ঢাকা, সোমবার ১৩, জুলাই ২০২৬ ৬:৪৭:৫৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
প্রাথমিকের বৃত্তির ফল প্রকাশ, যেভাবে জানা যাবে আঝোর বৃষ্টিতে ডুবেছে রাজধানী, দুর্ভোগে নগরবাসী বন্যা-পাহাড়ধসে চট্টগ্রামে ৬ দিনে ৪৩ জনের মৃত্যু ঢাকায় বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ, কিছু স্কুলে পরীক্ষা বন্ধ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ডিএমপির জরুরি নির্দেশনা ম্যারাডোনার রেকর্ড ভাঙলেন মেসি সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, প্রতিপক্ষ কারা

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৪:০৬ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৯ বুধবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আজ ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই দিন অবিস্মরণীয়। সেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্ব শপথ নেয়া এবং পরিচালনায় মহান মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিণতি ঘটেছে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নানা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে এই দিবসটি পালন করবে। সেই অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সারাদেশে বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাঙালি জাতি সুদীর্ঘ দুই শতাব্দীর অধিককাল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ও পাকিস্তানের শাসন আমলে শৃঙ্খলিত ছিল। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীতে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার স্বাধীনতার যে সূর্য অস্তমিত হয়, স্বাধীনতার সে সূর্য আবারও উদিত হয়েছে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে। বাঙালি জাতির দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষার পরে তৎকালীন কুষ্টিয়ার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে রচিত হয় আরেকটি ইতিহাস। একাত্তরের অগ্নিঝরার এই দিনেই বাঙালির হাজার বছরের লালিত স্বপ্ন স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ভিত্তিমূল রচিত হয়েছে।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দী থাকা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক করে এই দিন গঠিত হয়েছিল প্রবাসী বিপ্লবী সরকার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি ও তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়। আর জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী অস্থায়ী সরকারের মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন। এতে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান পায় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের নামটি। পরবর্তীতে ঐতিহাসিক এই দিবসটি মুজিবনগর দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এই কারণে মুজিবনগর ও ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের ইতিহাসেই শুধু নয়, বিশ্ব মানুষের মুক্তির ইতিহাসে একটা আলাদা বিশেষত্ব রাখে। কারণ এখানে ঘোষিত হয় জাতির মুক্তির জন্য স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বলা হয়, জনগণের ম্যান্ডেট মোতাবেক অনুযায়ী আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আমাদের ক্ষমতায় গণপরিষদ গঠনে পারস্পরিক আলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা আমাদের পবিত্র কর্তব্য। সেহেতু আমরা বাংলাদেশকে রূপান্তরিত করতে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি ও এই দ্বারা পূর্বাহ্নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা অনুমোদন করছি।

নবজাত রাষ্ট্রের এই শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জনগণকে তাদের বীরত্ব, সাহসিকতা এবং বিপ্লবী কার্যক্রমের মাধ্যমে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা লাভের উদ্দেশ্যে অদম্য স্পৃহায় মরণপণ যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে আহ্বান জানানো হয়। সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত সৃষ্টি করা ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার পরিচালনায় নবগঠিত এ সরকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনসহ যোগ্য নেতৃত্ব ও দিক-নির্দেশনাতে মুক্তিযুদ্ধ দ্রুততম সময়ে সফল সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যায়।

এই সরকার গঠনের কারণে বিশ্ববাসী স্বাধীনতার জন্য বাঙালিদের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছে। অবশেষে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে চূূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সব সময় মুজিবনগর সরকারের গুরুত্ব ও অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত দিনটিকে প্রতিবারের মতো সমগ্র দেশবাসীর সাথে একত্রিত হয়ে এবারো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ ও পালন করবে।

গতকাল এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, স্বাধীনতা বাঙালি জাতির জন্য শ্রেষ্ঠ অর্জন। স্বাধীনতাসংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সঠিকভাবে তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বাণীতে বলেছেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্ম পাবে সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ।

দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এছাড়া এই দিবসটি পালনে বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মুজিবনগর দিবসটি পালনে বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করে। আজ ভোর ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় ও দেশের সকল জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকাসহ দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা।

মুজিবনগরের কর্মসূচি

আজ মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্রে ভোর ৬টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়। সকাল নয়টায় মুজিবনগরের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্রে মন্ত্রিপরিষদ, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং রাজনৈতিক নেতাদের পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, স্কাউটস ও স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা গার্ড অব অনার প্রদানসহ কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করেন। বেলা পৌনে ১১টায় মুজিবনগর শেখ হাসিনা মঞ্চে আলোচনা সভা শুরু হয়। সভায় সরকারের মন্ত্রী, জাতীয় সংসদ সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। বিকেল পাঁচটায় মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্রের মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। আজ মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে প্রথমবার মুজিবনগরে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়।

আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এক বিবৃতিতে জানায়, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঘোষিত কর্মসূচি যথাযথ মর্যাদায় পালন করার জন্য সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মী ও সহযোগী সংগঠনগুলোসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

-জেডসি