ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:২৯:৫০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

এই বৈশাখে ঐতিহ্য-সমকালীনতায় নতুন রূপে ‘বিশ্বরঙ’

লাইফস্টাইল ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:২৩ পিএম, ৬ এপ্রিল ২০২৬ সোমবার

এই বৈশাখে ঐতিহ্য-সমকালীনতায় নতুন রূপে ‘বিশ্বরঙ’

এই বৈশাখে ঐতিহ্য-সমকালীনতায় নতুন রূপে ‘বিশ্বরঙ’

বাংলা নববর্ষ এলেই বাঙালির মনে জেগে ওঠে উৎসবের উচ্ছ্বাস, রঙের উল্লাস আর শিকড়ের টান। সেই চিরায়ত আবেগকে ধারণ করে প্রতি বছরের মতো এবারও ব্যতিক্রমী আয়োজন নিয়ে হাজির হয়েছে দেশের জনপ্রিয় ফ্যাশন হাউস বিশ্বরঙ। লোকঐতিহ্য, প্রকৃতি ও গ্রামীণ জীবনের সৌন্দর্যকে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উপস্থাপন করে বৈশাখকে আরও বর্ণিল করে তুলতে নতুন সংগ্রহ উন্মোচন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

১৯৯৪ সালে খ্যাতিমান ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব সাহা-এর হাত ধরে যাত্রা শুরু করা বিশ্বরঙ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ফ্যাশনের মাধ্যমে তুলে ধরার এক নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারি কিংবা অন্যান্য জাতীয়-সাংস্কৃতিক উৎসব—সবখানেই লোকজ উপাদানকে নতুনভাবে উপস্থাপন করাই প্রতিষ্ঠানটির বৈশিষ্ট্য।

এবারের বৈশাখী আয়োজনে বিশেষভাবে জায়গা করে নিয়েছে বাংলার মাটির টেপা পুতুল—যা গ্রামীণ জীবনের সরলতা, শৈল্পিকতা ও শিকড়ের এক অনন্য প্রতীক। এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পরূপকে আধুনিক ডিজাইনে রূপ দিয়ে পোশাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এক ভিন্ন মাত্রায়। পাশাপাশি প্রকৃতির স্বাভাবিক রঙ—মাটির লাল, পাতা সবুজ, আকাশি নীল, ফুলের কোমল আভা—এসবের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে এক প্রাণবন্ত রঙের ভাষা, যা বৈশাখের আবহকে আরও গভীর করে তোলে।

সংগ্রহটিতে ব্যবহৃত হয়েছে নানা ধরনের কারিগরি কৌশল—স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক প্রিন্ট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রিন্ট, হ্যান্ড ও মেশিন এমব্রয়ডারি, কারচুপি, নকশিকাঁথা ও জরদৌসি। প্রতিটি পোশাকে ফুটে উঠেছে দক্ষ কারিগরের হাতের নিপুণতা ও শিল্পসত্তার ছাপ। শিশু, নারী ও পুরুষ—সব বয়স ও শ্রেণির মানুষের জন্যই আলাদা আলাদা ডিজাইন রাখা হয়েছে, যাতে প্রত্যেকে নিজের মতো করে বৈশাখকে উদযাপন করতে পারেন।

এ প্রসঙ্গে বিপ্লব সাহা বলেন, “আমাদের কাছে বৈশাখ মানে শুধু একটি উৎসব নয়—এটা বাঙালির আত্মপরিচয়ের সবচেয়ে গভীর বহিঃপ্রকাশ। আমরা চেষ্টা করি প্রতিবার এমন কিছু উপস্থাপন করতে, যা আমাদের শিকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করবে। এবারের আয়োজনে টেপা পুতুলকে বেছে নেওয়ার পেছনে মূল ভাবনা ছিল—গ্রামীণ বাংলার সেই সরল, অথচ গভীর শিল্পরূপকে আবার সামনে নিয়ে আসা।

বর্তমান সময়ে অনেক লোকশিল্প ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে, কারণ সেগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমরা চাই ফ্যাশনের মাধ্যমে সেই শিল্পগুলোকে মানুষের জীবনের অংশ করে তুলতে। যখন একজন তরুণ বা তরুণী একটি পোশাক পরবে, আর সেই পোশাকে টেপা পুতুলের নকশা থাকবে—তখন সে শুধু একটি পোশাকই পরবে না, সে বহন করবে আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শিকড়ের গল্প।

এছাড়া আমরা সবসময় চেষ্টা করি ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে একটি সৃজনশীল সেতুবন্ধন তৈরি করতে। যাতে আমাদের ডিজাইনগুলো একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক মানের হয়, অন্যদিকে তেমনি গভীরভাবে দেশীয় সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে। বৈশাখের আনন্দ, রঙ আর আবেগ—সবকিছুকে একত্র করে মানুষের কাছে নতুনভাবে উপস্থাপন করাই আমাদের লক্ষ্য।”

এদিকে আধুনিক গ্রাহক চাহিদার কথা মাথায় রেখে বিশ্বরঙ তাদের এই নতুন সংগ্রহ অনলাইনেও উন্মুক্ত করেছে। ই-কমার্স ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ঘরে বসেই পছন্দের পোশাক অর্ডার করতে পারছেন ক্রেতারা।

সব মিলিয়ে, ঐতিহ্যের মাটির গন্ধ আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় সাজানো এই বৈশাখী আয়োজন যেন আবারও মনে করিয়ে দেয়—ফ্যাশন কেবল রূপের প্রকাশ নয়, এটি এক গভীর সাংস্কৃতিক ভাষা।