ঢাকা, শনিবার ০৭, নভেম্বর ২০২৬ ৭:৪৯:২৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
মুক্তি পেলেন কিউবার সাংবাদিক ইয়োয়ানি সানচেজ রমজানের আগেই বাড়ছে ছোলার দাম, কাটছে না সয়াবিন তেলের সংকট মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে ইউক্রেনের বেসামরিক সম্মাননা প্রদান ফের গ্রেফতার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেত্রী উর্মি পুরো ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের তিন দফা বাড়ার পর কমল স্বর্ণের দাম নাসিরের মামলায় আত্মসমর্পণ, জামিন পেলেন পরীমনি

আরো ৫১ থানায় নারী হেল্প ডেক্স

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ১১:৩৫ এএম, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার

নারী নির্যাতনের মামলা তদন্তে পুলিশের সদস্যদের দক্ষতা, সক্ষমতা বাড়ানো ও সহিংসতা রোধে ঢাকাসহ ২৪টি জেলার ৫১ থানায় নতুন নারী হেল্প ডেক্স স্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ।

 

পারিবারিক সহিংসতা, শারীরিক নির্যাতন ও যৌন নির্যাতন এবং ধর্ষণের শিকার নারীরা এই ডেক্সে অভিযোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট থানা এলাকায় যেসব নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে সেসব ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার যথাযথ তদন্ত করবে ডেক্সের সদস্যরা।

 

ইভটিজিং রোধেও কাজ করবে এই হেল্প ডেক্স। তদন্তে যেসব ব্যক্তি নারী সহিংসতার জন্য দায়ী হবেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও নারী নির্যাতনের ফলে রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থায় কি কি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে তার জন্য প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে।

 


এর আগেও পুলিশ ৪০টি জেলায় নারী হেল্প ডেক্স খুলেছে। এই সেবাকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য বাকি জেলাগুলোতে কার্যক্রমের উদ্যোগ নিয়েছে। জনস্বার্থ ও জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের আলোকে পুলিশের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) রৌশন আরা বেগম এনডিসি জানান, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে হেল্প ডেক্সগুলো খোলা হয়েছে। পাশাপাশি নারীর অধিকার ও দেশের প্রতি তাদের অবদানগুলো তুলে ধরার জন্য প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে।


পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে গত ২০ বছর আগে নারীর প্রতি সহিংসতার হার ছিল মারাত্মকভাবে। কিন্তু, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রমের কারণে বর্তমানে এই সহিংসতা অনেকটা কমে এসেছে। ২০২৫ সালের মধ্যে সহিংসতার হার শূন্য পর্যায়ে নামিয়ে আনতে চায় বাংলাদেশ পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে হেল্প ডেক্স খোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের অধীনে চলবে। প্রয়োজন হলে পুলিশের পক্ষ থেকেও অর্থ ব্যয় করা হবে।

 

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র বলছে, দেশের ৮০ শতাংশ নারী তার স্বামীর দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয় বলে একটি জরিপে উঠে এসেছে। যেসব নারী নির্যাতনের শিকার হন তারা সংসার টেকাতে ও সামাজিকতার কারণে বাবা ও মা এবং আইনশৃংখলা বাহিনীর আশ্রয় নিতে চান না। অনেক কিছু মুখ বুজে সহ্য করেন। নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে অনেকে বাধ্য হয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর আশ্রয় নেন।

 

সূত্র জানায়, ২০১০ সালের সারা দেশের থানাগুলোতে নারী সহিংসতাকে কেন্দ্র করে মামলা হয়েছিল ১৭ হাজার ৩৫২টি, ২০১১ সালে ১৭ হাজার ৫৫৩টি, ২০১২ সালে ১৭ হাজার ৯৩০, ২০১৩ সালে ১৮ হাজার ৩২১টি, ২০১৪ সালে ১৮ হাজার ৭০৩টি, ২০১৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ২২০টিতে, ২০১৬ সালেও ছিল প্রায় একই চিত্র।

 

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দিন দিন নারী নির্যাতন মামলার সংখ্যা বাড়ছে। মামলার সংখ্যা জিরোতে নামিয়ে আনতে পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এরই অংশ হিসেবে খোলা হয়েছে নারী হেল্প ডেক্স।


জানা গেছে, যেসব জেলাগুলোতে এই হেল্প ডেক্স উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা হচ্ছে, ঢাকা জেলার একাধিক থানা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, কুষ্টিয়া, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, রাজবাড়ী. কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, খুলনা, শরিয়তপুর, বরগুনা ও দিনাজপুর জেলায়।

 

সূত্র জানায়, এই ডেক্সে যেসব নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা অভিযোগ করতে পারবেন। তাদের সব অভিযোগগুলো মনোযোগ সহকারে শোনা হবে।

এছাড়াও যেসব নারী সহিংসতার শিকার হয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়েছেন বা জীবনাবিমুখ হয়েছেন তাদের ব্যক্তিগত কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। যাতে করে তারা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।


সূত্র জানায়, দেশে নারী নেতৃত্বের হার বেড়েছে। নারী নেতৃত্বের পাশাপাশি নারী শিক্ষার হার ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। এছাড়াও নারীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে সচেতন। তারা নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার কারণে যেকোনো সহিংসতাকে আর আগের মতো প্রশ্রয় দেন না। তারা বিষয়টি নিজ পরিবার ও আত্মীয়স্বজনকে অবহিত করে থাকেন।


সূত্র জানায়, নারী হেল্প ডেক্সে যেসব সহিংসতার শিকার নারীরা অভিযোগ করবেন তাদের অভিযোগ নিবেন সংশ্লিষ্ট ডেক্স কর্মকর্তারা। ওই নারী যদি মামলা করতে চান তাহলে মামলাটি রুজু করা হবে। এরপর মামলাটি তদন্ত করে যে ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদি কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের খবর পাওয়া যায় তাহলে সংশ্লিষ্ট জেলার এসপির কার্যালয় থেকে ওই অস্বাধু পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয়া হবে।