ঢাকা, মঙ্গলবার ১১, আগস্ট ২০২৬ ১৮:৩৪:৫৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
পদ্মার স্রোতে জাজিরায় তীব্র ভাঙন, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ দেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের বড় অংশ অপুষ্টির ঝুঁকিতে! হুমায়ূন আজাদ: প্রথাবিরোধী, সাহস ও সৃষ্টির অদম্য লেখক স্ত্রীসহ সৌরভ গাঙ্গুলীকে হত্যার হুমকি, তদন্তে পুলিশ লেখক-শিক্ষক মেঘনা গুহঠাকুরতার জন্মদিন আজ কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৩২, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

সকালে দুধ চা নাকি লিকার চা, কোনটি বেশি উপকারী

লাইফস্টাইল ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:০১ এএম, ১১ আগস্ট ২০২৬ মঙ্গলবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর গরম ধোয়া ওঠা এক কাপ চা অনেকের দিনটি সুন্দর করে তোলে। চা পানে শরীর ও মন উভয়ই চাঙা থাকে। যাদের সকালে চা পানের অভ্যাস, তাদের কাছে এই চা যেন প্রথম প্রেমের মতো। যা চাইলেও ভুলে থাকা যায় না।

নিয়মিত চা পানে বিভিন্ন শারীরিক উপকারিতা রয়েছে। এ কারণে অভ্যাসের বাইরে কেউ কেউ শুধু উপকারিতার জন্য সকালে চা পান করেন। কিন্তু স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য সকালে কোন চা বেশি নিরাপদ―দুধ চা নাকি লিকার চা? ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু মানুষ গাঢ় দুধ-চিনির চা পছন্দ করেন। আবার কারও পছন্দ লিকার চা বা লাল চা বা রং চা। কিন্তু খালি পেটে সবার জন্য সব চা নয়। তাহলে সকালে কোন চা উপকারী, তা জেনে নেয়া যাক-

দুধ চা পানের ক্ষতিকর দিক:
তীব্র অ্যাসিডিটি ও গ্যাস: চা পাতায় প্রাকৃতিকভাবে ক্যাফেইন ও ট্যানিন নামক উপাদান থাকে, যা পাকস্থলীতে অ্যাসিডের ক্ষরণ বাড়ায়। খালি পেটে পান করার জন্য চায়ে দুধ ও চিনি মেশানো হলে তা পেটে গিয়ে আরও ভারী হয় এবং দুধের প্রোটিন পরিপাকতন্ত্রে চাপ সৃষ্টি করে। এ কারণে মুহূর্তের মধ্যে অনেক বুক জ্বালা, পেটে গ্যাস, অম্লতা বা অ্যাসিডিটি ও পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে।

অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের কার্যকারিতা নষ্ট:
 চা পাতা হচ্ছে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের প্রধান উৎস, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কিন্তু চায়ে যদি গরুর দুধ বা গুঁড়া দুধ মেশানো হয়, তাহলে দুধের প্রোটিন চায়ের অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে সব পুষ্টিগুণ নষ্ট করে দেয়।

কোষ্ঠকাঠিন্য ও পরিপাকে বাধা: 
চায়ে বিদ্যমান থিয়োফিলিন এবং দুধের ফ্যাট সকালে একসঙ্গে পেটে প্রবেশ করলে হজমপ্রক্রিয়া ধীর হয়। এ কারণে মলত্যাগে সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

লিকার চা পানের উপকারিতা ও নিরাপত্তা:

হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস ও মেটাবলিজম বৃদ্ধি: নিয়মিত সকালে লিকার চা বা ব্ল্যাক টি পানে ভালো উপকারিতা পাওয়া যায়। লিকার চা বা ব্ল্যাক টি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। যা আপনার শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক হার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে এবং রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করে হৃদযন্ত্রকে রক্ষা করে।

শক্তি বৃদ্ধি ও ব্রেন ফোকাস: লিকার চায়ে থাকা ক্যাফেইন এবং এল থিয়ানিন নামক অ্যামিনো অ্যাসিড সকালে অলসতা কাটিয়ে মনকে সজীব ও সতেজ রাখতে সহায়তা করে। একইসঙ্গে মনোযোগ বাড়াতেও অবদান রাখে।

লিকার চায়ের সতর্কর্তা:
লিকার চা দুধ চায়ের থেকে তুলনামূলক বেশি নিরাপদ হওয়ার পরও খালি পেটে অতিরিক্ত কড়া বা গাঢ় লিকার চা গ্রহণ করা মোটেও ঠিক নয়। এতে থাকা ট্যানিন খাবার থেকে আয়রন বা লোহা শোষণে বাধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ জন্য সকালে হালকা লিকার চা পান করা উচিত।

সকালে চা পানের নিয়ম:
খালি পেটে পানি পান: সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর সরাসরি চা পান না করে প্রথমে অন্তত ১ গ্লাস হালকা ইষদুষ্ণ পানি পান করা ভালো।

হালকা কিছু খাওয়ার পর চা: সকালে খালি পেটে চা না খেয়ে বিস্কুট, ভেজানো কাঠবাদাম বা হালকা নাশতা খাওয়ার ১০-১৫ মিনিট পর চা পান করতে হবে।

দুধ-চিনি কমানো: দুধ চা খেতে ইচ্ছা হলে এতে চিনি পরিমাণে খুবই কম দিতে হবে। আবার লিকার চা পানের অভ্যাস থাকলে কড়া লিকার এড়িয়ে চলুন। সম্ভব হলে খালি পেটে কিছু খাওয়ার পর তবেই চা পান করার অভ্যাস গড়ে তুরুন।