ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:২৯:৪৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

গৃহবধূ হত্যা, স্বামীসহ চারজনকে আসামি করে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৪:২৮ পিএম, ২৩ মে ২০২৬ শনিবার

রেহেনা আক্তার তুলি। ফাইল ছবি

রেহেনা আক্তার তুলি। ফাইল ছবি

নওগাঁর মহাদেবপুরে উপজেলার সুলতানপুর গ্রামে যৌতুকের দাবিতে রেহেনা আক্তার তুলি (২০) নামের এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) দিনগত রাতে ঘটনাটি ঘটে। গৃহবধূকে হত্যার পর বিষয়টি আত্মহত্যা প্রমাণ করতে মরদেহ ঘরে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যায়। গ্রামবাসী মহাদেবপুর থানা-পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় রেহেনা আক্তার তুলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

তুলির মামা মিলন হোসেন বলেন, তিন বছর আগে নওগাঁ সদর উপজেলার বক্তারপুর গ্রামের সোহেল রানার মেয়ে রেহেনা তুলির সঙ্গে মহাদেবপুর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের কাসেম আলীর ছেলে রতন হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয়। তাদের ঘরে হুসাইন নামের দুই বছর বয়সের একটা শিশু রয়েছে। বিয়ের পর থেকে মোটা অংকের যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করে আসছিল তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা। 

মিলন হোসেন বলেন, মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে তার অসুস্থ বাবা সোহেল রানা ইতোমধ্যে ৮০ হাজার টাকা যৌতুক হিসেবে পরিশোধ করেছে। এরপরেও রতন মিয়ার যৌতুকের চাহিদা পূরণ না হওয়ায় আরও টাকার জন্য প্রায় প্রতিদিনই নির্যাতন করত। গত মাস খানেক ধরে আবারও যৌতুকের জন্য তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে চাপ দেয় এবং রেহেনা আক্তার তুলিকে নির্যাতন শুরু করে। শেষ পর্যন্ত যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজমিস্ত্রি রতন হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে মারপিট করলে ঘটনাস্থলে মারা যায় রেহেনা আক্তার তুলি। এরপর বাড়ির সদস্যরা মিলে তুলির মরদেহ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরে ঝুলিয়ে রাখে। পরে গ্রামবাসীদের বলে স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তুলি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। 

মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, গ্রামবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই নিহত রেহানা আক্তার তুলির মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো  হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ দাফনের জন্য মরদেহ তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে। 

ওমর ফারুক বলেন, এ বিষয়ে তুলির মামা মিলন হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় রেহানা আক্তার তুলির স্বামী রতন হোসেন, তার দুই ভাই সাগর হোসেন ও শহিদুল ইসলাম এবং তাদের মা জহুরা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।