ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯, জানুয়ারি ২০২৬ ১:৫২:৩০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সারা দেশে অবাধে শিকার ও বিক্রি হচ্ছে শীতের পাখি ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে এখন পর্যন্ত ১৩ লাখ নিবন্ধন নারী, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বিষয়ে ১০ দফা সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার কাছে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ ইরানের পরিস্থিতি খারাপ হলে কঠোর হবে তুরস্ক

এআই জায়ান্টদের বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিকের মামলা

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:৪২ এএম, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রশিক্ষণে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে এবার সেই অভিযোগে সরাসরি আদালতে গেলেন নিউইয়র্ক টাইমসের খ্যাতনামা অনুসন্ধানী সাংবাদিক জন ক্যারিরু। থেরানোস কেলেঙ্কারি ফাঁস করে আলোচনায় আসা এই সাংবাদিক গুগল, ওপেনএআই, মেটা, এক্সএআই, অ্যানথ্রোপিক ও পারপ্লেক্সিটির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। জন ক্যারিরুর সঙ্গে আরও পাঁচজন লেখক এই মামলায় যুক্ত হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, অনুমতি ছাড়াই তাদের লেখা বই ব্যবহার করে এসব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নিজেদের এআই চ্যাটবট প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, লেখকদের কপিরাইট সুরক্ষিত বই ‘পাইরেটেড’ উপায়ে সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে সেগুলো ব্যবহার করা হয়েছে বড় ভাষাভিত্তিক মডেল বা এলএলএম তৈরিতে। এই মডেল দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে জনপ্রিয় সব এআই চ্যাটবট।

এই মামলা কয়েকটি কারণে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথমত, এই প্রথম ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান এক্সএআইকে কপিরাইট সংক্রান্ত মামলায় আসামি করা হলো। দ্বিতীয়ত, লেখকেরা এখানে কোনো ক্লাস অ্যাকশন মামলায় যাননি। অর্থাৎ, তারা একত্রে বড় কোনো সমঝোতায় যেতে চান না।

মামলায় বলা হয়েছে, ক্লাস অ্যাকশন মামলা সাধারণত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষেই সুবিধাজনক হয়। এতে করে একসঙ্গে অনেক অভিযোগ কম টাকায় নিষ্পত্তি করা যায়। লেখকদের দাবি, এতে উচ্চমূল্যের হাজারো কপিরাইট দাবির ন্যায্য বিচার হয় না।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, এআই কোম্পানিগুলো যেন “খুচরা দামের” বিনিময়ে বিপুল কপিরাইট লঙ্ঘনের দায় এড়িয়ে যেতে না পারে।

এর আগে গত আগস্টে অ্যানথ্রোপিক একটি বড় সমঝোতায় পৌঁছায়। প্রতিষ্ঠানটি লেখকদের একটি ক্লাসের সঙ্গে ১৫০ কোটি ডলারের চুক্তি করে। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সমঝোতায় প্রতিটি লঙ্ঘিত কাজের জন্য লেখকেরা আইনে নির্ধারিত সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণের মাত্র ২ শতাংশ পেয়েছেন।

জন ক্যারিরু সেই সমঝোতাকেও যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার ভাষায়, এআই তৈরিতে বই চুরি করা ছিল অ্যানথ্রোপিকের “মূল পাপ”।

এই নতুন মামলাটি করেছে ফ্রিডম্যান নরম্যান ফ্রিডল্যান্ড আইন সংস্থার আইনজীবীরা। এই দলে রয়েছেন কাইল রোচে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৩ সালে নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জন ক্যারিরু নিজেই রোচেকে নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছিলেন।

এর আগে এক শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক উইলিয়াম অলসাপ রোচে সহ-প্রতিষ্ঠিত একটি আইন সংস্থার ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। তবে নতুন মামলার বিষয়ে রোচে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে, মামলার বিষয়ে গুগল, ওপেনএআই, মেটা, এক্সএআই বা অ্যানথ্রোপিক— কোনো প্রতিষ্ঠানই তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রশিক্ষণে কপিরাইট ব্যবহারের প্রশ্নে এই মামলা বড় ধরনের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। প্রযুক্তির অগ্রগতি আর সৃজনশীল শ্রমের অধিকার—এই দুইয়ের সংঘাত এখন নতুন এক মোড়ে দাঁড়িয়েছে।