ঢাকা, শনিবার ২১, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৪:৫৮:৪৪ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
নারী ভাষা সৈনিকরা আজও অবহেলিত ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ পাকিস্তানকে উড়িয়ে ফাইনালে বাঘিনীরা ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শহীদ দিবস ঘিরে দেশজুড়ে নিরাপত্তা বলয় টিসিবির ট্রাকসেলে ক্রেতার উপচে পড়া ভিড়

চকবাজারের ইফতারের মূল আকর্ষণ ‘বড় বাপের পোলায় খায়’

অনু সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:২৮ পিএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার

চকবাজারের ইফতারের মূল আকর্ষণ ‘বড় বাপের পোলায় খায়’

চকবাজারের ইফতারের মূল আকর্ষণ ‘বড় বাপের পোলায় খায়’

ইফতারে শাহী খাবার না থাকলে ঢাকাইয়াদের রসনাবিলাস যেন অপূর্ণই থেকে যায়। ঐতিহ্য, আভিজাত্য, স্বাদ ও মান—সব দিক বিবেচনায় পুরান ঢাকার ইফতার ঢাকার শাহী খানাপিনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রায় চারশ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে পুরান ঢাকার চকবাজার।

ঢাকার শাহী খাবার ও মোগল ঐতিহ্যের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে চকবাজারের ইফতার। ইতিহাসবিদদের মতে, প্রায় চারশ বছর আগে মোগল সুবেদার শায়েস্তা খান চকবাজারে শাহী মসজিদ নির্মাণ করেন। ওই সময় থেকেই রমজানকে কেন্দ্র করে মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় ইফতার বাজার গড়ে ওঠে। সেই ধারাবাহিকতায় সাড়ে তিনশ বছরের বেশি সময় ধরে ঐতিহ্যের সঙ্গে পথ চলছে এই ইফতার বাজারের।

এলাকাবাসীরা জানান, দুপুর দুইটার পর থেকেই শুধু পুরান ঢাকার বাসিন্দারাই নন, রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মানুষ ছুটে আসেন চকবাজারে ইফতার কিনতে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, উপচে পড়া ভিড়। দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে ক্রেতারা পছন্দের ইফতার সংগ্রহ করছেন।

চকবাজারের দোকানগুলোতে ইফতারের মেন্যুতে রয়েছে সুতি কাবাব, জালি কাবাব, টিক্কা কাবাব, মোরগ পোলাও, লাবাং, পরোটা, বিভিন্ন ধরনের কাটলেট, শাহি জিলাপি, পেঁয়াজু, শাকপুলি, ডিমচপ, কাচ্চি বিরিয়ানি, তেহারি, কবুতর ও কোয়েলের রোস্ট, খাসির রানের রোস্ট, দইবড়া, রাজহাঁসের ফ্রাই, হালিম, নূরানি লাচ্ছি, পনির, পেস্তা বাদামের শরবত, ছানামাঠা, কিমা পরোটা, ছোলা, ঘুগনি, বেগুনি ও আলুর চপ।

এই এলাকার ইফতারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও আলোচিত খাবার হলো ‘বড় বাপের পোলায় খায়’। প্রতিবছরের মতো এবারও এটি ক্রেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। গত চার বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও কেজিপ্রতি ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এই বিশেষ ইফতারি।

‘বড় বাপের পোলায় খায়’-এর বিক্রেতা জানান, তাঁর দাদার সময় থেকেই এই আইটেম বিক্রি হয়ে আসছে। প্রায় ৭৮ বছর আগে তাঁর দাদা মোহাম্মদ হোসেন এখানে এই খাবারের প্রচলন করেন। এখন তিনি ও তাঁর ভাই পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য ধরে রেখে প্রতি রমজানে ঢাকাবাসীর জন্য এই শাহী ইফতার তৈরি করছেন।

বাজারে গরুর সুতি কাবাব বিক্রি হচ্ছে কেজি এক হাজার টাকায় এবং খাসির সুতি কাবাব এক হাজার দুইশ টাকায়। শাহি ছোলা কেজি ২৮০ টাকা, ঘুগনি ১৪০ টাকা, চিকেন আচারি ১ হাজার ৩০০ টাকা এবং কাশ্মীরি বিফ আচারি ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া জালি কাবাব ৩০ টাকা, টানা পরোটা ৫০ টাকা, কিমা পরোটা ৭০ টাকা, কাঠি কাবাব ৪০ টাকা এবং ডিমচপ ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দইবড়া (তিনটি) ১০০ টাকা, ফালুদা কেজি ২২০ টাকা, পেস্তা বাদামের শরবত লিটারপ্রতি ২৫০ টাকা, মুরগির ললিপপ ৪০ টাকা, চিকেন ফিংগার ৪০ টাকা, চিকেন স্যান্ডউইচ ৫০ টাকা, চিকেন রোল ৪০ টাকা এবং ভেজিটেবল রোল ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে চকবাজারের ইফতার বাজারে কথা হয় বাসাবো থেকে আসা মাসফি রাজীব ও মৌ দম্পতির সঙ্গে। রাজীব বলেন, “লালবাগ আমার আদি নিবাস। চকবাজারের ইফতার ছাড়া আমার রমজান যেন পূর্ণতা পায় না। এটা শুধু ইফতার নয়, আমার আবেগ।”

তার কথায় একমত হয়ে স্ত্রী মৌ বলেন, “চকবাজারের ইফতার শুধু খাবার নয়, এটি ঢাকার ইতিহাসের অংশ। তাই প্রতিবছরই এখানে আসি।” তবে তাঁদের মতে, দাম বাড়লেও স্বাদ ও মান আগের তুলনায় কিছুটা কমে গেছে।

ঢাকার শাহী খাবার ও মোগল ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে থাকা চকবাজারের ইফতার বাজার ঢাকার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়েই শতাব্দীর পর শতাব্দী টিকে থাকবে।