ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৯, জুলাই ২০২৬ ১২:৫৯:২২ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ৭০ বছর পর ব্রিটিশ নারীর সাজা পরিবর্তন এক দশকে ১৫শ নরমাল ডেলিভারি করিয়েছেন লিলি শিক্ষক পদে ৪৬ হাজার পরীক্ষার্থীর ফল পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ আজ চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন আয়াতুল্লাহ খামেনি সংবিধানে ফিরলো গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হচ্ছেন আইরিন খান বান্দরবানে পাহাড়ধস, ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুসহ ৫ জনের প্রাণহানি

জেনে নিন জাপানিদের দীর্ঘ জীবনের রহস্য কী

স্বাস্থ্য ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:২২ এএম, ৯ জুলাই ২০২৬ বৃহস্পতিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘায়ু মানুষের দেশ হিসেবে জাপানের সুনাম বহুদিনের। দেশটিতে শতবর্ষ পার করেও সুস্থ, কর্মক্ষম ও সক্রিয় জীবনযাপন করেন এমন মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখে তাদের সুষম খাদ্যাভ্যাস, পরিমিত আহার এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা।

জাপানিদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় তেলযুক্ত সামুদ্রিক মাছ, সয়া-জাতীয় খাবার, সবুজ শাকসবজি, মিষ্টি আলু এবং গ্রিন টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। পাশাপাশি তারা 'হারা হাচি বু' নীতি অনুসরণ করেন, যার অর্থ হলো পেটের প্রায় ৮০ শতাংশ ভরে খাওয়া। অতিরিক্ত খাবার এড়িয়ে চলার এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়ক বলে মনে করা হয়।

এ ছাড়া জাপানের জনপ্রিয় ফারমেন্টেড বা গাঁজন করা খাবারগুলোও স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গাঁজন করা বাঁধাকপিতে থাকা প্রোবায়োটিক অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এতে থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং কোষের ক্ষয় কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

কুজু গাছের শিকড় থেকে তৈরি উপাদানও জাপানি রান্নায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি বিভিন্ন স্যুপ ও সস ঘন করতে ব্যবহৃত হলেও হজমের সমস্যা কমানো এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

অন্যদিকে, চা গাছের ডাল ও কাণ্ড দিয়ে তৈরি কুকিচা চায়ে সাধারণ গ্রিন টির তুলনায় ক্যাফিনের পরিমাণ কম। এতে থাকা বিভিন্ন খনিজ, ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে সতেজ রাখতে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করতে পারে।

ফারমেন্টেড সয়াবিন দিয়ে তৈরি মিসো স্যুপও জাপানের অন্যতম জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী খাবার। এতে রয়েছে প্রোটিন, প্রোবায়োটিক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক। তবে এতে সোডিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া জাপানি প্লাম গাঁজন করে তৈরি উমেবোশিও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রোবায়োটিক হজমে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে এটি কম ক্যালোরিযুক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্যসচেতনদের কাছে জনপ্রিয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু কয়েকটি নির্দিষ্ট খাবার খেলেই দীর্ঘায়ু নিশ্চিত হয় না। দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের জন্য প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান থেকে বিরত থাকা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা। অর্থাৎ, দীর্ঘায়ুর মূল রহস্য লুকিয়ে আছে স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের মধ্যেই।