ঢাকা, মঙ্গলবার ১৪, জুলাই ২০২৬ ৭:৪৩:০৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
বন্যায় প্রাণহানী বেড়ে ৫১, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী ব্যাংককের বারে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ গেল ২৭ জনের ১৭ বছর পর রাজধানীতে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত দেশজুড়ে আজও অতিভারী বৃষ্টির শঙ্কা

অসুস্থ-অসহায় বৃদ্ধের পাশে তপতী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ০১:১৬ পিএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ রবিবার

প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে ঘটেছে এ ঘটনা। বাঘাযতীন স্টেশন রোডের বাসিন্দা তপতী দাশ সম্প্রতি গড়িয়াহাট বাজারে গিয়ে দেখতে পান, ফুটপাথে এক প্রৌঢ় শুয়ে রয়েছেন।


কয়েক মাস আগেই তিনি দাম্পত্য হিংসার শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সেই ‘ট্রমা’ কাটিয়ে উঠে বাঘাযতীনের বাসিন্দা তপতী মণ্ডল নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিলেন এক সম্বলহীন সহ-নাগরিককে। তার দাবি, গুরুতর অসুস্থ ওই ফুটপাথবাসীকে বার করে দিয়েছে সরকারি হাসপাতাল।


তপতী গড়িয়াহাট বাজারে গিয়ে দেখেন, ফুটপাথে এক প্রৌঢ় শুয়ে রয়েছেন। দুই পায়ে গভীর ক্ষত, মাছি বসছে। প্রশ্ন করে জানতে পারেন, ওই ব্যক্তির নাম কল্যাণ দাশগুপ্ত। পুরসভার অবসরপ্রাপ্ত হেলথ অফিসার তপতী প্রথমে কল্যাণের প্রাথমিক শুশ্রূষা করেন। তারপর নিয়ে যান কলকাতা মেডিকেল কলেজে।


তপতী জানান, তিনি সুপার এবং এমএসভিপি’র সঙ্গে কথা বলার পর কল্যাণকে হাসপাতালে ভর্তি নেওয়া হয়। কিন্তু গত মঙ্গলবার তাকে মারধর করে হাসপাতাল থেকে বার করে দেওয়া হয় বলে দাবি। এরপরই তিনি কল্যাণকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।


তপতী বলেন, ‘‘দু’পায়ে ঘা সারেনি, হাঁটতে পারছেন না বেচারি! তার উপর ঘরবাড়ি নেই। আমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে তিনি এই কাজই করতেন।


কিন্তু হাসপাতাল কতটা অমানবিক হলে অসহায় মানুষকে চিকিৎসা না করে বার করে দিতে পারে!’’ তার কথায়, ‘‘আমি যখন প্রথম কল্যাণবাবুকে নিয়ে গেলাম, তখন আমাকে বলা হয়েছিল, তাকে সুস্থ করে কোনও হোমে পৌঁছে দেওয়া হবে। সে সব কিছুই হয়নি। যতদিন পর্যন্ত না বিকল্প ব্যবস্থা হচ্ছে, উনি আমার কাছেই থাকবেন।’’



কলকাতা মেডিকেল কলেজের সুপার শিখা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘মারধর করে বার করে দেওয়ার ঘটনা জানি না। ভর্তি করার সময় ওই মহিলা আমার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। আমি বলেছিলাম, কোনও হোমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করব। কিন্তু অনেক খোঁজখবর করেও পুরুষদের জন্য উপযুক্ত হোম পাওয়া যায়নি।’’


এখনও ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না কল্যাণ। তিনি জানান, ডানকুনির নন্দনকাননে যৌথ পরিবারে থাকতেন তিনি। বিয়ে করেননি। কাজ করতেন বেঙ্গল ল্যাম্পে। কারখানা বন্ধ হওয়ার পর সিকিওরিটি এজেন্সিতে কাজ নেন।

তিনি বলেন, ‘‘বয়স বাড়ছিল, ঠিকমতো কাজ করতে পারতাম না। খুড়তুতো ভাইয়েরা ২০১৪ সালে বাড়ি থেকে বার করে দিয়েছিল। পরে ফিরতে গিয়ে গলাধাক্কা খেয়েছি। তখন থেকে ফুটপাথেই থাকি।’’


তপতী প্রসঙ্গে কল্যাণ বলেন, ‘‘এমন মানুষ আগে দেখিনি। নিজের আত্মীয়রা মারধর করেছে। যে সিকিওরিটি কোম্পানিতে কাজ করতাম, তারা পিএফের টাকা দেয়নি। এই প্রথম দেখলাম, কেউ আমায় ভালবেসে আশ্রয় দিল।’’

বিদেশি পত্রিকা অবলম্বনে