ঢাকা, বুধবার ০৮, জুলাই ২০২৬ ৭:১৩:৩৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
বিশ্বকাপে প্রথমবার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-মিশর ফরাসি আদালতের রায়: নির্বাচনে লড়ার সুযোগ পাচ্ছেন পেন ৪ বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির আভাস, ১৭ নদীবন্দরে সতর্কতা বান্দরবানের সব পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণা ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৩৫০০ ছাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম বিশ্বকাপ থেকে রোনালদোর বিদায় পর্তুগালকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন

ঢাকায় লাখে ৬০ জনের বেশি আক্রান্ত হলেই রেড জোন

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:০১ পিএম, ১৫ জুন ২০২০ সোমবার

ঢাকায় লাখে ৬০ জনের বেশি আক্রান্ত হলেই রেড জোন

ঢাকায় লাখে ৬০ জনের বেশি আক্রান্ত হলেই রেড জোন

রাজধানীর কোনো এলাকায় গেল ১৪ দিনে প্রতিলাখে ৬০ জনের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হলেই সেটিকে রেড জোন ঘোষণা দিয়ে লকডাউন করে দেওয়া হবে।

ঢাকার বাইরের এলাকার ক্ষেত্রে সেটি ১০ জনের অধিক রোগী পাওয়া গেলে। একই সময়ে ঢাকার কোনো এলাকায় প্রতিলাখে ৩ থেকে ৫৯ রোগী এবং বাইরে তিন থেকে নয় রোগী হলেই সেটিকে ইয়েলো জোন ঘোষণা করা হবে।

আর কোনো এলাকায় লাখে তিনজনের কম করোনা রোগী শনাক্ত হলে চিহ্নিত থাকবে গ্রিন জোন হিসেবে। গত ৯ জুন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বিষয়টি চূড়ান্ত করে সরকার।

এদিকে জোন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কার্যক্রম চালু করতে গত ১০ জুন দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়রদের কাছে চিঠি পাঠায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। দেশের বিভিন্ন এলাকায় করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে ছয়টি নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে-

১. কোভিড-১৯ রোগের ঝুঁকি বিবেচনায় দেশের যে কোনো ছোট বা বড় এলাকাকে লাল, হলুদ বা সবুজ জোন হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে। জোন ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশ রিস্ক জোন বেজড কোভিড-১৯ কনটেইমেন্ট ইমপ্লেমেন্টেশন স্ট্র্যাটেজি বা অনুসরণ করে বাস্তবায়ন করতে হবে।

২. প্রাথমিকভাবে অবিলম্বে তিনটি জেলায় (গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী) এবং ঢাকা উত্তর সিটির রাজাবাজার ও দক্ষিণ সিটির ওয়ারীতে পরীক্ষামূলকভাবে জোনিং সিস্টেম বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হবে। জোন সুনির্দিষ্টভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকার কোন অংশে কার্যকর হবে এবং এর পরিধি কী হবে, তা প্রয়োজন অনুসারে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।

৩. উপরিউক্ত গাইড বা নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি কেন্দ্রীয় কারিগরি গ্রুপ গঠন করবে। পরে গাইড সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিহিত করা হবে। সব সময় হালনাগাদ গাইড অনুসরণ করে জোনিং সিস্টেম বাস্তবায়ন করতে হবে।

৪. আইনের ৩০ ধারা অনুসারে সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনের কাছে জোনিং ঘোষণার ক্ষমতা অর্পণ করা হলো। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সিভিল প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা ও সশস্ত্র বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় জোনিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবেন।

৫. বিদ্যমান বা নতুন এলাকায় জোনিং সিস্টেম প্রস্তাব বা পরিবর্তনের জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশন বা পৌরসভায় জেলা ও উপজেলায় স্থানীয় কমিটি থাকবে। বিদ্যমান কোভিড-১৯ প্রতিরোধসংক্রান্ত কমিটিগুলো এ দায়িত্ব পালন করবে। কমিটি জোনিং সিস্টেমের হালনাগাদ সংজ্ঞা ও বাস্তবায়ন কৌশল অনুসারে অব্যাহতভাবে স্থানীয় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে এবং জোনিং সিস্টেম চালু করতে হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতামত চাইবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কেন্দ্রীয় কারিগরি গ্রুপের মতামত সাপেক্ষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে।

৬. বাস্তবায়নাধীন জোন এলাকায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলাচল, ছুটি, দায়িত্ব পালন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, প্রতিষ্ঠান নির্দেশনা জারি করবে।

রেড জোনের কার্যক্রম

স্বাস্থ্যবিধি মেনে বর্ধিত শিফটে কৃষিকাজ করা যাবে। একই নিয়ম মেনে গ্রামাঞ্চলে কলকারখানা ও কৃষিপণ্য উৎপাদন কাজ করা যাবে। তবে শহরে সব বন্ধ থাকবে। বাসায় থেকেই অফিসের কাজ করতে হবে। কোনো ধরনের জনসমাবেশ করা যাবে না। কেবল অসুস্থ ব্যক্তি হাসপাতালে যেতে পারবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধু জরুরি প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হওয়া যাবে। রিকশা, ভ্যান, সিএনজি ট্যাক্সি বা নিজস্ব গাড়ি চলবে না। সড়ক, রেল ও নদীপথে জোনের ভেতরে কোনো যান চলাচল করবে না। জোনের ভেতরে ও বাইরে মালবাহী জাহাজ কেবল রাতে চলাচল করতে পারবে। মুদি দোকান, ওষুধের দোকান খোলা থাকবে। খাবারের দোকান ও রেস্টুরেন্ট শুধু হোম ডেলিভারি সার্ভিস চালু থাকবে। তবে শপিংমল, সিনেমা হল ও জিমনেসিয়াম ও বিনোদন কেন্দ্রও বন্ধ থাকবে। আর্থিক লেনদেনবিষয়ক কার্যক্রমÑ টাকা উত্তোলন ও টাকা জমাদান স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেবল এটিএমএ করা যাবে। ওই এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ রোগীর নমুনা পরীক্ষা করতে হবে। শনাক্ত রোগীরা আইসোলেশনে (বাড়িতে বা সেন্টারে) থাকতে হবে। সামাজিক দূরত্ব মেনে মসজিদ বা উপাসনালয়ে ইবাদত করা যাবে।

ইয়েলো জোনের কার্যক্রম

স্বাস্থ্যবিধি মেনে কলকারখানা ও কৃষিপণ্য উৎপাদন কারখানায় ৫০ শতাংশ কর্মী কাজ করবে এবং জনাকীর্ণ কারখানায় ৩৩ শতাংশ কর্মী বর্ধিত শিফটে কাজ করবে। বর্ধিত শিফটে কৃষিকাজ করা যাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। একই নিয়ম মেনে অফিসে কাজ করবেন ৫০ শতাংশ কর্মী। বাকিরা বাসায় থেকেই অফিসের কাজ করবেন। ৩০ জনের বেশি জনসমাবেশ করা যাবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধু প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হতে পারবে। রিকশা, ভ্যান, সিএনজি ট্যাক্সিতে একজন চলাচল করবে। নিজস্ব গাড়িতে চলাচল করা যাবে না। সড়ক, রেল ও নদীপথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করা যাবে। জোনের ভেতরে ও বাইরে মালবাহী জাহাজ কেবল রাতে চলাচল করতে পারবে। ওষুধের ও মুদি দোকান খোলা থাকবে। খাবারের দোকান ও রেস্টুরেন্ট শুধু হোম ডেলিভারি সার্ভিস চালু থাকবে। বাজারে শুধু নিত্যপ্রয়োজনে যাওয়া যাবে। তবে শপিংমল, সিনেমা হল ও জিমনেসিয়াম ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। আর্থিক লেনদেনবিষয়ক কার্যক্রম টাকা উত্তোলন ও টাকা জমাদান স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে করা যাবে। ওই এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ রোগীর নমুনা পরীক্ষা করতে হবে। শনাক্ত রোগীরা আইসোলেশনে (বাড়িতে বা সেন্টারে) থাকতে হবে। ইবাদতের বিষয়টি রেড জোনের মতোই।

গ্রিন জোনের কার্যক্রম

বর্ধিত শিফটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কৃষিকাজ, কলকারখানা ও কৃষিপণ্য উৎপাদন কাজ করবে। অফিস খোলা থাকলেও মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। ৩০ জনের বেশি জনসমাবেশ করা যাবে না। তবে প্রয়োজন ছাড়া আমোদ বা আড্ডা দেওয়ার জন্য বের হওয়া যাবে না। সড়ক, রেল ও নদীপথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করা যাবে। জোনের ভেতরে ও বাইরে মালবাহী জাহাজ চলাচল করতে পারবে। ওষুধ, মুদি, চা ও খাবারের দোকান, রেস্টুরেন্ট, বাজার খোলা রাখা যাবে। তবে বন্ধ থাকবে শপিংমল, সিনেমা হল ও জিমনেসিয়াম ও বিনোদন কেন্দ্র। আর্থিক লেনদেনবিষয়ক কার্যক্রম টাকা উত্তোলন ও টাকা জমাদান স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে করা যাবে। ওই এলাকায় রোগীর নমুনা পরীক্ষা সহজগম্যতা থাকতে হবে। শনাক্ত রোগীরা আইসোলেশনে (বাড়িতে বা সেন্টারে) থাকতে হবে। মসজিদ ও উপাসনালয়ে ইবাদত করা যাবে সামাজিক দূরত্ব মেনে।

রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত এলাকা

করোনা প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটির শনিবারের সভায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একাধিক ওয়ার্ড এবং তিন জেলার বিভিন্ন এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, জেলার জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন এবং পুলিশ সুপার মিলে এসব জোনের মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন এলাকা চিহ্নিত করবেন। জানা গেছে, ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ৪৫টি এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটির ১৭ এবং দক্ষিণ সিটির ২৮টি এলাকা আছে। আর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার ১১টি এলাকা রেড জোনের আওতায় আনা হচ্ছে। ঢাকার বাইরে জেলাপর্যায়ে নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার একাধিক উপজেলাকে রেড জোন চিহ্নিত করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি : গুলশান, বাড্ডা, ক্যান্টনমেন্ট, মহাখালী, তেজগাঁও, রামপুরা, আফতাবনগর, মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর, গুলশান, মগবাজার, এয়ারপোর্ট, বনশ্রী, রাজাবাজার, উত্তরা ও মিরপুর।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি : যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মুগদা, গে-ারিয়া, ধানম-ি, জিগাতলা, লালবাগ, আজিমপুর, বাসাবো, শান্তিনগর, পল্টন, কলাবাগান, রমনা, সূত্রাপুর, মালিবাগ, কোতোয়ালি, টিকাটুলি, মিটফোর্ড, শাহজাহানপুর, মতিঝিল, ওয়ারী, খিলগাঁও, পরিবাগ, কদমতলী, সিদ্ধেশ্বরী, লক্ষ্মীবাজার, এলিফ্যান্ট রোড ও সেগুনবাগিচা।

চট্টগ্রাম সিটি : চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড, পতেঙ্গার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড, পাহাড়তলির ১০ নম্বর ওয়ার্ড, কোতোয়ালির ১৬, ২০, ২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ড, খুলশীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ড ও হালিশহর এলাকার ২৬ নম্বর ওয়ার্ড।

ঢাকার বাইরের তিন জেলা : গাজীপুরের সবকটি উপজেলাকে রেড জোনের আওতার মধ্যে আনা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ, সদর ও পুরো সিটি এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।