ঢাকা, রবিবার ৩১, মে ২০২০ ২:১৪:৪৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
Equality for all
শিরোনাম
করোনা রোধে জনপ্রতিনিধিরা আরও সম্পৃক্ত হন: প্রধানমন্ত্রী করোনা: মৃতের সংখ্যায় স্পেনকে ছাড়ালো ব্রাজিল করোনা রোগীকে ‘চলে যেতে চাপ দিচ্ছে’ ইউনাইটেড করোনা : আক্রান্ত কমলেও বেড়েছে মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ১,২২৫ জনের মৃত্যু চট্টগ্রামে শিশুসহ ২২৯ জনের করোনা শনাক্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় এশিয়ার শীর্ষে ভারত

সাধারণ ছুটি বাড়ছে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:১৩ পিএম, ৩১ মার্চ ২০২০ মঙ্গলবার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ফাইল ছবি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ফাইল ছবি।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকার ঘোষিত চলমান সাধারণ ছুটির মেয়াদ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ মঙ্গলবার গণভবন থেকে দেশের ৬৪ জেলার কর্মকর্তাদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে দিক নির্দেশনা প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এর মধ্যে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং পরের দুদিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। মূলত ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পাঁচদিনের সাধারণ ছুটি ছিল। তবে সাথে ৩ ও ৪ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় মোট ১০ দিনের ছুটিতে রয়েছে সারা দেশ।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘একটি ক্রান্তিকালে এই ভিডিও কনফারেন্স করছি আমরা। এরকম পরিস্থিতি বোধহয় আমরা জাতীয় জীবনে আর কখনো দেখিনি।’ দরিদ্র মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের সচেতনতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও বলেন তিনি। সেইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।

জনগণের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে সরকার মুজিববর্ষসহ সব কর্মসূচি স্থগিত করেছে। যাতে মানুষ সমাগম কম হয় তার জন্য এটা করা হয়েছে।’

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল জনগণকে সচেতন করা। সেটা আমরা করতে পারলেও তিন মাসে আমরা এই অবস্থা ধরে রাখতে পেরেছি। সবাই নিজেদের জায়গা থেকে যার যার দায়িত্ব পালন করেছেন বলেই এটা পেরেছি। আমরা বিমানবন্দর-নৌবন্দরে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেছি। থার্মাল স্ক্যানারসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি।’

রাজশাহীর পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই শহরে আপনারা ভালো ব্যবস্থা নিয়েছেন বলেই রাজশাহীতে কোনো করোনা রোগী পাওয়া যায়নি। এটা খুব ভালো লক্ষণ। এটা অত্যন্ত সুখবর যে এ বিভাগে কোনো করোনা রোগী নেই। এ জন্য আপনাদের অভিনন্দন জানাই।’ তারপরও সচেতন থাকার জন্য তিনি সেখানকার প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।

সিলেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেটে ২৬ হাজার লোক বিদেশ থেকে এসেছে তারপরও সেখানে কোনো করোনাভাইরাসের রোগী নেই। এটা একটা আশার খবর।’ তিনি চা শিল্পে উৎপাদন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করারও আহ্বান জানান।

মানুষের আয়-উপার্জনের যেন কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য অফিস-আদালত সীমিত আকারে চালু রাখার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ মঙ্গলবার গণভবন থেকে ৬৪ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সীমিত আকারে আমাদের অফিস-আদালত যা কিছু চলার সেটা আমরা কিছু কিছু করে দেব। সেটা আমি বসে দেখব, কোনটা কি করা যায়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেক উন্নত দেশকে আমরা দেখছি। সেখানে কত মানুষ মারা যাচ্ছে, সংক্রমিত হচ্ছে, মানুষের দুর্ভোগ দিনের পর দিন বেড়ে যাচ্ছে। সেইক্ষেত্রে ভূখণ্ডের দিক থেকে আমরা ছোট, জনসংখ্যার দিক থেকে বিশাল জনসংখ্যা। সেই অবস্থায়ও আমি বলব, আমরা সচেতনতা সৃষ্টি করতে পেরেছি।’

‘সেক্ষেত্রে যারা কাজ করেছেন সকলকে আমি আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে যার যার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন বলেই এটা আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি’, যোগ করেন তিনি।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, ‘তারপরও আমি বলব এই সমস্যাটা এখনো যায়নি। এটা সারা বিশ্বব্যাপী রয়ে গেছে যেহেতু, আর আমরা বিশ্ব থেকে তো দূরে না। সবচেয়ে বড় কথা এখন যোগাযোগমাধ্যম আছে। যেকোনো তথ্য দ্রুত পৌঁছানো যায় তথ্য আমরা দ্রুত পেতে পারি। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি আমাদেরকে আরও সচেতন থাকা দরকার।’

এর আগে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকা‌রি বাসভবন গণভবন থে‌কে এ ভিডিও কনফারেন্স শুরু হয়। এতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) ছাড়াও ভিডিও কনফারেন্সে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় যুক্ত ছিল।

প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৪৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। যাদের মধ্যে মোট ১৯ জন ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন এবং পাঁচজন মারা গেছেন।