ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:৩৮:২৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ব্যাপক যানজট

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:০৭ এএম, ২৭ মে ২০২৬ বুধবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

ঈদুল আজহার শেষ মুহূর্তের ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে নজিরবিহীন বিপর্যয় নেমে এসেছে। এই মহাসড়কের অন্তত ৪৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এক ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

অতিরিক্ত যানবাহনের তীব্র চাপ, মুষলধারে বৃষ্টি এবং যমুনা সেতুর ওপর দফায় দফায় যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাক বিকল হওয়ার কারণে এ যানজটের সৃষ্টি হয়। এর ফলে মহাসড়কটি এখন কার্যত এক উন্মুক্ত কয়েদখানায় পরিণত হয়েছে। ঈদে ঘরমুখো লাখ লাখ মানুষকে পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় ও চরম ভোগান্তি। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীদের দুর্ভোগ এখন আকাশচুম্বী।

আজ বুধবার (২৭ মে) ভোর থেকেই যমুনা সেতুর পূর্ব পাড় টোল প্লাজা থেকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা পর্যন্ত এবং অন্য অংশে নাটিয়াপাড়া থেকে মির্জাপুরের গোড়াই পর্যন্ত এই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

হাইওয়ে পুলিশ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল মঙ্গলবার রাতভর গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা মোড় এলাকায় তীব্র যানজট ও যানবাহনের বিশৃঙ্খলা ছিল। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব এসে পড়ে টাঙ্গাইল অংশে। মহাসড়কের যমুনা সেতু থেকে মির্জাপুর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গগামী লেনে যানবাহনের মাইলের পর মাইল দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই থেকে দেলদুয়ার উপজেলার নাটিয়াপাড়া পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা থেকে যমুনা সেতু পূর্ব পাড় পর্যন্ত আরও ২৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানবাহনের এই স্থবির জটলা তৈরি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকছে শত শত দূরপাল্লার কোচ।

যমুনা সেতু সাইট অফিস সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত যানবাহনের অভূতপূর্ব চাপ সামাল দিতে মঙ্গলবার রাত ১২টা ২০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ৪ মিনিট এবং আজ বুধবার ভোর ৪টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত দুই দফায় সেতুতে একমুখী (ওয়ান-ওয়ে) যানবাহন চলাচল করানো হয়। এছাড়া মহাসড়কের মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে রাত ১২টা থেকে সকাল পর্যন্ত সেতুর ওপর ৫টি মালবাহী ও যাত্রীবাহী গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে। এতে যান চলাচল পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।

ঢাকার মৌচাক থেকে পাবনাগামী বাসযাত্রী আফাজ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গাজীপুরের চন্দ্রা থেকেই গাড়ির চাকা ঘুরছিল না। আর টাঙ্গাইলে ঢোকার পর তো পুরাই লকডাউন। দেড় ঘণ্টার রাস্তা আসতে আজ সাড়ে ৫ ঘণ্টা পার হয়ে গেল, এখনও পৌলি ব্রিজে আটকে আছি। নাটোরগামী নারী যাত্রী খোদেজা বেগম বলেন, ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছি ৯ ঘণ্টা আগে। এখনও টাঙ্গাইল জেলাই পার হতে পারলাম না। বাসের ভেতর গরমে ও মশার কামড়ে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। রাস্তায় কোনো টয়লেটের ব্যবস্থা নেই, নারীদের কষ্ট বোঝানোর মতো না।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, ভোর থেকে হঠাৎ বৃষ্টি, ঈদযাত্রার অতিরিক্ত গাড়ির চাপ এবং সেতুর ওপর পরপর ৫টি গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে এই জটলা তৈরি হয়েছে। রেকার দিয়ে বিকল গাড়িগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইলের ট্রাফিক পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো সড়ক জুড়েই যানবাহনের প্রচণ্ড চাপ রয়েছে এবং বৃষ্টির কারণে চালকেরা ধীরগতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন। হাইওয়ে ও জেলা পুলিশের শত শত সদস্য মহাসড়কে সক্রিয় আছেন এবং বেলা বাড়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করছেন।