ঢাকা, শনিবার ১৮, জুলাই ২০২৬ ৯:৪৪:১৪ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
রাজধানীর সড়কে যেন গর্তের রাজত্ব, প্রতিদিন দুর্ভোগে লাখো মানুষ বৃষ্টির প্রভাবে সবজির দামে ঊর্ধ্বগতি, স্থিতিশীল মাছ-মাংসের দাম ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ: ফাইনালে গুরু-শিষ্য মুখোমুখি ৬ মাসে ২৩৮ শিশু-কিশোরীসহ ৪০৪ জনকে ধর্ষণ: এইচআরএসএস গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক নারীকে মুক্তি দিল ইরান আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশনের প্রধান হলেন বাংলাদেশের রাবাব ফাতিমা

ঈদ বাজার : বাজার মাতাচ্ছে ‘কিরণমালা’

আপডেট: ০৬:২৬ পিএম, ১ জুলাই ২০১৫ বুধবার

kironmala1435239605_1748মাজেদুল হক তানভীর,স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম,ঢাকা : ঈদকে সামনে রেখে নতুন পোশাক কিনতে মার্কেটে ভীড়তে শুরু করছেন তরুণীরা। ক্রেতাদের নজর কাড়তে প্রতিবারের মতো এবারও মার্কেটগুলোতে বলিউড আর ভারতীয় বাংলা সিরিয়ালের অভিনেত্রীদের নামের ট্যাগ ঝোলানো হয়েছে। ক্রেতাদের নজরও তাদের পছন্দের অভিনেত্রীদের নাম ঝোলানো পোশাকগুলোর দিকেই। রাজধানীর নিউমার্কেট,শ্যামলী স্কয়ার,মিরপুর-১ ও মিরপুর ১০, মৌচাকসহ বেশ কিছু মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে এমনই চিত্র। তবে এসব পোশাকের দামো বেশ চড়া। ফলে মধ্যবিত্তরা হিমশিম খাচ্ছেন। এমনই অভিযোগ অধিকাংশ ক্রেতার। MCy1HBdUxgy5এবার পাখি নয়,ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর বিপণি বিতানগুলোতে আরেকটি পোশাক তরুণীদের নজর কেড়েছে। ‘কিরণমালা’। ভারতীয় টিভি সিরিয়াল কিরণমালার মূল চরিত্রের নামকরণে বাজার ছেয়ে যাচ্ছে কিরণমালা নামের পোশাকে। রাজধানীর গাউছিয়া,নিউমার্কেট ঘুরে দেখা যায় চারদিকে কেবল কিরণমালার কলরব। প্রায় প্রতিটি দোকানেই ক্রেতাদের মুখে মুখে কিরণমালা। এছাড়াও সারারা,মৎস্যকুমারী,ফ্লোর টাচ ও রাজকুমারী পোশাকের চাহিদাও চোখে পড়ার মতো। গাউছিয়ার নামিরা ফ্যাশনের বিক্রেতা মো. পার্ভেজ বলেন, “কিরণমালা হল কোটিসহ নকশা করা পোশাক। এবারের ঈদে এর চাহিদাই বেশি। দাম সাড়ে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা।” মিরপুর-১ এর ‘কয়েন’ শো-রুমে সামিয়া জাহান নামক ক্রেতার দেখা মিলে। তিনি কিরণমালা সালোয়ার কামিজ দেখতেই মগ্ন ছিলেন। দোকানটির বিক্রেতারা জানালেন,এবারে তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ‘কিরণমালা’ সালোয়ার কামিজ। একই চিত্রের দেখা মিললো মিরপুর-১০ এর মার্কেটে। বিক্রেতারা জানান, আসন্ন ঈদ বাজারে এরই মধ্যে চাহিদার বাজার দখল করে নিয়েছে কিরণমালা। 7ihDInJQMAUYঅঞ্জন্স নামক দোকানের বিক্রেতা সামিরের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,কিরণমালার পাশাপাশি সারারা,মৎস্যকুমারী,স্টোনের কাজ করা ফ্লোর টাচ ও সুতির গোল ফ্রকের পোশাকেরও চাহিদা রয়েছে। স্টোনের কাজ করা ফ্লোর টাচ পোশাকগুলোর দাম ২ হাজার ২শ’ থেকে ১২ হাজার টাকা এবং কিরণমালা,মৎস্যকুমারী পোশাকের দাম ৩ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা। সামির জানান,রাজকুমারী সাড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা,মৎস্যকুমারী পোশাক সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকার ভেতর মিলবে।” তিনি আরও জানান,বনলতা ও স্কিন কামিজ-এ দুটি পোশাকও রয়েছে ক্রেতাদের এবারের পছন্দ তালিকায়। যারা জামায় হালকা কাজ পছন্দ করেন তাদের জন্য সুতির এই কামিজগুলো বেশ ভালো বলে জানা তিনি। বনলতার দাম ২ হাজার টাকা এবং স্কিন কামিজের দাম ১ হাজার ২শ’ ৫০ টাকা। রাজধানীর নিউমার্কেটে কথা হয় ক্রেতা রেজওয়ানা আফরিনের সাথে। তিনি বলেন,“সাধারন কাজ করা পোশাক আমার বেশি পছন্দ। তবে এবার স্টোন আর চুমকির কালেকশন বেশি। তাই মনের মতো পোশাক পেতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। এ মার্কেটে কয়েকটা কামিজ পছন্দ হয়েছে। সাধ্যে থাকলে কিনব।” জমকালো পোশাকের পাশাপাশি রয়েছে সুতি ও হালকা কাজের নানা রকম থ্রি পিস। এর মধ্যে সেমি-লং,লং কামিজসহ বিভিন্ন স্টাইলের পোশাকের পসরা রয়েছে গাউছিয়ার প্রায় সব দোকানে। এই পোশাকগুলোর দাম ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা। সুতি থ্রি পিসের দাম ১ হাজার ৫শ’থেকে আড়াই হাজার টাকা। জরি সুতার কাজ করা লন পাওয়া যাবে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়। ঘের দেওয়া কামিজের দাম ৩ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। ব্লকবাটিক লং থ্রি পিস ২ থেকে ৭ হাজার টাকা। কটনের থ্রি পিস ১ হাজার ৫শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা। 34_1গাউছিয়া,নিউমার্কেট,মৌচাক মার্কেট ঘুরে দোকানিদের সাথে কথা বলে জানা যায়,“কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ব্লকবাটিকের পাশাপাশি লং কামিজের প্রতি বেশ আগ্রহ আছে। কেউ কেউ কিরণমালা বা মৎস্যকুমারীও চান।” গাউসিয়া মার্কেটে পোশাকের দামদর সম্পর্কে দু’সন্তানের জননী ক্রেতা মনিরা বলেন, এবারের কাপড়ের দাম অন্যবারের তুলনায় বেশি। নিজের কেনাকাটার জন্য কিছু ঠিক না করলেও দুই মেয়ের জন্য কিরণমালা পোশাক কিনতে এসেছি।” উৎসব মুখর কেনাকাটার এসময় আনন্দের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে নানা আশঙ্কাও। সজীব হোসেন নামের একজন ক্রেতা বলেন,“গতবার ‘পাখি ড্রেসের’ কারণে অনেকে মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। এবার এসেছে ‘কিরণমালা’। তাই এবারও এমন কিছু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তিনি। রাজধানীর বসুন্ধারা, নিউমার্কেট, গাউসিয়া, মিরপুর, মৌচাক, মোহাম্মাদপুর, ধানমন্ডি এলাকার বিভিন্ন বিপণি বিতান ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনও ঈদের বাজার পুরোপুরি জমে ওঠেনি। তবে শুক্রবারের পর থেকে বাজার জমে ওঠার সম্ভাবনা আছে বলে মনে করছেন তারা। এক সপ্তাহ পর আরও নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক আসবে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। ০২.০৭.২০১৫