ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯, জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৫৮:২৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
পোস্টাল ভোট: ১৪৮ দেশে নিবন্ধন, সৌদি আরব শীর্ষে এক বছরে ১৭ লাখ শিশুর জন্ম অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারে হামলা-অপমানে ভাঙছে মাঠপুলিশের মনোবল কোনো দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন তারেক রহমান ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে প্রযুক্তির হাত ধরেই: প্রধান উপদেষ্টা ‘ডেইরি ফার্ম জাতীয় অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় খাত’

গারো পাহাড়ের পতিত জমিতে আনারস চাষ

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৩৩ পিএম, ১০ জুন ২০২৩ শনিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতীর গারো পাহাড়ের পতিত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে সুমিষ্ট জাতের আনারস চাষ শুরু হয়েছে। উপজেলার উত্তর বাকাকুড়া গ্রামের  ১৮ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এই আনারসের বাগান করেন পিটার। পিটার বলেন, ফলন ভালো হওয়ায় এখন পর্যন্ত বাগানের প্রায় সোয়া লাখ পিস আনারস ১৬ লাখ টাকায় তিনি বিক্রি করেছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, এর স্বাদ মধুপুরের আনারসের চেয়ে অনেক বেশি সুস্বাদু ও রসালো। অন্যদিকে এ অঞ্চলের মাটি আনারস চাষের জন্য খুবই উপযোগী আর পাহাড়ী অঞ্চলে কৃষিতে নতুন অর্থকরি ফসল হিসেবে আনারসের খ্যাতি সারা দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছে জেলা কৃষি বিভাগ।

আনারস চাষী পিটার সাংমা জানান, প্রায় দেড় বছর আগে টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে ঝিনাইগাতী এসে তিনি শ্বশুরের ১৮ বিঘা জমিতে প্রায় সোয়া লাখ আনারসের চারা রোপন করেন। এবার ওইসব চারা থেকে এক লাখ ১০ হাজার গাছে আনারসের ফলন হয়। এসব ফল মধুপুরের এক ব্যবসায়ীর কাছে ১৬ লাখ টাকায় বিক্রিও করেছেন। এছাড়া বাগানে আরও প্রায় তিন লাখ টাকার আনারস বিক্রি করার উপযোগী হয়েছে।

পিটার সাংমা বলেন, বাগানে বন্য হাতির আক্রমণের কারণে প্রায় ২০ হাজার পিস আনারসের চারার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যার বর্তমান বাজার দর আড়াই লাখ টাকার বেশী। আর চারা সংগ্রহ, বাগান রক্ষণা-বেক্ষন, সেচ, সার ও পরিচর্যা বাবদ খরচ হয় প্রায় ১০ লাখ টাকা।

এক প্রশ্নের জবাবে পিটার সাংমা বলেন, এ অঞ্চলে তিনি ঘুরতে এসে দেখেন পাহাড়ী বিস্তৃর্ণ জমি বছরের পর বছর পতিত পড়ে থাকে। পরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানতে পারেন এ এলাকা বন্য হাতির আক্রমণ প্রবল হওয়ায় এখানে কেউ কোন ধরণের ফসল আবাদ করেন না। তাই তিনি পাহাড়ী পতিত জমিতে ফসল উৎপাদনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে এবার প্রথম আনারসের বাগান করেন।

স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হরেন মারমা বলেন, প্রথম অবস্থায় স্থানীয়রা পিটারের বাগান দেখে সন্দিহান ছিলেন। পরবর্তীতে ফলন ভালো দেখে গ্রামের মানুষের মনে আশার আলো দেখা যায়। শুধু তাই না অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাহাড়ী পতিত জমিতে আনারস চাষ করবে।

হরেন মারমা আরও বলেন, পিটারের বাগান দেখতে দূর দূরান্তের অনেকেই প্রতিনিয়ত এখানে আসছে এবং আনারস খেয়ে এর স্বাদ আস্বাদন করছে। এছাড়া এ বাগানে পরিচর্যার কাজ করে অনেকেই আয়ের উৎস খুঁজে পেয়েছেন।

স্থানীয় কৃষক আব্বাস মিয়া, রতন শেখ ও আরজ আলী বলেন, পিটারের বাগানের আনারস মধুপুরের আনারসে চেয়ে অনেক বেশি সুস্বাদু ও রসালো। তারা আগামীতে আনারসে বাগান করার পরিকল্পনা করছেন বলে জানান।

ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন দিলদার বলেন, পাহাড়ী মাটি মূলত এসিডিক। আর এ মাটি আনারস চাষের জন্য খুবই উপযোগী। উচ্চমূল্যের এ ফল চাষ করে পাহাড়ের অনাবাদি জমি যেমন চাষের আওতায় আসবে, তেমনি পাহাড়ি অঞ্চলে কৃষিতে নতুন অর্থকারী ফসল হিসেবে আনারসের খ্যাতি সারা দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।