ঢাকা, মঙ্গলবার ২১, জুলাই ২০২৬ ২০:৪০:১৭ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ খেলাধুলা মেসিকে ছাড়াই দেশে ফিরল আর্জেন্টিনা দল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে স্পেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা-মেয়েসহ ৩ নারীর প্রাণহানী মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর: ট্রমা কাটেনি, নিঃস্ব অনেক পরিবার রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

মা দিবস : 'ফেসবুক থেকে' .....

আপডেট: ০৬:১৯ পিএম, ১০ মে ২০১৫ রবিবার

Mothers-dayআজ মা দিবস। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আজ মাকে নিয়ে লেখালেখি হয়েছে অনেক। মাকে ভালোবাসার কথা, আবেগের কথা বলছেন সন্তানরা। একজন সন্তান যে তার মাকে কত ভালোবাসতে পারে তাই উঠে এসেছে প্রতিটি লেখায়। লেখাগুলো সম্পাদনা না করে হুবহুব তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য। চঞ্চল আশরাফ : আমার মা ছুটির দিনে দুপুরবেলায় শুয়ে থাকতেন আমাদেরকে নিয়ে, গান শোনাতেন ‘মধুমালতী ডাকে আয়’ কিংবা ‘কে তুমি আমারে ডাকো’... আর একটা কবিতা, কার যেন, কোনো বিখ্যাত কবিরই হবে, ...‘যারা হানে/ টানে/ চালায়/ ঘোরায়/ ওড়ায়/ পোড়ায়/ ...শোনো, তাদের কলরব।’ শোনাতেন, মনে পড়ে। বলতেন প্রীতিলতা-সূর্যসেনের কথা, বেগম রোকেয়ার কথা। পরশুরাম গার্লস হাই স্কুলের শিক্ষক ছিলেন তিনি; বুকে বালিশ চেপে গভীর রাতে পরীক্ষার খাতা দেখা, হাসপাতালে কিংবা দূরের গ্রামে রোগী দেখতে যাওয়া বাবার জন্য অপেক্ষা অনেক রাত অব্দি, ভোরে ঘুম থেকে উঠে আমাদেরকে খাইয়েদাইয়ে স্কুলে পাঠানো, এইসব মিলেই আমার মায়ের সংগ্রামী আর মায়াবী মুখ, মনে পড়ে। তাঁর কাছ থেকেই কবিতার ছন্দ প্রথম শিখেছি, তখন আমি ক্লাস সেভেনে পড়ি; গত বছর কথাটা বলতেই তিনি জানালেন যে তাঁর মনেই নেই! এই আমার মা। আজ তাঁকে ফোন করলাম, বললেন যে, আমার কথা তাঁর মনে পড়ছিল আর অমনি আমি তাঁকে ফোন করলাম! পৃথিবীর সব মা আর সন্তানের মধ্যে এমনটিই তো স্বাভাবিক, তাই না? ফিরোজ মান্না : মা দিবসের মাধ্যমেই শুধু মাকে ভালবাসতে হবে? মা তো মহান--তাকে ভালবাসা ভক্তি করা প্রতিটি সন্তানের দায়িত্ব কর্তব্য--এটা কোন দিবসের মধ্যে আটকা না; অনন্তকালের জন্য। তবুও মা দিবসে প্রতিটি মায়ের চরণে আমার ভক্তি নিবেদন। আমি মায়ের চরণে সব দিনের জন্য রাখলাম শ্রদ্ধা ভক্তি।‘আমারও পরাণও যাহা চায় তুমি তাই গো’। শামসুজ্জামান খান : যখন আমার বয়স ৬ তখন থেকেই আমার মা হারিয়ে গিয়েছে । তার পর কেটে গেছে ৩৮ বছর, কিন্তু আজও "মা" ডাকতে পারিনি । আমার দাদা-দাদী-নানীর নাতির আদর নেয়ার বয়স কেটেছিল তাদের কাছেই মানে গ্রামে । তখন আমার মা ছিল শুধু আমার "মা" । কিন্তু অবুঝ বয়সে কোন এক অজানা কারনে মা আমাকে নিয়ে চলে আসে শহরে আমার বাবার চাকুরিস্থলে । গ্রাম থেকে শহর এই পরিবর্তনের ছোয়া লাগলো আমাদের সকলের জীবনে । গ্রামের আন্ডা হয়ে গেল ডিম, গায়ের জামা হয়ে গেল শার্ট, প্যান্ট, খাওয়ার ধরন গেল পাল্টে, কথা বলার ভাষাটাও বদলে গেল অনেক, আর আমার "মা" ডাক হয়ে গেল আম্মা ।আমার মুখ থেকে চিরদিনের জন্য "মা" হারিয়ে গেল । এক অক্ষরের এই ডাক যে মায়ের মনে কতটা আনন্দ দিতো বুঝতে পেরেছিলাম একদিন তার কষ্ট দেখে । তখন আমার বয়স কত হবে মনে নেই তবে ১৩/১৪ হবে । হটাৎ একদিন আম্মা বলে উঠলেন তুই আমাকে "মা" বলতে পারিস না । কিন্তু আমি আর পারিনি । কোথায় যেন একটা কিন্তু এসে ভর করতো মনের মাঝে । সেই দিন থেকে "মা" ডাকতে না পারার এক অব্যক্ত যন্ত্রনা আমায় আজও কুরে কুরে খাচ্ছে । সেই কষ্ট কমানোর জন্য আমার বিয়ের পর স্ত্রীকে বললাম আম্মাকে তুমি "মা" ডেকো । কেন জানিনা সেই কারনেই কিনা আজ আমার চেয়ে আমার স্ত্রীই তার কাছে বেশী প্রিয় । হিংসে হলেও আমি মনে মনে খুশি যে আমার "মা" তার অধিকার কিছুটা হলেও ফিরে পেয়েছে । আজও সকালে ফোন করেছিলাম "মা" ডাকবো বলে কিন্তু পারিনি । তাই এখন বলতে চাই "মা" মাগো আমি কতকাল তোমার ডাকিনি । আজ আমি চোখের জলে আমার সমস্ত ভালবাসা দিয়ে তোমাকে ডাকছি "মা" । তুমি ফিরে এসো আবার সেই আদি অকৃত্তিম আদর ভালবাসা মমতা নিয়ে সবার মুখে মুখে । শহুরে এই মেকি দুনিয়ায় আমার আর ভাল লাগছে না । যে সভ্যতা "মা" ডাকতে শিখায় না, সেই দুনিয়া আমার চাইনা "মা" । সালাম ফারুকী : এই ছবিটি ৮০-র দশকের দ্বিতীয়ভাগের কোনো এক সময়কার। সর্ববামে মালা পরিহিত আমি। পেছনে মাঝখানে পাঞ্জাবি পরিহিত আমার আব্বা। আর তার পাশে শাড়ি পরিহিত আমার আম্মা। বাকিরা আমার ভাই-বোন। আমরা ৫ ভাই-বোনই ছিলাম খুব কাছাকাছি। তাই স্বাভাবিকভাবে আমাদের লালন-পালনে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে আব্বা-আম্মাকে। বিশেষ করে, আমাদের নানান অত্যাচারেও আদর-যত্নের কমতি ছিল না আমার গৃহিণী মায়ের। আজকালকার মহিলারা একটি বা দু’টি সন্তান নিয়েই চরম হিমশিম খান। আমাদের মায়েরা তা করে গেছেন অনায়াসে। অসুখে-বিসুখে রাতদিনে একাকার করে চেষ্টা করে গেছেন সন্তানদের সুস্থ করে তুলতে। নিয়মিত খাবার-দাবারের পাশাপাশি স্কুলে যাওয়ার আগে, স্কুল থেকে ফেরার পর, সন্ধ্যায় পড়তে বসার আগে বা রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে কত না বায়না, এটা খাবো... ওটা খাবো। নিরাশ করতেন না আম্মা। আম্মার হাতে বানানো কত্ত রকমের পিঠা-পুলি খেয়েছি। বাংলার ঐতিহ্যবাহী এমন খাবার খুব কমই আছে যা আম্মা খাওয়াননি। এখন আম্মা-আব্বা থাকেন কুমিল্লা। আর আমি রুজির তাগিদে ঢাকায়। ২/৩ মাসে একবার, তাও মাত্র এক বা দু’দিনের জন্য যাওয়া হয় তাদের কাছে। এখনও বাড়ি গেলে, এমন কিছু খাওয়ানোর চেষ্টা করেন আম্মা, যা আমরা সারা বছরেও ঢাকায় খেতে পাই না। কখনওবা যেতে না পারলে পাঠিয়ে দেন ঢাকায়। আজ না কি বিশ্ব ’মা’ দিবস। এ কথা জেনেই আমার স্ট্যাটাস। কিসের দিবস-টিবস?!! মায়ের প্রতি ভালোবাসা আমৃত্যু প্রতিটি দিন, প্রতিটি ক্ষণের। শুধু বহুজাতিক কোম্পানির ব্যবসার দিনে নয়। সেই সাথে আব্বারও জন্যও। কারণ এ দু’জনের সম্মিলিত প্রয়াসেই আমি আজ আমার মাঝে সদাজাগ্রত সততা, নিষ্ঠা আর সামাজিকতা। আসমা আক্তার : বুকের সাথে যখন লেপ্টে যায় শিশুটি মুখের দিকে চেয়ে থাকে একদৃষ্টিতে, মনের কথা বোঝার চেষ্ট করে এক টুকরো হাসি দিয়ে ভোলাতে চায় মাকে। এ আত্তার বন্ধন, বয়স কোন বিষয় নয় শুধু মায়ের মুখের হাসি দেখতে চাওয়ার অবিরাম চেষ্টা মা যদি ভালো থাকতো, আরো বেশদিন বাচতো নিস্পাপ, বিনিময়হীন এই ভালবাসার নামই মা দিবস -- সকল ময়েদের প্রতি কোটি কোটি শ্রদ্ধা! নাজমুল তপন : My Mother Died Today Or Yesterday , I Don't Know... মা দিবস নিয়ে ফেসবুকে আমরা যতই আবেগঘন স্ট্রাটাস দিই না কেন ... এইটাই সত্যি কথা । যতই সময় গড়াচ্ছে ততই বাড়ছে আমাদের বিচ্ছিন্নতা । আমরা বিচ্চিন্ন হচ্ছি প্রথমে কর্মে, তারপর চিন্তায় শেষ পর্যন্ত অস্তিত্ব্ই। মায়ের সাধ্য কি সর্বগ্রাসী এই বিচ্ছিন্নতা আটকায়। জায়েদ হোসাইন লাকী : আমার জন্মের প্রথম দিন আমার বাবা আমাকে প্রথম যে হাফ শার্টটি কিনে এনে পরিয়ে দিয়েছিলেন, সে শার্টটি এখনো আমার মা যত্ন করে তুলে রেখেছেন! স্যুটকেস খুলে মা সে শার্টটি প্রায়শই আমাকে দেখান আর হাসেন। মাকে তখন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুখী মানুষ বলে মনে হয়। আজ বাবা বেচেঁ নেই। মাও একদিন আমাকে ফেলে চলে যাবেন। তখন আমি হয়ে যাব পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দুখী মানুষ। আজ মা দিবসে সকল মা ও বাবাকে আমার অন্তর থেকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। সাহাদাত পারভেজ : মা আর আমার জন্মদিন একই তারিখে। কিন্তু আমার সঙ্গে মায়ের বয়সের ব্যবধান ১৬ বছরের। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়েছিল। অথচ বাবার ছিল এটা দেরিতে বিয়ে। মায়ের থেকে বয়সে বাবা অন্তত ১৮ বছরের বড়। বিয়ের আগে আমার বাবা আর মায়ের মধ্যে সম্পর্ক ছিল নানা-নাতনির। অর্থাৎ আমার মায়ের নানি হচ্ছেন বাবার চাচাতো বোন। বিয়ের তিন বছরের মাথায় মায়ের কোলজুড়ে আমি পৃথিবীতে এলাম। ২৪ বছর আগে একবার শুনেছিলাম, মায়ের বয়স তিরিশ। এখনো মনে হয় তিরিশ। আজও আমার কাছে মায়ের বয়স বাড়ল না। আমার মায়ের নাম সেলিনা আখতার। ডাকনাম শান্তি। জন্মের সময় সৌম্য চেহারা দেখে মায়ের বড় মামা আবদুল মোতালেব শান্তি নামটি রাখেন। মায়ের জন্ম ১৯৬১ সালের ৮ অক্টোবর। মায়ায় মেশানো তার মুখ। তাকে দেখলে সুখ অনুভব করি। মা আমাকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন। নিজের মতো করে বড় করেছেন। এক জীবনে বলে শেষ করা যাবে না আমার মায়ের গল্প। নানা বাস্তবতার কারণে মা থাকেন আমাদের গ্রামের বাড়িতে। মায়ের জন্য সারাক্ষণ তাই অস্থির থাকি। চারপাশ খুঁজি। কিন্তু কোথাও আমার মায়ের মতো গুছানো একটা মা খুঁজে পাই না। মা হচ্ছেন আমার কাছে রেফারেন্স বুকের মতো। গুগলে সার্চ দিলে আমরা যেমন সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে যাই, মা-ও তেমন। ছোটবেলায় মায়ের কাছে প্রায়ই আমাদের পাঁচ পুরুষের গল্প শুনতাম। তখন তার স্মৃতি আর স্মরণশক্তি দেখে আমি বিস্মিত হতাম। আমাদের বংশলতার সব নারী-পুরুষের নাম তিনি মুখস্থ বলে যান! মা না থাকলে আমাদের প্রায় দুই শত বছরের পারিবারিক ইতিহাস অন্ধকারে হারিয়ে যেত। স্রোতের বিপরীতের যাত্রী আমি। মা এখনো আমার এই সংগ্রামী জীবনের সহযাত্রী। আমি খুব কম বয়সে লেখালেখি শুরু করার কারণে নানা দুর্ভোগে পড়েছেন মা। ছেলে অচেনা পথ বেছে নিলে মাকে নানা রকম মন্দ কথা শুনতে হয়। আমাকে নিয়ে আমার মায়ের যতটা না দুশ্চিন্তা ছিল, তার চেয়ে ছিল পাশের বাড়ির মানুষের। আমাদের এক আত্মীয় একদিন মাকে বললেন, তোমার ছেলেটা কী করে? মা বললেন, ছবি তোলে। উনি বললেন, ছেলেটা তো খুবই ভলো ছিল, নষ্ট হলো কীভাবে? মায়ের কাছে এর উত্তরও ছিল। ইচ্ছে করেই সেদিন হয়তো জবাব দেননি। এমন অনেক কিছুই মুখ বুজে সহ্য করেছেন মা। আমার মা খুবই ধৈর্যশীল। প্রতিকূল অবস্থায়ও তিনি রাগ করে কথা বলেন না। আত্মীয়স্বজনের মাঝে আমার মায়ের সুনাম আছে। কারো বুদ্ধি-পরামর্শের দরকার হলে মায়ের কাছে আসেন। আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এসে কেউ কিছু না খেয়ে ফিরে গেছেন, এমন নজির নেই। মানুষকে আপ্যায়ন করা আমাদের বাড়ির রেওয়াজ। এই গুণগুলো আমি আমার চাচিদের মধ্যেও দেখেছি। আমার দাদারা তিন ভাই। তাদের ছয় ছেলে। ছয় ছেলের ছয় বউ। এই ছয় বউয়ের মধ্যে আমি কখনো কথা-কাটাকাটি কিংবা ঝগড়া হতে দেখিনি। এক ছেলে বলে না চাইতেই আমি অনেক কিছু পেয়েছি। অগোছালো স্বভাবের ছিলাম বরাবরই। আমার এলোমেলো স্বভাবটা এখনো রয়ে গেছে। দরকারি সময়ে যখন কিছু খুঁজে পাই না, তখন মায়ের প্রয়োজনীয়তা খুব অনুভব করি। ফোন করে মায়ের খোঁজখবর নিই। ফোন ধরেই মা সবার আগে প্রিয়-পূর্ণর খবর জানতে চান। তারপর আমার। নাতনিদের কাছে থাকতে পারেন না বলে মন খারাপ করে থাকেন। আমি সংবাদচিত্রী। সারাক্ষণ আমার কাঁধে থাকে ক্যামেরা। কত কত মানুষের সঙ্গে আমার ছবি। অথচ মায়ের সঙ্গে আমার আলাদা কোনো ছবি নেই। আমার ব্যস্ত জীবন। ইচ্ছেমতো কোথাও যাওয়ার সুযোগ কম। ছবি ও সংবাদ যখন যেখানে নিয়ে যায়। তবু আমার স্ত্রী আর দুই মেয়েকে নিয়ে যখনই বাড়ি যাই, মায়ের আনন্দ তখন দেখে কে! ফেরার বেলায় বিদায় জানাতে গিয়ে মা আর কান্না ধরে রাখতে পারেন না। আন্তর্জাতিক মা দিবসে সব মায়ের জন্য শুভ কামনা। নজরুল হাসান : আমার "মা" যে বেঁচে থাকতে শুধু আমাদের কথাই ভাবতেন। পৃথিবীর সকল "মা"কে আমার বিনম্র সালাম ও শ্রদ্ধা। তোমরা শুধুই আমাদের জন্য নিজের জন্য নও। আল মামুন : মানুষ হিসেবে আমি সবসময় ই একটু ট্রেডিশনাল। হিন্দি সিনেমা স্টাইলে মাকে জড়িয়ে ধরে কখনো "আই লাভ ইউ মাম" বলা হয়নি, গ্রামীন ফোনের বিজ্ঞাপনের মত আহ্লাদী কন্ঠে "সরি মা" কথাটাও বলিনি কখনো। এমন কি মা দিবস উপলক্ষে তাকে কোন দিন দুই টাকা মুল্যের কার্ডও উপহার দেইনি কোন দিন। তবু জানি আমার অকৃতজ্ঞতায় সে কখনো রাগ করবে না। সপ্তাহে আমি ফোন না দিলেও ফোন করে বিরক্ত করবে। শরীর কেমন আছে, পড়াশুনা ঠিকঠাক আছে কিনা, কি খেয়েছি এই সব সহস্রবার জানতে চাওয়া প্রশ্নে করবে। তাকে ভালবাসার কথা মুখ ফুটে বলার প্রয়োজন মনে করিনি কখনো। তাই আমি জানি মা কে ভালবাসতে আমার কোন দিবস লাগে না। রহীমা আক্তার মৌ : সাভার যাচ্ছি মায়ের সাথে দেখা করতে।দেখা করেই আবার ফিরে আসবো মা মা মা। আমার মা ছাড়া আমি কাউকে মা ডাকি না। মাঝে মাঝে মেয়েদের কে মা ডাকি। মা কে কল করতে দেরি হলে মা কল করে বলে, " নতুন মায়েদের পেয়ে আমায় ভুলে গেলি"? আমি হাসি। মা,মা,মা। মা আমার মা, আমার প্রিয় বন্ধু। সততা দেখে মা চেয়েছিল পুলিশ হয়,পারিনি।মা চেয়েছিল উকিল হই,তা ও পারিনি,এই জীবনে সেই সততাকে সম্বল করে হাতে কলম নিয়েছি। কি করবো মা,আমি তোমার অভাগা সন্তান, খুশি মনে এটাই যে মা আমায় নিয়ে গর্ব করে।আদর করে মনা বলে ডাকে। পৃথিবীর সব মাকে জানাই আমার সালাম। রোকেয়া খাতুন রুবী : আম্মা আমার চিরকালের..................। ছন্দা মামুন : কাল রাতে আমার মনটা খুব খারাপ ছিলো। কিন্তু আজ সকালে আমার ছোট্ট মা আমার মসটা ভরিয়ে দিলো। ওর বয়স দুই বছর এক মাস। আজ আমি আমার মেয়ের মুখে প্রথম শুনলাম, হ্যাপি মাদার্স ডে মামনি’।কি যে ভালো লাগছে বুঝাতে পারবো না। এটা বুঝি মায়েদের জীবনের বড় পাওনা। ধন্যবাদ মা। আজ তোমার জন্য আমিও মা। জগলুল হায়দার : মায়ের জন্যে সন্তানের ভালোবাসা প্রতিদিন। তারপরও এইসব দিবসে ( এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিতর্ক সত্তেও) আমরা একটু আলাদাভাবে স্মরণ করি মায়েদের।গত দুই মা দিবসে দুইজন মায়ের (আমার মেজু আপা আর বড়াপা) কথা বলছিলাম। এইবার একসাথেই বলতেছি আরো দুইজন মায়ের কথা। ছবিতে প্রথম যে মা, তিনি আমার আম্মা। আমাগো ৮ ভাইবোনের জননী। এখন বয়স ৭২। প্রায় অসুস্থ থাকেন। তারপরও আমগো জন্য তার উদ্বেগ উৎকণ্ঠা সেই আগের মতই। ১৯৯১ সালে আব্বা মারা যাওয়ার পর থিকা বাবা-মার যুগল স্নেহে আগলাইয়া রাখছেন আমগো। এমনকি এই সন্তানদের সন্তানও এখন ১৯ জন। দ্বিতীয় ছবিতে যে মা, তিনি আমার শাশুরি। তিনি ১৩ সন্তানের জননী। এখন বয়স ৮২। প্রায় অসুস্থ থাকেন। সম্ভবত ১৯৮৩ সালে আমার শশুর মারা যাবার পর থিকা তিনিও পরম মমতায় আগলাইয়া রাখছেন তার সন্তানদের। যে সন্তাদের সন্তানের সংখ্যাও ৩৪ জন। গত ১৬ এপ্রিল তাঁর প্রচণ্ড অসুস্থতার খবর পাই। মায়ের অসুস্থতার এমন খবরে মেয়ের মন কেমন হইতে পারে সহজেই অনুমেয়। অতঃপর খুব টেনশন নিয়া আম্মারে বোনের কাছে রাইখা ১৭ এপ্রিল সপরিবারে তাঁকে দেখতে যাই ভৈরব। একদিন পর তাঁকে খানিক সুস্থ রেখে আবার সবাই চইলা আসি। চইলা আসি ঢাকায় আম্মার জন্য। বন্ধুরা এই দুইজন অসুস্থ বৃদ্ধ মায়ের জন্য সবার দোয়া চাই আজ। এজেড মুসা : যে স্মৃতি ধূসর নয় ; মা আমার অস্তিত্বে প্রতি দিবসে । মায়ের স্মৃতি উজ্জ্বল আমার কাছে শুধুমাত্র কোন দিবসে নয়, অহর্নিশি । চৈত্রের খড় দুপুরে, বৈশাখী ঝড়ে, মধুমাসে, আষাঢ়ের তুমুল বৃষ্টিতে, শ্রাবণের অঝোর ধারায়, হেমন্তের কাশবনে, হাঁড়কাঁপানো শীতে, হ্রদয়ের রক্তক্ষরণে; বাঁধনহারা উল্লাসে । কত ভালবাসি- মা কে নিয়ে কামিনী রায়ের কবিতা । 'মাকে নিয়ে কবিতাজড়ায়ে মায়ের গলা শিশু কহে আসি,- “ মা , তোমারে কত ভালোবাসি!” “কত ভালবাস ধন?” জননী শুধায়। “এ-ত।” বলি দুই হাত প্রসারি’ দেখায়। “তুমি মা আমারে ভালবাস কতখানি?” মা বলেন “মাপ তার আমি নাহি জানি।” “তবু কতখানি, বল।” “যতখানি ধরে তোমার মায়ের বুকে।” “নহে তার পরে?” “তার বড়ো ভালবাসা পারি না বাসিতে।” “আমি পারি।” বলে শিশু হাসিতে হাসিতে! '' প্রীতু শরমিন : তুমি আমাকে দার্জিলিং এর গল্প বলতে। পাহাড় কেটে সাহেবদের বানানো রাস্তা, আর সেই রাস্তায় তোমার শৈশব। তোমার গল্পে, আমি কেবলই তোমার সেই শৈশবে হারিয়ে যেতাম। তুমি আমাকে ওদেশ থেকে এদেশে আসার গল্প বলতে, মানুষ আর দেশ ভেঙ্গে দু’খান হয়ে যাবার বেদনা, আর কাঁটাতারের এপার-ওপার। আমি ভাবতাম এদেশ-ওদেশ আবার কি? তুমি খুব অল্পতেই রেগে যেতে। আমি তোমাকে প্রচন্ড ভয় পেতাম। আমার অভিমান হত খুব। তোমার শরীরে গা ঠেকিয়ে শেষ কবে ঘুমিয়েছি বা তোমাকে শেষ কবে জড়িয়ে ধরেছি মনে করতে পারি না। তবে দিব্যি মনে করতে পারি আমার ফেব্রুয়ারির শৈশবগুলো। তুমি আমাকে ব্ইমেলা নিয়ে যেতে। মেলা জুড়ে আমি বই কিনতাম, আর তুমি আমাকে এতটুকুও বাধা দিতে না। ইচ্ছে স্বাধীন বই কিনতাম সেদিন। আমি বই পড়তে ভালবাসতাম, আমি তোমাকেও ভালবাসতাম মা। আর তাই কোডাই’র পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে, অন্য কারও নয়, আমার শুধু তোমার কথাই মনে পড়েছিল। নেটওয়ার্কের বাইরে চলে যাবার ঠিক আগে সব অভিমান ভেঙ্গে, শেষ ক্রেডিটটুকু দিয়ে আমি শুধু তোমাকেই ফোন করেছিলাম, বলেছিলাম- ‘মা, তুমি ঠিক বলেছিলে, পাহাড় খুব, খুউব সুন্দর। যত উপরে যাচ্ছি শুধু গাছ আর কুয়াশায় হারিয়ে যাচ্ছি। ’ তুমি ধরা গলায় বলেছিলে- ‘আমি জানি আমার দেখা দার্জিলিং এর থেকে তোর কোডাই অনেক বেশি সুন্দর’ ফোন কেটে গিয়েছিল ... সেদিন বলা হয়নি। আজ বলি- তোমার দেখা শৈশবের পাহাড় পৃথিবীর সব থেকে সুন্দর মা। সে পাহাড়ে আমি কখনই পৌছাতে পারব না। সে দু:সাহসও আমার নেই। আনোয়ার কামাল : আজ মা দিবস। আমার মা আমাদের গ্রামের এই বাড়িতেই থাকেন। তার ছেলে মেয়ের মধ্যে আমি সবার বড়। মা আপনি শতায়ু হোন। মাকে নিয়ে আমার কবিতা : মা আনোয়ার কামাল এই সেদিন তোমায় ছুঁয়ে এলাম তবু মনে হয় যেন জনম জনম ধরে তোমায় দেখি না তোমার আঁচল আমার মুখের মলিনতা মুছে দেয় তোমার মুখের হাসি আমার সব বেদনা শ্রাবণের বর্ষণের জলের ধারার মতো ধুয়ে নিয়ে যায়। এই সেদিন হঠাৎ করে তোমায় ফেলে এসে পেটের দায়ে ইট-পাথরের এই নগরে ঠাঁই নিলাম সেদিন চলে আসার সময় তোমার মুখের দিকে আমি তাকাতে পারিনি, চোখে চোখ রাখতে পারিনি সেদিন সারা পথ আমি পেছন ফিরে তাকিয়ে শুধু তোমারই মুখচ্ছবি দেখেছি আর চোখের পাতা ভিজে নরম হয়েছে কেবলই। আমার প্রতিটি মুহূর্ত কাটে তোমার স্নেহের মমতায় প্রতিটি সময় আমি জ্বলে উঠি তোমার শুভ কামনায়। মোজ্জাফর হোসেন : আজ স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, মায়ের প্রতি অনেক অবহেলা করেছি। তাঁর কষ্টকে কখনই বুঝতে চাইনি। ভেবেছি, মা-তো এসব করবেই! এখন আামার ছেলেকে তার মায়ের তিল তিল করে বড় করা দেখছি আর প্রতিমুহূর্তে একজন মায়ের কষ্ট ও ত্যাগের মাত্রাটা অনুভব করছি। আজ মা দিবসে আমার ছেলের পক্ষ থেকে তার মায়ের প্রতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা রইল। আর নিজের বায়বীয় মাকে উদ্দেশ্য করে শুধু এটুকুই বলবো, মা আমাকে ক্ষমা করো। আর জন্মে যেন তোমাকে বুঝতে পারি। প্রভাষ আমিন : সবচেয়ে শান্তির জায়গা মায়ের কোল, সবচেয়ে নির্ভরতার নাম মা। মায়ের ভালোবাসাই শুধু নিঃস্বার্থ। মা দিবসের ধারণাটি আমার কাছে খারাপ লাগে না। বছরে একদিন মাকে নিয়ে স্পেশাল, মন্দ নয়। তবে শুধু একদিনেই যেন মায়ের প্রতি আবেগ-ভালোবাসা-দায়িত্ব শেষ হয়ে না যায়। আমি যে আমার মাকে অনেক ভালোবাসি, তা কখনো বলিনি লজ্জায়। তবুও ভালোবাসি, পৃথিবীর সকল মায়ের জন্য ভালোবাসা। সেলিম আশরাফ : মাকে নিয়ে লিখতে যাওয়া আমার আমার জন্য দুঃসাহসিক কাজ,,, তাই শুধু এতটুকুই বলব মাগো তোমার ঋণ আমার জিবন বিসর্জন দিয়ে ও শোধ হবে না, তুমি ভাল থেকো আমার অবুঝ "মা"। অ্যালেক্স আলীম : ছোট্ট পাখির ছানাটি বাসা থেকে নিচে পড়ে গেছে।মা দিবসে নিজের সন্তানকে বাঁচানোর আকুতি মা পাখিটির।কিছুক্ষণ আগে আমার ক্যামেরায় ছবিতে বন্দী করলাম মা আর ছানা পাখিকে।মা দিবসে এক অপূর্ব দৃশ্য কাছ থেকে দেখা হলো সরকারী সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে। জাফর সিদ্দীকী : বাবাকে হারিয়েছি ১৯৯২ সালে ; যখন আমি ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে। এর পর থেকে আজ অবধি আমার স্নেহময়ী মা মাথার উপর ছায়া হয়ে আছেন। আল্লাহ যেন তাকে দীর্ঘজীবি করেন...... রিনভী শারমিন : মা…………………তুমি কি আমার কান্না দেখতে পাও…আমার ডাক শুনতে পাও…মা আমি ভালোবাসি তোমাকে। সৈয়দা ফারজানা আহমেদ সোমা : পৃথিবীর সকল মা কে জানাই সালাম। আমার 'মা' আমার পৃথিবী। আহমেদ আল আমিন : ...অনেক কর্পোরেট দিবসের মত মা এর জন্য আলাদা দিবস আমি পালন করি না.. আমার কাছে প্রতি টা দিনই মা আর বাবা দিবস.. এই ছায়া আছে বলেই এখনো আছি .. আর সবার কাছেই নিজের মা অনেক বড় সম্পদ.. আর ওই সম্পদের জন্য থাকে অন্য রকম টান.. নিজ মা এর পাশা পাশি অন্যের মা কে সন্মান করে কথা বলি, বোঝার চেষ্টা করি... এই বোধ ই কর্পোরেট ভাবনার জায়গায় মানবিক বোধ আনবে....। রহমান বাশার : আজ বিশ্ব মা দিবস। বিশ্বের সকল মায়ের প্রতি রইলো আমার ভালবাসা আর শ্রদ্ধাঞ্জলি। এনামুল হক : বাবা-মার কাছে খোলা চিঠি.. প্রিয় বাবা মা, কেমন আছ তোমরা। আশাকরি আল্লাহর রহমতে বেশ ভালই আছ তোমরা। আমরা তোমার সন্তানরা দোয়া করি তোমরা ভাল থেক। আমাদের ছোট বেলা যেমন রেখেছিলে সযত্নে আগলে তোমরা ঠিক আল্লাহ যেন তোমাদের সেই রুপ রাখে। কিন্তু একটি বারও কি ভেবেছিলে তোমাদের রেখে যাওয়া সম্পদগুলোই হবে কাল তোমার সন্তানদের জন্য.হায়রে সম্পদ তোমরা কতনা কষ্ট করে অর্জন করে রেখে গেলে সন্তানরা ভাল থাকবে। কিন্তু হায় একি নিয়তির পরিহাস ভাল কি আছে সম্পদ নিয়ে তারা নেই কেউ ভাল নেই.. সন্তানে সন্তানে হানা হানি ঝগড়া বিবাদ , মনমালিন্য, কেউ হয়ত ভাল সান শওকতে আছে কেউ আছে একটু কষ্টে এই তাদের হাল্। তারাও আজ বাবা মা হয়েছে। আমরা প্রস্তুত তোমাদের কাছে যাওয়ার জন্য। তোমাদের কোলে মাথা রেখে কত দিন ঘুমাইনি, তোমরা কত দিন কত রাত্রী হলো মাথায় হাত বুলিয়ে দাওনি.. তাই আমাদের ও ইচ্ছে হয় তোমাদের কাছে চলে আসতে... প্রস্তুত থেক তোমরা আসছি আমরা.. তোমরা যেখানেই যাও আমরা তোমাদের পিছু ছাড়বনা মা/বাবা। লিখতে লিখতে হাত ব্যাথা হয়ে আসছে.. ফিরিস্তি লিখে শেষ হবেনা..তোমরা আমাদের একটু ঠাই দিও তোমাদের পাশে.. ঘুমাবার.....শান্তিতে.. ইতি.. আজ এখানেই তোমাদের বড় ছেলে....। রকিব রাহিন রাজিব : বিয়ের দুমাসের মাথ্য আমার প্রাক্তন স্ত্রী আমাকে তার ও আপ্নার মধ্য থেকে যেকোন একজন কে বেছে নিতে বলেছিল। আমি আপনাকে বেছে নিয়েছি।আমি কি ভুল করেছিলাম? মনে হয় না। মা আপ্নার জন্য আমি এর থেকে বেশি কিছু করতে পারিনি। আপ্নাকে কোনো দিন বলা হয়নি,আপ্নাকে আমি খুব ভালবাসি। আজ বললাম। রজিনা ইসলাম : পৃথিবীর একপাশে মাকে রেখে অন্য পাশেও, মাকে রাখি পৃথিবীর সব কথা ভুলে গিয়ে ব্যাকুল প্রাণে, মাকে ডাকি জীবনের সবখানে, সব গানে মাকে ছাড়া, জীবনের নিলামে মা হীন এলোমেলেও হৃদয়ে, আর কোনও ঠিকানা কেউ কি জানে? ও…ও…হো……মা। সাইফুল আজম মিয়াজী : অভিমানে মা অনেক দিন হলো চলে গিযেছো বহুদুরে নিল আকাশ ভেঙ্গে চলে এসো মা তোমায যে দেখতে বড ইচ্ছে করে আলো জ্বেলে চলে গিযে আধারে ফেলে দুরে থাকতে পারো না মা নিস্বার্থ তোমার ভালোবাসা ডাকি মা সন্তানের কষ্টে বুকে ধরে দিযে রাখো পরশে শিতল ঝর্নাধারা তোমার তুলনা মা ধরনিতে বিধাতা কোন কিছুতে সমান করে না শুধু কাদে মন ফিরে এসো ভুলে অভিমানের সব পথ, চোখের আড়াল হতে দেবো বড ইচ্ছে করছে দেখতে মা আমি যে তোমায অনেক দিন ধরে দেখি না মধুর সুরো মুখ ভরে মা.....ডাকতে পারি না ও মা ফিরে এসো ডাকতে আদরের সোনা । আতাউর রহমান : ১৪ বছর ধরে ঢাকায়। এখনো বাড়ি গিয়ে আবার ঢাকায় ফেরার পথে একটা মানুষ পিছু নেন। হাঁটাতে হাঁটতে মূল রাস্তা পর্যন্ত আসেন। ১৪ বছর পরও লুকিয়ে চোখের পানি মুছেন। বিদায় দিয়ে শত পা এগিয়ে যাওয়ার পরও দেখি আমার পিছুপানে তাকিয়ে তিনি। প্রবাসী ভাইবোনদের ফোনেও নাকি বিশেষ একটা শব্দ করেন তিনি। ডুকরে কান্নার শব্দ। এতোকিছু যিনি করেন তিনি আমার মা। আমাদের চার ভাইবোনের মমতাময়ী মা। বিশেষ দিনে নয়, সব দিনেই অনেক অনেক ভালোবাসি মা তোমায়। নাইস নূর : আম্মু, তোমার হাসি-খুশি মুখটা আমার অনেক প্রিয়...আমার মনে হয় না কখনও তোমাকে নিয়ে ভালোকিছু লিখতে পারবো। কারণ লিখতে শুরু করলে কোন কিছু গুছিয়ে লিখতে পারবো না। নাইস প্রবীর গোস্বামী বাবু : আমার মা--আমার পৃথিবী। তোমার জন্য কিছুই করতে পারছি না।আজ তোমার প্রেরণায় আমি বেঁচে আছি মা। তাওনি তৃপ্তি : মাকে ভালোবাসার-শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বিশেষ কোন দিবসের প্রয়োজন নেই। মা সবসময় আমাদের সাথে আছেন। বিশেষত অসুস্থ হলে, মন খারাপ হলে, কষ্ট পেলে সবার আগে তোমাকেই মনে পড়ে...। শুভ্র খান : আমার মা।আজ মা দিবস।মা দিবসে তোমাকে জানাই সহস্র কোটি সালাম।আর আললাহর কাছে প্রার্থনা করি উনি যেন তোমায় হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখে।কত ভালোবাসা,কত আত্মত্যাগ,কত যন্ত্রনা সহ্য,কত চিনতা ভাবনা কর সনতানদের জন্য।বিপরীতে সনতান হিসেবে কিছুই দিতে পারিনি তোমায়,জানি তোমার ঋণ কখনো শোধ করার সামর্থ্য আমার নেই। শুধু মহান আললাহ্ তায়ালার কাছে এই দোয়াই করি,রাবিবর হামহুমা কামা রাববা ইয়ানি ছাগিরা।আললাহ্ তোমায় ভালো রাখুক সুস্থ রাখুক এই কামনা করি। হে আললাহ তুমি আমাকে মা+বাবার প্রতি কতর্ব্য পালন করার তৌফিক দাও। আমি যেন তাদের সেবা যত্ন করতে পারি। ইতি, তোমার হতভাগা সন্তান। বিশ্বজিত চৌধুরী: আমার দীর্ঘদেহী বাবার পাশে আমার ছোটখাটো মা-কে মনে হতো বেমানান। বাবা মেজাজি মানুষ, সে তুলনায় মা স্বল্পভাষী, নিম্নকণ্ঠ। সবার ধারণা ছিল বাবার দাপটের কাছে এই মহিলা বোধহয় নিতান্তই অসহায়। কিন্তু পারিবারিক সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বাবার হাঁকডাকের পর ছোটখাটো সুন্দরী মহিলাটি নিম্নস্বরে যা বলতো, সেটাই ছিল চূড়ান্ত। বাবাকে দেখেছি সেটাই মেনে নিয়েছে অনায়াসে। এমনই ব্যক্তিত্ব আমার মা-র। আশি পেরিয়ে এখনো আছেন আমাদের সাথে। মা দিবসে আলাদা করে তাঁর প্রতি কীইবা বলার আছে আমার? নুরুর রহমান: জানি এ লেখা তুমি কোন দিনই পড়বেনা। তোমার ফেইজবুক নেই। ফেইজবুকটা কি সেটাও তুমি জানানোনা। তবুও তোমার জন্যে ফেইজবুকে লেখা। মা তুমি কেমন আছো? এখন আর চিঠি লেখার যুগ নেই। মোবাইল ফোন কথা হয় মাঝে-মাঝে। তুমি অনেক কথা বলো। অনেক অনুযোগ। অনেক কষ্ট। মনোযোগ দিয়ে শোনা হযনা। জীবন-যাপনের ইদুর দেৌড়ে এমনই ব্যস্ত মা-র কথাও শোনার সময়টুকুও হয়না। কিন্ত তুমি তোমার সারাটা জীবন দিয়ে আমাদের বড় করেছে। ভালোবেসেছে। এর প্রতিদান কি দেওয়া সম্ভব। তুমিও চাওনা প্রতিদান। শুধু চাও তোমাকে একটু সময় দেওয়া, মা বলে ডাকা। সেটাও হয়ে ওঠেনা। তবু মাগো তুমি আমার আগে চলে যেওনা। রিমঝিম আহমেদ : মাত্র আট বছর বয়সে মাকে হারিয়েছি। মায়ের মুখচ্ছবি কেমন হয় তাও মনে করতে পারি না। মায়ের কোন ছবিও নেই। শুধু মনে হয় মা থাকলে জীবনটা বোধ হয় অন্যরকম হতে পারতো, না পাওয়া বলে হয়তো কিছু অবশিষ্ট থাকতো না । জীবনের ভাঁজে ভাঁজে যে বিষাদগুলো সাজানো আছে মা থাকলে হয়তো সবটা নিংড়ে দিয়ে মায়ের আঁচলে একটু মুখ ঢাকতাম, একটুখানি শরীরের ঘ্রাণ নিয়ে আয়ুষ্মান হতাম--মা নেই। জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সময়টায় মাকে পাইনি, সহজ সমীকরণ কঠিন মনে হয়েছে সবসময়। দিনদিন দুরারোগ্য এক অসুখ বয়ে বেড়িয়েছি, যার নাম 'বিষন্নতা' । আজ আমি মা। সন্তানকে কেমন ভালোবাসতে হয় শিখিনি। বুঝতে পারি না সন্তানের চাওয়া-পাওয়াগুলোকে। জীবনের অসম্পূর্ণ অধ্যায় অসম্পূর্ণ-ই রয়ে গেছে। তবে কামনা করি- পৃথিবীর সব সীমান্তরেখা মুছে দিয়ে, সব ভাষা ও প্রকাশভঙিকে হারিয়ে দিয়ে মা ও সন্তানের অকৃত্রিম ভালবাসা জয় লাভ করুক। জয় হোক মায়ের মমতার— মনোয়ার সাগর : ‘মা' – ছোট্ট একটা শব্দ, কিন্তু কি বিশাল তার পরিধি! সৃষ্টির সেই আদিলগ্ন থেকে মধুর এই শব্দটা শুধু মমতার নয়, ক্ষমতারও যেন সর্বোচ্চ আধার৷ মার অনুগ্রহ ছাড়া কোনো প্রাণীরই প্রাণ ধারণ করা সম্ভব নয়৷ তিনি আমাদের গর্ভধারিনী, জননী৷ 'মধুর আমার মায়ের হাসি চাঁদের মুখে ঝরে/ মাকে মনে পড়ে আমার মাকে মনে পড়ে/... সেই যে আমার মা/ বিশ্বভুবন মাঝে যে তার নেইকো তুলনা/...প্রদীপ হয়ে মোর শিয়রে কে জেগে রয় দুঃখের রাতে/ সেই যে আমার মা.../ বিশ্বভুবন মাঝে যে তার নেইকো তুলনা...'। হ্যাঁ....'মা' সে তো অনন্ত বিশ্বস্ততার জায়গা। মার কোনো তুলনা হয় না। মার তুলনা 'মা' নিজেই। পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর শব্দ 'মা'। সবচেয়ে ভালোবাসার শব্দ 'মা'। বড় আশ্রয়ের জায়গা 'মা'। তাঁর স্নেহধারায় স্নাত হয়ে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যায় সন্তান। মায়ের আশীর্বাদই সন্তানকে কঠিন পথ পাড়ি দিতে সাহায্য করে। মা শাশ্বত, চিরন্তন। ছবিঃ ১) আমার মা, ২) আমার মা ও কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন (আমাদের গ্রামের বাড়ীতে) সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু : আমার মা। কুড়ি বছর আগের এক বিকেলে আমার দিকে তাকিয়ে,আমি তাঁর মুখে ছোট্ট চামচ দিয়ে পানি তুলে দিচ্ছি,অর্ধেক মুখে নিলেন,বাকিটুকু ঠোঁট বেয়ে গড়িয়ে পড়লো । মা চলে গেলেন,আর ফিরলেন না । মাকে নিয়ে মিথ্যে বলতে নেই। মা তোমাকে বহুদিন স্বপ্নে দেখিনা,ভুলেই থাকি,বড় হয়েছি না ! মা ! তুমি তো জান না,দিন বদলেছে,এখন বড় হলে ভুলে যেতে হয় ! বছর জুড়ে ভুলেই থাকতাম মা। পারি না পৃথিবীটা যখন রুক্ষ-রুষ্ঠ,ঘোরকৃষ্ণ হয়ে আসে,অন্তরাত্মা যখন একটি মমতার আঁচল খুঁজে মরে,মা কেবল তখনই তোমাকে মনে পড়ে। ভাল থেকো মা। আমরা ভাল আছি। [ দয়া করে মা দিবস নিয়ে এখানে কোন তিক্ত মন্তব্য না। দিনটি আছে বলে এই মধ্যরাতে মাকে মনে পড়লো,চোখ গড়িয়ে নামলো দুফোঁটা অশ্রু। এই অশ্রু মা দিবসে মাকে আমার অর্ঘ্য।] আবিদ আজম : মা, তোমাকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসি।মাগো,প্রতিটি দিন তোমার জন্য, প্রতিটি মূহুর্তও।তোমার উপলক্ষ্যে পৃথিবীর সব মা'কে অপরিসীম শ্রদ্ধা ও ভালবাসা............. আজাহার উদ্দিন : ও মা, আমি তো তোমাকে রোজই ভালোবাসি। সেই ভ্রুন অবস্থা থেকে নিত্য তোমাকে ভালোবেসে আসছি। ভালো আমাকে বাসতে হয় না--বাসায় আমার রক্ত-মজ্জায় আর তোমার বত্রিশ নাড়ির বন্ধন। তাই তুমি বিরাজিত অনুক্ষণ, আমার অন্তর-অস্তিত্বজুড়ে। আজ আবার তোমাকে ভালোবাসার এক বিশেষ দিন। শুধু তোমাকে নয়, গোটা বিশ্বজুড়ে যত মা আছেন---সব মা’কে আজ বিশেষ ভালোবাসার দিন। তাই আজ বিশ্ব মা দিবস। কোনো সন্তান যদি তার মা’কে কোনোভাবে বা কোনো কারণে ভুলে গিয়ে থাকে, তাই হয়তো সেই সন্তানকে মনে করিয়ে দেয়ার জন্য এই দিবসের প্রচলন করেছেন কেউ। এ ছাড়া মা হচ্ছে নিত্য ভালোবাসার, নিরন্তর ভালোবাসার ধন। ভালো থাকো মা, তুমি আমরণ ভালো থাকো। ভালোবাসি জগতের সব মা’কে, সব মানুষকে। মাহবুবু হাসান : অল্প শিক্ষিত মানুষ আমার মা। ক্লাস এইটে থাকতেই বিয়ে হয়েছে, তারপর সারাজীবন সংসারের ঘানি টানতেই জীবন কেটেছে। মা দিবস কি জিনিস মা জানে না, এমনকি মা দিবস নামে একটা দিন আছে তাও উনি জানেন না। কাকতলীয় কিনা জানিনা আজ ঘুম ভাঙ্গলো মার ফোনে। ভালো থেকো মা, আমার 'দুখিনি মা'। শামীম আল আমীন : মাকেই বেশি ভালোবাসিস ইবু... ভালোবাসাও কখনো কখনো তীব্র প্রতিযোগিতার হয়ে দাঁড়াতে পারে। কে কাকে বেশি ভালোবাসে! এই যে আমাদের ইবু, কাকে বেশি ভালোবাসে, মাকে, নাকি বাবাকে? জানি, এমন প্রশ্ন অবান্তর, অনুচিত। ইবু দু'জনকেই ভালোবাসে। এরপরও বলবো ইবু যেন মা'কেই বেশি ভালোবাসে। এই যে ইবু সুন্দরভাবে বেড়ে উঠছে, এই বয়সেই অনেকটা দায়িত্বশীল হয়ে উঠেছে, অসাধারণ বাচনভঙ্গিতে কথা বলছে, সুন্দর মনের নিরহংকার মানুষ হচ্ছে...এসব কিছুর পেছণের কারিগর কেবল ইবু'র মা। দেশ বিদেশে ঘুরতে ঘুরতে আর রাত জেগে কথার শো করতে গিয়ে আমি আর সময় দিলাম কই। সৃষ্টিকর্তার কাছে আমার প্রার্থণা, শেষ পর্যন্ত যেন আমার ইবু এভাবেই বেড়ে ওঠে। আর এই কৃতিত্ব আমি সবসময়ই দেব কেবলই ইবু'র মা'কে।... রাজীব হাসান : টানা কয়েক বছর মা ঢাকায় থাকে। তাঁকে আমি চোখের আড়াল হতে দিতে চাই না। কিন্তু মা তাঁর চিরচেনা জগতকেই বেশি ভালবাসে। প্রায় বলে আমাকে কারাগারে রেখে দিয়েছিস। ঢাকায় থাকায় কত মানুষের সঙ্গে দেখা হয় না। মা বলে, আমি রাজবাড়ী যাবো, ঢালারচর যাবো। হাওয়া হাওয়ায় ঘুরে বেড়াবো। মা যখন তাঁর দুটি হাত আমার মুখে মাখিয়ে দেয় আমার তপ্ত মুখটি শীতল হয়ে ওঠে। প্রায় এক মাস হয়ে এলো মা রাজবাড়ীতে আছে। আমার ছোটভাগ্নে বিদেশ থেকে ফেরায় ও জানাল নানিকে সঙ্গে নিয়ে রাজবাড়ী যাবো। আমি সম্মতি দিলাম। যাওয়ার পর থেকে প্রতিদিন ফোন করি। চিৎকার করে মা মা বলে ডেকে উঠি। মা শান্তভাবে বলে, আমি আসবো নে। চিন্তা করো না। মাকে প্রতিদিন রাতে শুধু ওসাটিন ফিফটি প্লাস খেতে হয়। কয়েক বছর পারিবারিক কিছু ঝামেলায় পড়ে মা আর আমি ঢাকা-রাজবাড়ী করেছি বহুবার। সকালে ঢাকা থেকে রাজবাড়ী গিয়েছি সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছি। একবার দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ফেরিতে উঠতে গিয়ে আমি প্রায় পানিতে পড়ে যাচ্ছিলাম। মাকে আগেই ফেরিতে তুলেছি। ফেরির মধ্যে ঢাকাগামী কোনো বাস পেলাম না। রাত প্রায় ৯টা। পাটুরিয়া ঘাটে ফেরি থামার পর নেমে পড়লাম আমরা। ওঠাৎ ঝড় উঠল। প্রচণ্ড ধুলো। মা আচল কোমড়ে পেচিয়ে আমার হাত শক্ত করে ধরে হাটতে লাগল। বাসস্ট্যান্ডে এসে আশ্রয় নিলাম খাবার হোটেলে। বৃষ্টি ও ঝড় থামল রাত পায় ১১টার দিকে। তখন উঠে পড়লাম পাটুরিয়া থেকে সরাসরি ঢাকাগামীবাসে। আমার মার নাম ফোরকান। মার জীবনী বেদনাদায়ক। মাকে জন্ম দিয়েই তাঁর মা মারা গেছে। আমার নানার নাম মোন্তাজ। মোন্তাজ ছিল তার বাবার একমাত্র সন্তান। কয়েক শো বিঘা জমি রেখে গিয়েছিল নানামহ। মোন্তাজের বাড়ি ছিল রাজবাড়ী জেলার মিজানপুর ইউনিয়নে। এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইউনিয়ন। নানা ছিল অত্যান্ত সুপুরুষ। তাঁর অঞ্চলে নট সেজে অভিনয় করতো। তবে এটা ছিল শৌখিনতা। তার সিন্দুকের ওপর হারমোনিয়ামটির চিত্রকল্প এখনো আমার চোখে ভাসে। মোন্তাজ দ্বিতীয় বিয়ে করেছিল। এ ঘরে একমাত্র মেয়ে। রাজবাড়ীর রাজার বাড়ী এলাকায় খালার বিয়ে হয়। খালা বেঁচে আছে। আমার মা অনেকটা মেয়ে বিদ্বেষী। কারণ কী আমি জানি না। তবে ধারনা করি- তাঁর একটি ভাই থাকলে তার পিতার বিশা্ল সম্পত্তি রক্ষা করতে পারতো। যা তারা দুই বোন বা তার স্বামীরা পারেনি। কবীর হুমায়ূন : আজ বিশ্ব 'মা' দিবস। আমার মা বেঁচে নেই তাই স্মৃতিকথাই সম্বল! আজ এই ক্ষণে আমার পুরনো একটা লেখাই আবার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করলাম : আমার পরিস্কার মনে পড়ে। আমি তখন ৮-১০ বছরের কিশোর। আব্বা আমাদের দুধ খাওয়ার অভ্যাস করার জন্য মফস্বল শহরের বাড়িতেই রাখাল রেখে ২ টা গাই গরু পালতেন। দুপুরে আব্বার সাথে ভাত খাওয়া ছিল আমার নিয়মিত কর্ম। কারন দুধের মোটা সর দিয়ে ভাত খাওয়ার লোভ ! আমি বাবা মায়ের ছোট সন্তান । তখন আমার ইমিডিয়েট বড় দুই বোনের বিয়ে হয় নাই, তারাও স্কুলে পড়ে । তো আমরা সবাই দুপুর একটা কি দেড়টার মধ্যে দুপুরের খাবার খেতাম । বাকী থাকতেন শুধু আমার আম্মা । উনি সারা জীবন ঘরের সবার কাজ শেষ করে ৪টার পর গোসল করতেন। কখনো কখনো ৫ টার দিকে দুপুরের খাবার খেতেন ( ওনার জীবদ্দশায় কোনদিন রাতে খাবার খেতে আমরা কেউ দেখিনি ) । দুপুরের খাবারের পর হয়তো বাইরে দু এক চক্কর এটা ওটা খেতাম বন্ধুদের সাথে । কিন্তু পৃথিবী যেই দিকেই ঘুরুক না কেন, আমি ঘুরে ফিরে আম্মার খাবার সময় ঠিক মতো তার কাছে হাজির ! অন্তত দু এক লোকমা আমাকে খেতেই হতো । জানি না এটা আমি কেন করতাম । আমার পেটে কোন ক্ষুধা থাকতো না , তবু খেতাম । আম্মা বলতেন, কিছুক্ষন আগেই তো খেয়েছিস- আবার কেন ? আমি বলতাম, আম্মা পেটের এই পাশে একটু জায়গা রেখেছিলাম, আপনার ভাত মাখা খাবার জন্য । বলা বাহুল্য, একই প্রশ্ন আর একই জবাব ছিল প্রতিদিনের নিয়ম মাফিক একটা ইসস্যু এবং মা ছেলের এই কারবার চলেছে আমার স্কুল জীবন শেষ করা অর্থাৎ ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত (কলেজে এসে আমি মায়ের কোল ত্যাগ করে অন্য শহরে পড়তে যাই)। আমি জানি না আমি এটা কেন করতাম । এর কোন ব্যাখ্যাও আমার কাছে নেই । এমনও হয়েছে যে মাত্র দু' লোকমা ভাত খাবার লোভে আমি খেলতে যেতেও দেরী করতাম যদি আম্মা আবার আগে ভাগে খেতে বসে এই চিন্তায় ! মায়ের হাতের ভাত মাখানো খাবার খাওয়া ১৯৭৮ সাল পর্যন্তই শেষ। তারপর আমি পড়ালেখার আর কর্ম জীবনে প্রবেশ করার পর খুলনা আর ঢাকাতেই সময় কেটেছে বেশি। ছুটিতে আমাদের মফস্বল শহরের বাসায় গেলেও বা আম্মা ঢাকাতে বেড়াতে আসলেও বা আব্বা মারা যাবার পর আম্মা আমার ঢাকার বাসায় স্থায়ী ভাবে বসবাস করা সত্তেও কেন যেন আর আম্মার হাতের ভাত মাখানো খাবার আমার আর খাওয়া হয়নি। সে জায়গা দখল করেচ্ছিল আমার স্ত্রী আর পুত্র । আম্মা মৃত্যু বরন করলেন ২০০৭ সালের ১৬ই অক্টোবর !! আমার ঢাকার বাসায়ই ওনার স্বাভাবিক মৃত্যু হয় । ৭টি বছর আমার মা'কে আমি দেখি না - কিন্তু তিনি এবং আমার পিতা বিরাজ করেন সর্বক্ষণ আমার চারপাশে ! আমি আমার গ্রামের বাড়িতে বাবা মা'কে শুইয়ে দিয়েছিলাম ! মাঝে মাঝে তাঁদেরকে ছুঁয়ে দেখতে আমি গ্রামে যাই নানা ছলছুতোয়ে ! কেউ জানে না - কোথায় শূন্যতা - কেমন এক অজানা ব্যাথা সারাক্ষন খোঁচাতে থাকে ! আম্মা, আমার পেটের এক কর্নারে এখন ক্ষুধা থাকে না - অনুভবও করি না । কিন্তু অন্তরের কোন কর্নারে যেন কি ব্যাথার সূরের কাঁটা কোথায় গেঁথে দিয়ে যায় অনুভব করি ! কিন্তু সে ব্যাথা নিরাময় করতে পারেনা- পৃথিবীর কোন চিকিৎসক! আপনি যেখানেই থাকুন - আপনি ভালো থাকুন! আমীন .........!!!!!! লুতফর নাহার লতা : শুভ মা দিবস আমার সকল বন্ধুকে! জগতের সকল মা তাঁর সন্তানকে বুকে নিয়ে আনন্দে বাঁচুক! এটুকু যেন কেউ কোনোদিন কেড়ে নিতে না পারে! আমানউল্লাহ আমান : " আমার মা আমার পৃথিবী "। মা দিবস। আমার সকল বন্ধুদের নিকট আমি আমার মায়ের জন্য দোয়া চাই। আমার মাকে আল্লাহ্ যেন সুস্থ রাখেন সবাই দোয়া করবেন। আমি পৃথিবীর সকল মা' র জন্য দোয়া করি যারা দুনিয়াতে আছেন তাদেরকে যেন সুস্থ রাখেন আর যারা পরলোকগমন করেছেন তাদের কে আল্লাহ্যেন জান্নাত দান করেন-- আমিন। মোহাম্মদ আবুল হোসেন : মা তুমি বেঁচে আছ। তাই হয়তো বুঝি না- মা হারানোর কি বেদনা। পিতাকে হারিয়েছি সেই কবে! সে বেদনা প্রতিটি বছর ১৩ই মে জানান দিয়ে যায়। ফেসবুক খুলেই আজ যখন দেখলাম হাজারো মা-হারার আর্তনাদ, তখনই মনে হলো- আমারও তো মা আছে। কি স্বার্থপর আমরা! ব্যস্ততার অজুহাত দিয়ে তোমাদের কাছ থেকে দূরে থাকতে চাই। মা শেষ বেলায় ক্ষমা করো আমায়। আর কোনদিন এমনটা হবে না। ইকবাল হোসেন মঞ্জু : মা দিবসে মায়ের জন্য শ্রদ্ধা, ভালোবাসা কৃতজ্ঞতা। কারণ এ মানুষটা আমাকে জন্মদিয়ে কতো রাত যে ঘুমায়নি আল্লাহ ভালো জানেন। মায়ের কষ্ট আর ভালোবাসার কাছে আমার সমস্ত শরীরের চামড়া ছিলে দেয়া তুচ্ছ। জানুয়ারীর ১৯ তারিখ মাকে যখন স্কয়ার হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে দিয়ে এলাম সেদিনই মায়ের শুন্যতা অনুভব করেছিলাম। অপারেশনের দুই ঘন্টা আমরা দুই ভাই বোন অঝোর ধারায় কেঁদেছি। গত ১০ দিন আমি কোলকাতায় ছিলাম, প্রতিদিন সকালে মা ঘুম থেকে উঠেই নিজে কিছু না খেয়ে আমার খবর নিয়েছে। মা ছাড়া পৃথিবীতে আর কে এমন ভালোবাসে আমি জানি না। এখন আমার সন্তানদের প্রতি আমার মায়ের ভালোবাসা দেখে আমি তার কাছে আরো বেশি কৃতার্থ হয়ে গেলাম। চলন্ত ট্রেনের সিটে বসে কথাগুলো লিখতে লিখতে দু'চোখ বেয়ে খখন যে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো বুঝতেই পারিনি। এ যদি হয় মায়ের জন্য ভালোবাসা, তবে এটা মার জন্যই রইলো। মাগো তুমি ভালো থেকো, অনেক অনেক ভালো...... শাবান মাহমুদ : মা। পৃথিবীর সব মা, আমার মা। এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ আমার মা। ৪৮ বছরের জীবন চলার পথে বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে জীবনে অনেক বাধা পেরিয়েছি। আজকের জায়গায় পেৌছতে সংগ্রাম করেছি পদে পদে। শিক্ষা জীবন ব্যাহত হয়েছে বার বার। ছাত্র রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাবে আক্রান্ত হয়েছি কত বার তার হিসেব নেই। যে স্বপ্ন নিয়ে শুরু করেছিলাম জীবনের পথচলা সেখানে হোচট থেয়েছি বার বার। বন্ধুর অভাব নেই সত্য তবে লুকিয়ে থাকা শত্রুরা ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে , করে যাচ্ছে। যখনই চরম সংকটে পড়েছি, দূর্যোগ এসেছে, অভাব তাড়া করেছে, লক্ষ্যচ্যুত হয়েছি তখনই মায়ের কাছে ছুটে গিয়েছি। মা কেবল বলেছেন তোর কোন ক্ষতি কেউ করতে পারবে না। তুই অনেক বড় হবি। মায়ের আত্মবিশ্বাস আমাকে নতুন পথ দেখায়। শত্রুরা পরাজিত হয। অভাব দ্রুত পালায়। সমৃদ্ধি আমাকে স্বাগত জানায়। বিপদ কেটে যায় মুহূর্তে। কী ঐশ্বরিক শক্তি তোমার কাছে, মা আমার জানতে ইচ্ছে করে। যতদিন বেচে আছি বেচে থাকবো আমার পখ চলার শক্তি একমাত্র মায়ের আশীর্বাদ। আমি বিশ্বাস করি যে সন্তান মায়ের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে পারে ইশ্বর তার পাশেই থাকেন। আমার প্রতিনিয়ত সংগ্রামী জীবনের একটিই সান্তনা , তা হলো আমি আমার মায়ের সেবা করতে পারছি। জানি না কতদিন মা বেচে থাকবেন? যেদিন মা থাকবেন না সেদিন এই পৃথিবী আমার কাছে তুচ্ছ। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে আমার প্রার্থনা, কৃতজ্ঞতা এজন্য যে তিনি আমাকে উপহার দিয়েছেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মা। আমাদের ৯ ভাই বোনকে মানুষ করতে গিয়ে আমার মা জীবনে কতই না কষ্ট করেছেন, আমরা ভাই বোনেরা মাকে কতই না যন্ত্রণা দিয়েছি, কতদিন মায়ের পছন্দের খাবার হয়তো আমরা ভাই বোনেরা ভাগ করে খেয়েছি, মায়ের অবাধ্য কখনো না হলেো মনের অজান্তে তাকে ভাই বোনেরা কতই না কষ্ট দিয়েছি কিন্তু মা কোনকিছুই মনে রাখেননি। শুধু প্রাণপন চেষ্টা করেছেন তার সন্তানেরা যেনো থাকে দুধেভাতে। মা আমার শৈশবের কথা ম,নে পড়ে। বছরের দুটি ঈদে আমাদের ৯ ভাই বোনের নতুন পোশাক কিনতে গিয়ে হয়তো তোমার নতুন শাড়ি কেনার কথা ভুলে গেছো। যখন জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সারারাত জেগে নির্ঘুম রাত কেটেছে তুমি পাশে থেকে একইভাবে চোখের ঘুম তাড়িয়ে দিয়েছো। মা মনে পড়ে তুমি কিভাবে আমাদের কষ্ট করে লেখাপড়া শিখিয়েছো। নিজের দিকে না তাকিয়ে শুধুই সন্তানদের চিন্তায় তুমি নিজেকে বঞ্চিত করেছো। এখন তো আমরা বড় হয়েছি এখন একটু নিজের কথা ভাবো মা। মা তুমি আমাদের সম্পদ, তুমি আমাদের বেচে থাকার অনুপ্রেরণা। তোমার পদতলে আমাদের বেহেস্ত। মা, আজ মা দিবসে তোমাকে চোখের পানিতে ভেজা অজস্ত্র শ্রদ্ধা আর ভালবাসা। জিয়াউল হক সবুজ : মা মানে একরাশ ভালবাসা, যে ভালবাসার কোন সীমা নেই। মা মানেই অনন্ত আদর, যে আদরের কোন রং নেই। মা মানেই ছেলের শুকিয়ে যাওয়া চোখে পড়া, যে চোখের কোন মোহ নেই। মা মানেই একগাদা খাবার, সন্তানকে বেশি খাইয়েও যার তৃপ্তি নেই। সেই মাকেই আমি দু'বছর আগে হারিয়ে ফেলেছি ব্যস্ততার ভিড়ে। চলে যাওয়ার সময় তার চোখের অশ্রু গড়াতে দেখিনি। সৌভাগ্য হয়নি মায়ের মুখের শেষ কথাটি শোনার। তাই মা দিবসে দুনিয়াবি কোন গিফট নয়, আল্লাহ তোমাকে বেহেশতে রাখুন, এই দোয়া করি। পরপারেও তোমার আদর-সোহাগ দিয়ে আমাকে আগলে রোখো মা। সুখে থেকো, শান্তিতে থেকো। মা তোমাকে বড্ড মনে পড়ে মা। জানি লক্ষ কোটি ডাকেও তুমি সাড়া দেবে না। অন্তত স্বপ্নে হলেও প্রতিদিন আমার কাছে থেকো…মিস ইউ মাদার। ১০.০৫.২০১৫