ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:৩৪:৪৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

ছোট গল্প : নিঃশব্দ শহরে এক অদ্ভূত ফড়িং

আইরীন নিয়াজী মান্না | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৭:০৫ পিএম, ২৭ মার্চ ২০২৬ শুক্রবার

অলংকরণ

অলংকরণ

এটা এক ব্যস্ত শহরের গল্প—যেখানে আকাশের রং প্রায়ই ধূসর, আর রাস্তাগুলো শব্দে ভরা। শীতের শুরুতে ভোরগুলো এখানে একটু অন্যরকম লাগে। কুয়াশা নামে, লাইটপোস্টের আলোয় ভাসে ধোঁয়াটে আলোছায়া। এমনই এক সকালে, হালকা বাতাসে ডানা কেটে উড়ে আসে একটি ফড়িং।

ছোট্ট, ঝলমলে ডানার সেই ফড়িং কোথা থেকে এসেছে, কেউ জানে না। সে থেমে থেমে উড়ে বেড়ায়—কখনো জানালার কাঁচে, কখনো বারান্দার রেলিংয়ে। একসময় সে ঢুকে পড়ে এক বহুতল ভবনের একটি ফ্ল্যাটের ভেতরে।

ঘরের ভেতরটা তার কাছে একেবারে নতুন। দেয়ালজুড়ে ছবি, টেবিলে বই, আর এক কোণে ঝুলছে একটি রঙিন বস্তু—দেখতে ঠিক তার মতোই। কিন্তু বস্তুটি নড়ছে না, উড়ছে না।

ফড়িংটি ধীরে ধীরে তার কাছে যায়। ওর ডানা কাঁপে, চোখে বিস্ময়।

তুমি কি আমার মতো?—সে মনে মনে প্রশ্ন করে।

কিন্তু উত্তর আসে না। কারণ সেটি জীবন্ত কিছু নয়, বরং মানুষের হাতে তৈরি একটি রঙিন ফড়িং—একটি কাগজে আঁকা।

ফড়িংটি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে। তারপর নিজের পথে চুপচাপ ফিরে যায়।

সন্ধ্যার দিকে সে ফিরে আসে শহরের প্রান্তে, যেখানে কিছু গাছ এখনো দাঁড়িয়ে আছে। সেখানেই তার আশ্রয়। এই শহরে তার মতো আরও অনেক ফড়িং আছে—যাদের ঘর একসময় ছিল এই গাছগুলো। কিন্তু মানুষ গাছ কেটে দিয়েছে, বানিয়েছে বড় বড় দালান।

তবুও তারা বাঁচতে শিখেছে।

দিনের আলোয় তারা উড়ে বেড়ায়, কখনো রোদের তাপে, কখনো ধুলোর ঝাঁঝে। কেউ কেউ আর ফিরে আসে না—হয়তো ক্লান্তিতে, হয়তো অজানা কোনো কারণে।

এই ফড়িংটি একদিন তার বন্ধুদের সেই ঘরের ফড়িংটির গল্প বলে।

: ওখানে একটি ফড়িং আছে—আমার চেয়েও বড়। দেয়ালে বসে থাকে, একদম নড়ে না।

গল্প শুনে অন্যরা কৌতূহলী হয়। তারা ভাবে—নিশ্চয়ই সেই ফড়িং বিশেষ কিছু। তাই পরদিন সবাই মিলে উড়ে যায় সেই বাড়িতে।

জানালার ভেতর দিয়ে ঘরে ঢুকে তারা দেখে—দেয়ালে সেই একই রঙিন ফড়িং। কিন্তু এবার কাছ থেকে দেখে বুঝতে পারে—এটি আসলে জীবন্ত নয়।

একজন ফড়িং আস্তে বলে, এটা তো কাগজের… আমাদের মতো না।

তারা চুপ হয়ে যায়।

ঠিক তখনই ঘরের ভেতর হঠাৎ শব্দ হয়। মানুষ এসেছে। কেউ দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। ভয়ে ছোট্ট ফড়িংগুলো ছড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু সৌভাগ্য, একটি জানালা খোলা ছিল।

একসাথে, ডানা ঝাপটে তারা বেরিয়ে যায়—আবার সেই মুক্ত আকাশে।

বাঁচে তারা।

কিন্তু মনে রয়ে যায় এক অদ্ভুত অনুভূতি—
এই শহর তাদের নেয় না। আবার তাদের রূপ ভালোবেসে নিজের দেয়ালে সাজিয়েও রাখে।

ফড়িংগুলো আবার উড়ে চলে যায় তাদের ছোট্ট আশ্রয়ে।

কুয়াশা ভেজা সেই ভোরে, নিঃশব্দ শহরের আকাশে ভেসে থাকে শুধু একটি প্রশ্ন—মানুষ কি সত্যিই বুঝতে পারে, প্রকৃতিকে ভালোবাসা মানে তাকে বাঁচিয়ে রাখা।