ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:২৯:০২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

ছোটগল্প: নীল পাখি রহস্য: আইরীন নিয়াজী মান্না

আইরীন নিয়াজী মান্না | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৮:২২ পিএম, ৫ মে ২০২৬ মঙ্গলবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

সারা এবার ও-লেভেল পরীক্ষা দিচ্ছে। পড়াশোনার চাপ অনেক। তাই প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে কিছুক্ষণ বারান্দায় দাঁড়িয়ে খোলা বাতাস নেয় সে। এতে মনটা ফুরফুরে হয়, পড়ায়ও মন বসে।

সেদিনও ভোরে ঘুম ভাঙতেই সারা নিঃশব্দে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। আকাশে তখন হালকা আলো ফুটছে। পূব আকাশে লালচে আভা। ওদের উঠোনের বিশাল আম গাছটার ফাঁক দিয়ে সে আভা দেখা যাচ্ছে। গাছে গাছে পাখিরা ডাকছে।

হঠাৎ বারান্দার এক কোণে তার চোখ আটকে গেল। একটি ছোট্ট নীল পাখি গুটিসুটি মেরে বসে আছে।

পাখিটিকে দেখে প্রথমে খুব সুন্দর লাগল সারার। কিন্তু কাছে যেতেই তার বুক কেঁপে উঠল। পাখিটির ডানায় রক্ত লেগে আছে।

‘আহা! তুমি তো অসুস্থ!’ ফিসফিস করে বলল সারা।

খুব সাবধানে পাখিটিকে কোলে তুলে নিল সে। আশ্চর্য! পাখিটি একটুও ভয় পেল না।

বরং খুব মৃদু স্বরে বলল, একটু আস্তে ধরো, খুব ব্যথা পাচ্ছি।

সারা থমকে গেল। সে কি ঠিক শুনেছে? পাখিটা কথা বলল?

আবারও পাখিটি বলল, ভয় পেয়ো না। আমি তোমাকে কিছু করব না।

সারার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল। সে তাড়াতাড়ি চিৎকার করে ডাকল, রায়ান! রায়ান! তাড়াতাড়ি আয়!

ছোট ভাই রায়ান তখনো আধোঘুমে ছিল। দৌড়ে এসে বলল, কী হয়েছে আপু?

সারার কোলে পাখিটিকে দেখে সে তো অবাক।

তারপর যখন পাখিটি বলল, হ্যালো রায়ান, কেমন আছো?

রায়ান এমন লাফ দিল যে প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।

: আপু! পাখি কথা বলে!

সারা ফিসফিস করে বলল, আমিও তো সেটাই ভাবছি!

দুজন মিলে পাখিটিকে ঘরে নিয়ে এল। সারা তুলো আর গরম পানি দিয়ে পাখিটির ডানা পরিষ্কার করল। রায়ান ফার্স্ট এইড বক্স থেকে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম এনে দিল। পাখিটি কুঁকড়ে গেল।

: উফ! একটু আস্তে! এটা জ্বালা করছে!

রায়ান বলল, দুঃখিত, মিস্টার পাখি!

পাখিটি হেসে বলল, আমার নাম মিস্টার পাখি না। আমার নাম নীলয়।

রায়ান চোখ গোল করে বলল, পাখির আবার নাম নীলয় হয় নাকি?

পাখিটি গম্ভীর মুখে বলল, কেন? তোমাদের নাম থাকতে পারে, আর আমাদের থাকতে পারবে না?

রায়ান মাথা চুলকালো। সারা রান্নাঘর থেকে কিছু ভাত আর বিস্কুট এনে দিল। পাখিটি খাবারের দিকে তাকিয়ে মুখ বাঁকাল।

: আমি এই খাবার পছন্দ করি না।

রায়ান বলল, তাহলে কী খাও তুমি? বিরিয়ানি?

পাখিটি বলল, না। আমি খাই রংধনু বেরি।

: রংধনু বেরি আবার কী? বিস্ময়ে জিজ্ঞেস করল সারা।

পাখিটি একটু ইতস্তত করে বলল, আচ্ছা, তোমাদের সব খুলেই বলি। আমি এই পৃথিবীর সাধারণ পাখি নই। আমি এসেছি মেঘরাজ্য থেকে।

সারা আর রায়ান একসঙ্গে বলে উঠল, মেঘরাজ্য!

নীলয় মাথা নেড়ে বলল, হ্যাঁ। আকাশের অনেক ওপরে, যেখানে সাদা মেঘের ভেতর লুকিয়ে আছে আমাদের রাজ্য। আমরা নীলপাখিরা সেখানে থাকি।

রায়ান উত্তেজনায় প্রায় লাফিয়ে উঠল।

: সত্যি?

: একদম সত্যি। গতকাল ঝড়ের মধ্যে পথ হারিয়ে নিচে পড়ে যাই। তখনই ডানায় আঘাত পাই।

সারা অবাক হয়ে শুনছিল।

নীলয় বলল, যদি আমি আজ সূর্যাস্তের আগে মেঘরাজ্যে ফিরতে না পারি, তাহলে আমাদের রাজ্যের দরজা এক বছরের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে।

সারা বলল, তাহলে তো তোমাকে ফিরতেই হবে!

: কিন্তু উড়তে পারছি না, মন খারাপ করে বলল নীলয়।

সারা কিছুক্ষণ ভাবল। হঠাৎ তার মাথায় বুদ্ধি এল।

: রায়ান! আমাদের যে বড় ঘুড়িটা আছে, সেটা নিয়ে আয়!

রায়ান দৌড়ে গেল। দুজন মিলে ঘুড়ির সঙ্গে নরম কাপড় দিয়ে ছোট্ট একটি আসন বানাল।

সারা বলল, বাতাস আজ বেশ জোরে। আমরা যদি ছাদ থেকে এটা উড়াই, তুমি হয়তো ওপরে উঠতে পারবে।

নীলয়ের চোখ চকচক করে উঠল।

: দারুণ বুদ্ধি!

বিকেলে তারা ছাদে উঠল। আকাশ তখন সোনালি আলোতে ঝলমল করছে। নীলয় ঘুড়ির আসনে বসল।

রায়ান সুতো ধরল, সারা ঘুড়ি ছাড়ল। এক ঝাপটা বাতাস এসে ঘুড়িটাকে উঁচুতে তুলে নিল। আর ঠিক তখনই নীলয়ের ডানা থেকে নীলচে আলো বেরোতে শুরু করল।

সে আনন্দে চিৎকার করে উঠল,
: আমি পারছি! আমার ডানা সেরে গেছে!

নীলয় ঘুড়ি থেকে লাফিয়ে আকাশে ডানা মেলল। তার চারপাশে ঝিকিমিকি নীল আলো। মুহূর্তের মধ্যে আকাশে খুলে গেল রুপালি মেঘের দরজা। ভেতর থেকে ভেসে এল মিষ্টি সুর।

নীলয় নিচে তাকিয়ে বলল, সারা, রায়ান, তোমরা আমার জীবন বাঁচিয়েছো। তোমাদের জন্য একটা উপহার রেখে গেলাম।

সে ডানা ঝাপটাতেই দুটি ছোট্ট নীল পালক ভেসে নেমে এল।

: যখনই আমাকে দরকার হবে, এই পালক জানালার পাশে রাখবে।

এই বলে নীলয় মেঘের দরজার ভেতর মিলিয়ে গেল। সারা আর রায়ান অনেকক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল।

সেদিন রাতেই সারা পড়তে বসে অবাক হয়ে দেখল। সব কঠিন অঙ্ক যেন হঠাৎ খুব সহজ লাগছে ওর কাছে।

আর রায়ান? সে তার নীল পালকটা বালিশের নিচে রেখে ঘুমাল। কারণ সে জানে, কোথাও না কোথাও, মেঘের ওপারে, ওদের পাখি বন্ধু নীলয় উড়ে বেড়াচ্ছে।