ঢাকা, রবিবার ১১, অক্টোবর ২০২৬ ৪:২০:৫৭ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জামালপুরে বাসচাপায় একসঙ্গে প্রাণ গেল শাশুড়ি-পুত্রবধূর দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিউমার্কেটে জমে উঠেছে কেনাকাটা ধস্তাধস্তির পর ধানখেতেই তাজমিনকে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন সুমন সারা দেশে বজ্র ও ভারী বৃষ্টির আভাস আজ দেশের যেসব এলাকায় দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ থাকবে না শুভ মহালয়া আজ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের স্বাস্থ্যনীতির গুরুত্বপূর্ণ দিক:প্রধানমন্ত্রী

ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে কী করবেন?

স্বাস্থ্য ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:০৯ এএম, ১০ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

সারা দেশে ক্রমাগত বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। প্রতিদিনই মানুষ মারা যাচ্ছে এই ভাইরাসে। কেউ আদরের ছেলে-মেয়ে, কেউবা আবার প্রিয় বাবা-মাকেও হারাচ্ছেন। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত ডেঙ্গুবিষয়ক সচেতনতামূলক তথ্য দেওয়া হচ্ছে, তবে নাগরিক হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব আছে নিজে নিজে যতটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা। যেন যেকোনো রোগ থেকেই আমরা নিরাপদ থাকতে পারি।

ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে কী করবেন, এই প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হলো—

সবার আগে মশা তাড়ান

ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ। এই ভাইরাস সাধারণত মশার কামড় থেকেই ছড়ায়। তাই সবার আগে কীভাবে মশা নিধন করা যায় বা জন্মাতে না দেওয়া যায়, সেটি ভাবতে হবে। এ ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. সাইফুল্লাহ বলেন, ‘যেসব স্থানে মশা ডিম পাড়ে বা শূককীট বেড়ে ওঠে, সেগুলোকে ধ্বংস করতে হবে। তাই বাড়ির আঙিনা ও ঘরের ভেতরে যেকোনো পাত্রে জমে থাকা পানি তিন দিন অন্তর ফেলে দিতে হবে।’

তার মতে, ‘প্লাস্টিকের নানা ধরনের পাত্র, কোমল পানীয়ের বোতল, কলাপসিবল গেটের নিচের অংশ, ফেলে দেওয়া টায়ারের অংশ, দইয়ের ফেলে দেওয়া পাত্র, ছাদবাগানের ফুলের টব, পানির মিটারের কাছের গর্ত, ডাবের খোসা, অব্যবহৃত কর্কশিট, সিরামিকের পাত্র, সিঁড়ির পাশের ভাঙা হাতল, যানবাহনের অংশ, গাড়ির গ্যারেজসহ অনেক কিছুতেই ডেঙ্গু মশার লার্ভা থাকে। এসব জায়গায় জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা জরুরি।’

সরকারি তথ্য মেনে চলুন

ডেঙ্গু জ্বর থেকে রক্ষা পেতে সরকার প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক তথ্য প্রদান করে থাকে। স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ওয়েবসাইট, পত্রিকা, ম্যাগাজিন ও বিভিন্ন পোস্টারসহ সচেতনতামূলক প্রচারপত্রের মাধ্যমে এসব তথ্য দেওয়া হয়।

একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সবচেয়ে জরুরি হলো সরকারের দেওয়া তথ্যগুলো মেনে চলা। মনে রাখতে হবে, একটি রাষ্ট্রে সরকার কখনোই চায় না তার জনগণ রোগে আক্রান্ত হোক। ফলে সরকারের সচেতনতামূলক তথ্যগুলো মন দিয়ে পড়ে সেই মোতাবেক চলা উচিত।

ব্যক্তিগত সচেতনতা

যেকোনো কাজই পরিশুদ্ধ হয় ব্যক্তি-সচেতনতার ওপর ভিত্তি করে। আপনি যতটা সচেতন, ঠিক ততটাই বিপদ থেকে দূরে থাকবেন। ফলে নাগরিক হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে সচেতন থাকা জরুরি। তাহলে প্রশ্ন আসতেই পারে— মশার কামড় বা মশাবাহিত রোগ থেকে ব্যক্তিগত সচেতনতায় সমাধান পাওয়া যাবে? উত্তর—হ্যাঁ।

প্রথমত, মশাবাহিত রোগ থেকে বাঁচতে আপনাকে প্রতিজ্ঞা করতে হবে আপনি কী করতে চান। মশারা যেহেতু কিছু সুগন্ধ একেবারেই অপছন্দ করে, ফলে আপনি চাইলে সেরকম সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারেন ঘরে। যেমন— সুগন্ধি তেল, ল্যাভেন্ডার, ইউক্যালিপটাস, লেমনগ্রাস ও পিপারমিন্টের গন্ধ মশা সহ্য করতে পারে না।

মশার যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে ঘুমানোর সময় ঘরের জানালা একেবারে বন্ধ করলে ঘরে বাতাস চলাচল ব্যাহত হয়। তাই সমাধান হিসেবে জানালায় লাগানোর জন্য নানা মাপের মশার জাল কিনে নেওয়া যেতে পারে।

মশা আমাদের ঘামের গন্ধ অনুসরণ করে কামড় বসায়। তাই রাতে ঘুমানোর আগে গোসল করে নিলে ঘামের গন্ধ দূর হয় এবং মশার কামড় খাওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। এ ছাড়া বিছানার চাদর, বালিশ ইত্যাদিও গন্ধমুক্ত রাখতে হবে।

ভেষজ কিছু গাছ আছে, যেগুলো ঘরে টবের মধ্যে সাজিয়ে রাখলে মশার আনাগোনা কমে। যেমন— রোজমেরি, পুদিনা, ভুঁইতুলসী, ক্যাটনিপ, রসুনগাছ ইত্যাদি।

ঘুমের আগে আলসেমি লাগলেও মশারি টানিয়ে নিন। শিশু ও বৃদ্ধদের বিছানায় মশারি টানাতে ভুলবেন না।

এছাড়াও ডেঙ্গু প্রতিরোধে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও বাড়াতে হবে। এ জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলার বিকল্প নেই। কারণ, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী হলে বিভিন্ন রোগ থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। তাই বিভিন্ন রঙের মৌসুমি ফল, শাকসবজি নিয়মিত খেলে ডেঙ্গুসহ নানা রোগ থেকে শরীরকে দূরে রাখা সম্ভব।