ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:৩২:১১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

যে চিঠিতে ১৬ বছরের নীরবতা ভেঙেছিলেন নজরুল

দীপালি হাসান | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৪৭ এএম, ২৫ মে ২০২৬ সোমবার

নার্গিস ও নজরুল।

নার্গিস ও নজরুল।

বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর জীবন যেমন ছিল আলোড়নময়, তেমনি তাঁর প্রেম ও ব্যক্তিজীবনও ছিল গভীর নাটকীয়তায় ভরা। কবির জীবনের সবচেয়ে রহস্যময় ও বেদনাময় অধ্যায়গুলোর একটি ছিল সৈয়দা খাতুন (নার্গিস)-এর সঙ্গে তাঁর অসমাপ্ত সম্পর্কের গল্প।

১৯২১ সালের ১৮ জুন কুমিল্লার দৌলতপুরে নার্গিসের সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন তরুণ নজরুল। সে সময় কবির জনপ্রিয়তা বাড়ছিল, চারদিকে তাঁর প্রতিভার আলো ছড়িয়ে পড়ছিল। কিন্তু বিয়ের রাতেই ঘটে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। জানা যায়, নার্গিসের পরিবার থেকে নজরুলকে ‘ঘরজামাই’ থাকার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। স্বাধীনচেতা ও আত্মমর্যাদাবোধে দৃঢ় নজরুল এই শর্ত মেনে নিতে পারেননি। অভিমান, ক্ষোভ ও অপমানবোধে সেই রাতেই স্ত্রীকে রেখে চলে যান তিনি।

সেদিনের সেই বিদায় যেন শুধু একটি ঘর থেকে চলে যাওয়া ছিল না; ছিল দুই মানুষের জীবনে দীর্ঘ এক বিরহের সূচনা।

এরপর কেটে যায় বছরের পর বছর। মাঝেমধ্যে নার্গিস কবিকে চিঠি পাঠালেও নজরুল আর যোগাযোগ করেননি। একসময় তিনি নিজের জীবন নিয়ে এগিয়ে যান। কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—দীর্ঘ ১৬ বছর পর হঠাৎ একদিন নার্গিসের কাছে একটি চিঠি পাঠান নজরুল। সেটিই ছিল তাঁর প্রথম এবং শেষ চিঠি।

১৯৩৭ সালের ১ জুলাই কলকাতার “গ্রামোফোন রিহার্সাল রুম” থেকে লেখা সেই চিঠি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম হৃদয়স্পর্শী প্রেমপত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। সেখানে কোনো অভিযোগ ছিল না, ছিল না প্রতিশোধের ভাষা। বরং ছিল স্মৃতি, বেদনা, ভালোবাসা আর অপূর্ণতার গভীর স্বীকারোক্তি।

চিঠিতে নজরুল লিখেছিলেন,
“তোমার উপর আমি কোনো জিঘাংসা পোষণ করি না… তোমার জন্য আমার হৃদয়ে কী গভীর ক্ষত, কী অসীম বেদনা!”

তিনি আরও লিখেছিলেন, “তুমি এই আগুনের পরশমানিক না দিলে আমি ‘অগ্নিবীণা’ বাজাতে পারতাম না।”

এই কয়েকটি লাইন যেন বুঝিয়ে দেয়, নার্গিস শুধু কবির জীবনের একটি সম্পর্ক ছিলেন না; তিনি হয়ে উঠেছিলেন তাঁর সৃষ্টিশীল বেদনার এক উৎস।

চিঠির ভাষা ছিল কাব্যময়, বিষণ্ন এবং গভীর আবেগে পূর্ণ। সেখানে নজরুল তাঁর তরুণ বয়সের প্রেমকে স্মরণ করেছেন, স্মরণ করেছেন নার্গিসের অসুস্থতার সময় তাঁর কপালে হাত রেখে কাটানো মুহূর্তগুলোও। তিনি লিখেছিলেন—সময়ের দূরত্ব স্মৃতিকে মুছে ফেলতে পারেনি।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অংশটি ছিল চিঠির শেষদিকে। নজরুল লিখেছিলেন, “তোমাকে লেখা এই আমার প্রথম ও শেষ চিঠি হোক।”

কবি যেন বুঝিয়ে দিয়েছিলেন—কিছু সম্পর্ক বাস্তবে পূর্ণতা পায় না, কিন্তু মানুষের ভেতরে আজীবন জেগে থাকে।

বাংলা সাহিত্যে নজরুলকে আমরা বিদ্রোহ, সাম্য ও দ্রোহের কবি হিসেবে জানি। কিন্তু এই চিঠি তাঁর আরেকটি রূপ উন্মোচন করে—এক গভীর সংবেদনশীল, আহত ও নিঃসঙ্গ প্রেমিকের রূপ। সেই কারণেই হয়তো এত বছর পরও নজরুল-নার্গিসের অসমাপ্ত প্রেমের গল্প মানুষকে নাড়া দেয়।