শিশুর দুষ্টুমির জন্য আপনি দায়ী নন তো!
লাইফস্টাইল ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪প্রকাশিত : ০৯:২২ এএম, ৯ অক্টোবর ২০২৫ বৃহস্পতিবার
ছবি: সংগৃহীত
‘আমার সন্তান খুব দুষ্টু, ওকে না মারা পর্যন্ত কথা শোনে না।’- এমন কথা প্রায়ই অনেক মা-বাবার মুখে শোনা যায়। কিন্তু সত্যিই কি সন্তানের গায়ে হাত তোলা কোনোভাবে যুক্তিসংগত? শিশু হয়তো খুব চঞ্চল, একবার বলা কথা শোনে না, উল্টো দুষ্টুমির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। কিছু না দিলে চিৎকার করে, জেদ ধরে, কখনো জিনিসপত্র ভেঙে ফেলে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক সময় অভিভাবকরা অধৈর্য হয়ে শিশুর গায়ে হাত দিয়ে বসেন। মার খাওয়ার পর হয়তো কিছু সময়ের জন্য সে শান্ত থাকে, কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবারও একই আচরণ দেখা যায়।
এখন একবার ভাবুন, শিশুটি কি জন্মের পর থেকেই এমন ছিল? নিশ্চয়ই না। শিশুর শারীরিক বিকাশের পাশাপাশি মানসিক বিকাশও সময় নেয়। হামাগুড়ি দেওয়া বয়সে সে যেমন বুঝতে পারে না যে মেঝেতে থাকা কোনো জিনিস খাওয়ার উপযোগী নয়, তেমনি জানে না কীভাবে কিছু চাইতে হয়, না পেলে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়, কিংবা মন খারাপের প্রকাশ কীভাবে করতে হয়। প্রতিটি বিষয়ই তাকে শেখাতে হয় ধীরে ধীরে, ভালোবাসা ও ধৈর্যের সঙ্গে।
অভিভাবকের আচরণের মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে শিশুর ব্যক্তিত্ব। যখন শিশু কোনো বিরক্তিকর বা অস্বাভাবিক আচরণ করে, তখন তাকে না বুঝে মারধর করলে তা তার পরবর্তী আচরণকে প্রভাবিত করে। শাসনের নামে শারীরিক আঘাত দেওয়া সন্তান ও অভিভাবক উভয়ের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
এই বিষয়টি বোঝাতে ধূমপানের সঙ্গে তুলনা করা যায়। যে ব্যক্তি কখনো ধূমপান করেনি, তার নেশায় আসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। কিন্তু একবার ধূমপান করলে তা অভ্যাসে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। একইভাবে, একবার সন্তানের গায়ে হাত তুললে তা ধীরে ধীরে অভ্যাসে রূপ নেয়। হয়তো প্রথমে খেতে না চাওয়ায় মা চড় মেরেছেন, তাতে ওই মুহূর্তে খেয়ে নিলেও পরেরবার খাবার দেখা মানেই তার মনে ভয় ঢুকে যাবে।
জেন্টল প্যারেন্টিং, বোঝাপড়ার মাধ্যমে বড় হওয়া
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, শিশুকে লালন-পালনের অন্যতম কার্যকর পদ্ধতি হলো জেন্টল প্যারেন্টিং। যেখানে শিশুর আচরণের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় অভিভাবকের নিজস্ব আচরণ নিয়ন্ত্রণের ওপর। এই পদ্ধতিতে শিশুর আবেগকে শ্রদ্ধা করা, কারণ বুঝে ধৈর্য ধরে প্রতিক্রিয়া দেখানো এবং শারীরিক বা মানসিকভাবে আঘাত না করেই শাসন করা শেখানো হয়।
মনোবিজ্ঞানে প্যারেন্টিংয়ের চারটি ধারা রয়েছে- নেগলেক্টফুল, পারমিসিভ, অথোরিটেরিয়ান ও অথোরিটেটিভ।
একটি শিশুর উদাহরণ ধরুন, সে টেবিলের ওপর রাখা পানির বোতল ছুড়ে ফেলেছে।
পারমিসিভ অভিভাবক হয়তো শুধু বলবেন, “এমন করো না প্লিজ।”
নেগলেক্টফুল অভিভাবক দেখেও না দেখার ভান করবেন।
অথোরিটেরিয়ান অভিভাবক চিৎকার করবেন, শাস্তি দেবেন, এমনকী মারতেও পারেন।
আর অথোরিটেটিভ বা জেন্টল অভিভাবক বলবেন, ‘তুমি হয়তো খেলতে চাও, কিন্তু বোতল ফেললে আমরা পানি খাব কীভাবে? চল, বরং বল নিয়ে খেলি, দেখি কে আগে আনতে পারে।’ এভাবে শিশুর আবেগকে স্বীকৃতি দিয়ে যুক্তিসংগত সীমারেখা তৈরি করা যায়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বহুল আলোচিত ‘জেন্টল প্যারেন্টিং’ মূলত অথোরিটেটিভ প্যারেন্টিংয়ের আধুনিক রূপ। যার লক্ষ্য হলো শিশুকে আবেগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করা এবং সীমা অতিক্রম করলে যুক্তিসংগত পরিণতি শেখানো।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জেনিয়ার ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ড. ব্রায়ান রাজ্জিনো সিএনএন-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, ‘জেন্টল প্যারেন্টিং মানে শুধু আদরে বড় করা নয়, বরং এটি সন্তানকে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা শেখানোর কৌশল।’
শিশুকে আলাদা ব্যক্তি হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া, তার আবেগকে মূল্য দেওয়া। এসবের মধ্য দিয়ে শিশুর মধ্যে বাবা-মায়ের প্রতি আস্থা তৈরি হয়। সেই আস্থাই তাকে আত্মবিশ্বাসী, স্থির ও সহানুভূতিশীল করে তোলে। তবে এই পদ্ধতি সহজ নয়। বিশেষ করে যারা নিজের শৈশবে সহানুভূতি না পেয়ে এবং শারীরিক আঘাতকে শাসন জেনে বড় হয়েছেন, তাদের জন্য আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে সন্তানের সঙ্গে ধৈর্যশীল থাকা কঠিন হতে পারে। তবুও এটি সম্ভব, চেষ্টার মাধ্যমে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট থমাসের মনোবিজ্ঞানী ড. এনি পেজালো বলেন, একটি শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য চারটি উপাদান জরুরি- কাঠামো বা নিয়ম, ভালোবাসা ও উষ্ণতা, শিশুকে স্বতন্ত্র ব্যক্তি হিসেবে দেখা ও দীর্ঘমেয়াদে ধৈর্য ধরে গড়ে তোলার মানসিকতা।
সন্তান নিখুঁত অভিভাবক চায় না। সন্তান চায় এমন একজন মা বা বাবা, যিনি নিজে চেষ্টা করেন, ভুল হলে ক্ষমা চান, ভালোবাসা ও সহানুভূতির মাধ্যমে নেতৃত্ব দেন। তবেই শিশু শেখে- আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে, সীমা মানতে এবং মানুষ হিসেবে বড় হতে।
- ঢাকায় স্ত্রী হত্যায় স্বামীর ফাঁসির রায়
- অভিনেত্রী কাজলের ভিডিও ফাঁস
- দেশে দেশে শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কড়াকড়ি
- বর্ষায় পাটশাক খেলে মিলবে ৬ স্বাস্থ্য উপকারিতা
- গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ
- অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তান ব্যর্থ হয়েছিল, দাবি ইমরান খানের বোনের
- ভারী বৃষ্টিপাত নিয়ে আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা
- চাঁদপুরে ইলিশের সঙ্কট, কারণ অনুসন্ধানে বিশেষজ্ঞ দল
- ৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের দুই প্যাকেজ ঘোষণা
- মেসিকে ছাড়াই দেশে ফিরল আর্জেন্টিনা দল
- বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে স্পেন
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ঢাবি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ
- মহাকবি কায়কোবাদের ৭৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
- চাঁপাইয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা-মেয়েসহ ৩ নারীর প্রাণহানী
- পিরিয়ডের ব্যথা দূর করবে এই উপকারী পানীয়
- চাঁপাইয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা-মেয়েসহ ৩ নারীর প্রাণহানী
- হার মেনে নিয়ে যা বললেন কিংবদন্তি মেসি
- দিনেই নামবে রাত, ৬ মিনিট অন্ধকারে ডুবে থাকবে পৃথিবী
- ১১০৪ জনকে নিয়োগ দেবে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন
- কলা কেনার আগে জেনে নিন ৫ সহজ কৌশল
- লামিন ইয়ামালের জীবনের হার নামানা গল্প
- আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন
- গোল্ডেন বল জিতলেন রদ্রি, গোল্ডেন গ্লাভ পেলেন সিমন
- দীর্ঘ সময় গ্যাস সংকটে ভুগবেন যেসব এলাকার বাসিন্দারা
- সড়কে যান চলাচল নিয়ে ডিএমপির জরুরি নির্দেশনা
- বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে স্পেন
- মেসিকে ছাড়াই দেশে ফিরল আর্জেন্টিনা দল
- টানা দ্বিতীয়বার গোল্ডেন বুট জিতলেন এমবাপ্পে
- পেরুতে ৫.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৬







