ঢাকা, রবিবার ১৮, অক্টোবর ২০২৬ ১০:৪৮:০৪ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ছদ্মনামে লিখে সাহিত্য পুরস্কার জিতলেন ইসাবেল আলেন্দে বাঙালি মহীয়সী নারী ইলা মিত্রের জন্মদিন আজ ঢাকায় বৃষ্টি ঝরবে কিনা, জানাল আবহাওয়া অধিদফতর রাজধানীর বাইরে অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ইনানীর রিসোর্ট টুপটুপ কলকাতায় পূজামণ্ডপ ভেঙে ১৩ নারীসহ ১৯ জনের প্রাণহানী হাসপাতালে ডাক্তারের ধূমপান, বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ইনানী রিসোর্টে আগুন: নিহতদের ৬ জনের পরিচয় মিলেছে

অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ইনানীর রিসোর্ট টুপটুপ

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:৩৮ এএম, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ রবিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

সমুদ্র দেখতে এসে আনন্দের স্মৃতি নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু কক্সবাজারে বেড়াতে এসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারালেন ১০ জন পর্যটক। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উখিয়ার ইনানীর পাটোয়ারটেক সৈকতে ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে’ এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে চলছিল কাঠ ও বাঁশের তৈরি এই ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্টটি।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফায়িজান আহম্মেদ। তাঁরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। এ ছাড়া নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯) নামে ঢাকার আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের এক শিক্ষিকা এবং জিহাদ হাওলাদার ও আকিবুল ইসলাম নামের আরও দুই পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।


এ ঘটনায় দগ্ধ আরও ছয়জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দিন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।

অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রীসহ ছয় স্বজনকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন আশিকুল ইসলাম। গত বৃহস্পতিবার বনশ্রী থেকে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নিয়ে তিনি কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন। শনিবারই তাঁদের ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আশিকুল জানান, সকালে আগুন দেখে স্ত্রী তাঁকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেন। তিনি পাশের কক্ষে থাকা স্বজনদের সতর্ক করতে যান। একপর্যায়ে জানালা ভেঙে নিচে লাফ দিয়ে বের হতে পারলেও স্ত্রীকে আর উদ্ধার করতে পারেননি।

অন্যদিকে, সাভারের স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন তাঁর ছোটবেলার দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন। স্বামী ফয়সাল জানান, সকালে দুই বান্ধবী কক্ষ থেকে বের হতে পারলেও আগুন ছড়িয়ে পড়ায় নাসরিন ভেতরে আটকা পড়ে প্রাণ হারান।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানান, প্রাথমিকভাবে রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনতলা ভবনটির নিচতলায় রেস্তোরাঁ এবং ওপরের দুই তলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। কাঠের তৈরি হওয়ায় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

এই মর্মান্তিক প্রাণহানির পেছনে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার চিত্র উঠে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানিয়েছেন, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার কোনো ছাড়পত্র ছিল না। গত জুনে পরিদর্শনের পর স্থাপনাটিকে অনিরাপদ উল্লেখ করে সতর্কতামূলক নোটিশ দেওয়া হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

শুধু ফায়ার সার্ভিস নয়, রিসোর্টটির কউকের (কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) অনুমোদনও ছিল না। কউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিন জানান, বৈধ অনুমোদন না থাকায় নোটিশ দেওয়া হলেও মালিক তানভীর আহমেদ অবৈধভাবে এর কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ, প্রাণহানি ও রিসোর্টের অনুমোদনের বিষয়গুলো বিশদভাবে খতিয়ে দেখতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই রিসোর্টের মালিক চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর বাসিন্দা তানভীর আহমেদ পলাতক রয়েছেন। তবে শনিবার সন্ধ্যায় রিসোর্টের ম্যানেজার সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে উখিয়া থানা পুলিশ। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।