ঢাকা, বুধবার ০৪, নভেম্বর ২০২৬ ২২:৩৭:৩৪ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ট্রাম্পের শক্ত ঘাঁটিতে ডেমোক্র্যাটদের চমক, সিনেটর হলেন অ্যানি আজ থেকে টানা ৪ দিন সারাদেশে গ্যাসের চাপ কম থাকবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটরা নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামে দিশাহারা নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা ঢাকায় বাস-লেগুনা সংঘর্ষে নারীসহ প্রাণ গেল ৪ জনের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ফলাফলে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা শিশু সহিংসতা রোধে কঠোর ট্রাইব্যুনাল : ৯ মাসে ২ মৃত্যুদণ্ড

দত্তকের নামে শ্রীলঙ্কা থেকে হাজারো শিশু ইউরোপে

বিবিসি | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ০৫:৩৩ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার

বিবিসি : দত্তকের নামে শ্রীলংকা থেকে হাজারো শিশু ইউরোপে পাচার করা হয়েছে। শ্রীলংকার সরকার স্বীকার করেছে ১৯৮০`র দশকে সে দেশে জন্ম নেয়া হাজার-হাজার শিশুকে জালিয়াতির মাধ্যমে দত্তক দেবার জন্য বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পরিবারগুলোর কাছে দত্তক দেবার জন্য প্রায় ১১ হাজার শিশুকে জালিয়াতির মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।
সম্প্রতি নেদারল্যান্ডের একটি প্রামাণ্য অনুষ্ঠানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সে অনুষ্ঠানে শ্রীলংকার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, জালিয়াতি করে যেসব শিশুকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দত্তক দেয়া হয়েছে, তারা যাতে নিজেদের প্রকৃত মা-বাবাকে খুঁজে পেতে পারে সেজন্য ডিএনএ তথ্যভাণ্ডার স্থাপন করা হবে।
প্রায় চার হাজার শিশুকে নেদারল্যান্ডে এবং বাকিদের সুইডেন, ডেনমার্ক, জার্মানি এবং ব্রিটেনে বিভিন্ন পরিবারের কাছে দত্তক দেয়া হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
২৭ বছর আগে এ ধরনের এক দত্তক শিশু সম্প্রতি শ্রীলংকায় এসেছিলেন তার আসল বাবা-মায়ের খোঁজে।
তিনি বর্তমানে নেদারল্যান্ড-ভিত্তিক একটি সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্কে কাজ করেন।
তাদের মূল কাজ হচ্ছে, যেসব শিশুকে দত্তক নেয়া হয়েছে তারা যাতে তাদের প্রকৃত বাবা-মাকে খুঁজে বের করতে পারে সেজন্য তাদের সহযোগিতা করা।
তিনি বলছিলেন, তারা নেদারল্যান্ডে একটি ডিএনএ তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলবেন, যাতে তারা তাদের ভাই-বোনদের খুঁজে পেতে পারে।
এ তথ্য ভাণ্ডারে ডিএনএ নমুনা দেবার জন্য সুইডেন, ডেনমার্ক এবং জার্মানিতে বসবাসরতদের আহবান জানানো হয়েছে।
২০১৬ সালে নেদারল্যান্ডের একটি আদালত সে দেশের সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে যাতে বিদেশ থেকে শিশু দত্তক আনার ব্যবস্থা বন্ধ করা হয়।
কারণ এর মাধ্যমে যেসব দেশ থেকে শিশু দত্তক আনা হয়, সেসব দেশে বিষয়টি নিয়ে অনৈতিক চর্চা হয় বলে আদালত মনে করে।
এরপর নেদারল্যান্ডের চলচ্চিত্র নির্মাতা এ অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানের জন্য নামেন।
প্রামাণ্যচিত্রের সাথে সম্পৃক্ত একজন গবেষক জানিয়েছেন, তারা এমন প্রমাণ পেয়েছেন যেখানে দেখা যাচ্ছে দত্তক নেয়া শিশুর জন্ম সনদ, নাম এবং প্রকৃত বাবা-মায়ের নাম জালিয়াতির মাধ্যমে বদলে দেয়া হচ্ছে।
শিশুদের যখন দত্তক নেয়া হচ্ছিল, তখন দত্তক গ্রহণকারী পরিবারগুলোর কাছে অনেকে নিজেদের সন্তানের বাবা-মা হিসেবে পরিচয় দিয়েছে।
এ ধরনের কাজের সাথে বিভিন্ন হাসপাতালের কিছু কর্মী এর সাথে জড়িত।
প্রমাণ চিত্রের অনুসন্ধানে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে যে একটি হাসপাতালে সন্তান জন্মদানকারী কিছু মাকে বলা হয়েছিল তারা মৃত সন্তান প্রসব করেছেন। একথা বলে তাদের সন্তানদের বিদেশে দত্তক দেবার জন্য বিক্রি করে দেয়া হয়।
প্রামাণ্য চিত্রে একজন নারী বলেছেন, এক নবজাতকে মা হিসেবে পরিচয় দেবার জন্য তাকে দুই হাজার রুপি দেয়া হয়েছিল।
তবে অনেকে স্বেচ্ছায় সন্তাদের দত্তক দিয়েছেন। এ রকম এক মা রেণুকা অভিসিংহে বলেন, " আমি আমার সন্তানকে আবার দেখলে খুব খুশি হবো। আমরা তাকে দত্তক দিয়েছিলাম। গরিব হওয়ার কারণে তাকে লালন-পালনের উপায় ছিল না। বলা হয়েছিল, আমার মেয়েকে জার্মানিতে নেয়া হবে। এরপর থেকে আর কোন খবর নেই।"

এই বিভাগের জনপ্রিয়