক্ষম, সেই রিপোর্ট জমা দেন। তারপর দু’বছর ইরা নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন কর্মক্ষেত্রে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে সকলে একথা মানতে বাধ্য হন যে তিনি শারীরিকভাবে সক্ষম। এরপর তিনি কাস্টমস অ্যান্ড সেন্ট্রাল এক্সাইজ সার্ভিসে অ্যাসিসট্যান্ট কমিশনার পদে নিযুক্ত হন। বর্তমানে অন্ধ্রপ্রদেশের হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের ড. ম্যারি চান্না রেড্ডির তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ইরা পরীক্ষায় নিজের প্রস্তুতি নিয়ে নিশ্চিত ছিলেন। ফল যে ভালো হবে, সেব্যাপারে এক প্রকার নিশ্চিত ছিলেন তিনি। তবে একেবারে যে প্রথম হওয়াটা তার কাছে অপ্রত্যাশিত। ফল প্রকাশের দিন প্রথমে একজন বন্ধুর থেকে ইরা সুখবরটি পান। ইরা বলেন, ‘আমি উল্লসিত, উত্তেজিত এবং খুব খুব খুশি হয়েছি।’ ভবিষ্যতে একজন সফল আইএএস অফিসার হতে চান তিনি। এমনকি, সমাজে প্রতিবন্ধী এবং মহিলা ও শিশুদের উন্নতির জন্যও কিছু করতে চান দিল্লীর এই স্কলার। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার সময় তিনি পুনরায় সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রিবিউনালের নিয়মের মধ্যে দিয়ে যান। তখন নিজের শারীরিক কর্মদক্ষতা আরও একবার প্রমাণ করতে সফল হন ইরা। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার ফাঁকে তিনি স্প্যানিশ এবং ইংরেজি ভাষার শিক্ষকতাও করেছেন নয়াদিল্লীর সাফদারজং এনক্লেভে । হায়দরাবাদে এসে পৌঁছেছেন জুন মাসের ২১ তারিখ। এখন নিজামের শহরের উন্নয়নের চিন্তাও ঘুরপাক খাচ্ছে ইরার মাথায়। এদিকে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলে প্রথম ৫ জনের মধ্যে ৪ জনই মহিলা। ইরা সিঙ্ঘলের ্ দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ হয়েছেন যথাক্রমে রেণু রাজ, নিধি গুপ্ত ও বন্দনা রাও। চূড়ান্ত পরীক্ষায় সফল হয়েছেন ১ হাজার ২৩৬ জন। সফল পরীক্ষার্থীদের ট্যুইটারে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এবারই প্রথম ইন্টারভিউ শেষ হওয়ার ৪ দিনের মাথায় ফল প্রকাশ করল ইউপিএসসি। পরীক্ষায় বসেছিলেন ৯ লাখ পরীক্ষার্থী। প্রতি বছরই ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস, ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস ও ইন্ডিয়ান পাবলিস সার্ভিস অফিসার নিয়োগ করতে এই পরীক্ষার ব্যবস্থা করে ইউপিএসসি। ০৬.০৭.২০১৫