ঢাকা, সোমবার ১৩, জুলাই ২০২৬ ২০:৪১:০৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
বন্যায় প্রাণহানী বেড়ে ৫১, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী ব্যাংককের বারে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ গেল ২৭ জনের ১৭ বছর পর রাজধানীতে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত দেশজুড়ে আজও অতিভারী বৃষ্টির শঙ্কা

স্ত্রীর পরিচয়ে আমি মর্মাহত : হিলারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ১২:৪৩ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০১৮ শনিবার

হিলারী ক্লিনটন একজন আইকনের নাম। একাধারে তিনি স্ত্রী, মা, সিনেটর, হেয়ার আইকন, সমালোচক, গবেষক, লেখক। তার সম্পর্কে বিশেষণ দিয়ে শেষ করা যাবে না। সম্প্রতি প্যান ওয়ার্ল্ড ভয়েস ফেস্টিভেলে হিলারী ক্লিনটন তার নিজের ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে বিষ্ফোরক মন্তব্য করেছেন।

 

তিনি জানান, তিনি একজন স্ত্রী হিসেবে মর্মাহত। কখনই কারও স্ত্রী হতে চান নি। কেন নারীকে গৃহবধুর সজ্ঞায় আবদ্ধ থাকতে হবে।

 

হিলারী বলেন, আমি ক্লিনটনের বায়োডাটায় দেখি না তো তার নামের আগে বা পরে স্বামী কথাটা লেখা আছে কিনা। আর স্বাভাবিকভাবে লেখা থাকার কথাও না। কারণ সে একজন আমোরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট, ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা, সমাজসেবক। এটাই তার পরিচয় তাই না। তাহলে আমাকে কেন তার স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে চলতে হবে।

 

তিনি বলেন, আমরা এমন পৃথিবীতে বসবাস করি যেখানে প্রেসিডেন্ট হল পুরুষ আর তার স্ত্রী হচ্ছেন প্রেসিডেন্টের পরিচয়ে ফার্ষ্ট লেডি, যত্ত সব ফালতু চিন্তা।

 

তিনি বলেন, একজন নারী যদি মা হয়, স্ত্রী হয় তাতে তো অসুবিধার কিছু নেই। এটার মধ্যে অন্য ধরনের আনন্দ আছে, তৃপ্তি আছে। কিন্তু আমি আমার ব্যাক্তিগত পরিচয় বাদ দিয়ে আমার স্বামীর পরিচয়ে কেন সম্মানীত হবো! আমারও তো নিজের পরিচয় থাকতে পারে। ঘরে আমি স্ত্রী বাইরে তো না। আমি তো ওকে স্বামী আর ও আমাকে স্ত্রী বলে সম্মোধন করেনা।

 

হিলারী আরো বলেন, মানুষ মা, স্ত্রীর কথা বললে অবজ্ঞা করে, নারীকে ছোট মনে করে কেন? মনে হয় এগুলো অনেক সহজ, আমি তো এগুলো নিয়ন্ত্রণ করে অন্য সব কাজও করছি। শুধু আমি কেন,আমাল ক্লুনি তো নিজের পরিচয়েই বিশ্বে পরিচিত, ওর তো ওর স্বামী জর্জ ক্লুনির পরিচয় দরকার পড়ে না। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী তো অন্ত:সত্বা হয়েও দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাই আমি এসব বিষয় নিয়ে চরম আশাহত।

 

হিলারীর এমন সোজাসাপ্টা কথার অনেকেই ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। হিলারী সবসময় এরকমভাবেই কথা বলেন। বিগত চার দশকের নানা প্রতিকূলতা, নাটকীয়তা আর চ্যালেঞ্জে ভরা তার জীবনকাহিনি। ১৯৪৭ সালের ২৬ অক্টোবর শিকাগোর এক ধার্মিক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম তার। স্কুলে পড়ার সময় মাত্র ১৩ বছর বয়সেই পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করতে কাজ করতে শুরু করেন হিলারি। 

 

৯৬৫ সালে বিখ্যাত কলেজ ওয়েলেসলিতে ভর্তি হন তিনি। ষাটের দশকে হিলারি নাগরিক অধিকার, ভিয়েতনাম যুদ্ধ ও লৈঙ্গিক সমতা ইস্যুতে বেশ সোচ্চার হয়ে ওঠেন। ১৯৬৯ সালে হঠাৎ দেখা বিল ক্লিনটনের সঙ্গে। এরপরই জীবনের গতিপথ বদলে যায় তার। এক পর্যায়ে হিলারি আরকানস অঙ্গ রাজ্যে বিল ক্লিনটনের সঙ্গে কাজে যোগ দেন।

 

এর কিছুদিন পর প্রথমে আরকানসের গভর্নর এবং ১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন বিল ক্লিনটন। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে পূর্বসূরিদের বিপরীতে চলে প্রথমেই সবার নজর কাড়েন তৎকালীন ফার্স্ট লেডি হিলারি। তবে খুব শিগগির দেশের আইনপ্রণেতা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে তার সম্পর্কে তিক্ততার সৃষ্টি হয়।

 

১৯৯৮ সালে হোয়াইট হাউসের শিক্ষানবিশকর্মী মনিকা লিউইনস্কির সঙ্গে স্বামী বিলের পরকীয়ার খবর ফাঁস হলে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতেও পড়তে হয় তাকে। ২০০০ সালে নিউইয়র্কের সিনেটর নির্বাচিত হন হিলারি। ২০০৪ সাল থেকে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি শুরু করেন। কিন্তু চার বছর পর নিজ দলীয় প্রার্থী বারাক ওবামার সঙ্গে মনোনয়নের দৌড়ে হেরে যান। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে হিলারিকেই নিজের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ করেন ওবামা।

 

এ দায়িত্ব পালনকালে ২০১২ সালে লিবিয়ায় জঙ্গি হামলায় রাষ্ট্রদূতসহ ও চার মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার জন্য হিলারির ব্যর্থতাকেই দায়ী করে থাকেন রিপাবলিকানরা। এ ছাড়া সরকারি কাজে ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহারের ঘটনাও বেশ বিতর্কে ফেলে তাকে। তবে সব বাধা ঠেলে এগিয়ে চলেছেন হিলারি, এগিয়ে যাবেন সামনে।