ঢাকা, রবিবার ১১, অক্টোবর ২০২৬ ৪:২৪:৪১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জামালপুরে বাসচাপায় একসঙ্গে প্রাণ গেল শাশুড়ি-পুত্রবধূর দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিউমার্কেটে জমে উঠেছে কেনাকাটা ধস্তাধস্তির পর ধানখেতেই তাজমিনকে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন সুমন সারা দেশে বজ্র ও ভারী বৃষ্টির আভাস আজ দেশের যেসব এলাকায় দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ থাকবে না শুভ মহালয়া আজ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের স্বাস্থ্যনীতির গুরুত্বপূর্ণ দিক:প্রধানমন্ত্রী

ধস্তাধস্তির পর ধানখেতেই তাজমিনকে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন সুমন

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:২৯ এএম, ১০ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৩) গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সিএনজিচালক সুমন। ধানখেতে নিয়ে যাওয়ার পর ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।


শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।


পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাজমিনের মুঠোফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করেও ঘটনার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল ধানখেতে ধস্তাধস্তির আলামত মিলেছে। পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সুমন একাই তাজমিনকে ধানখেতে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন। হত্যার কারণও অনেকটা স্পষ্ট হয়েছে বলে জানান তিনি।


পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) গভীর রাতে বাস থেকে নেমে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার জন্য সুমনের অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে সর্বশেষ কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়।


অভিযোগ অনুযায়ী, গভীর রাতে কিশোরীকে একা পেয়ে সুমন শহরের দিকে না গিয়ে উল্টো পথে অটোরিকশা চালাতে থাকেন। বিজরা, রসুলপুর ও শিকারীপাড়া হয়ে তিনি লালমাই উপজেলার জগতপুরের একটি ধানখেতের দিকে যান।


বিষয়টি বুঝতে পেরে চলন্ত অটোরিকশা থেকেই রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে লাইভ লোকেশন ও বার্তা পাঠিয়ে উদ্ধারের আকুতি জানায় তাজমিন। তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় তার বাবা বার্তাটি দেখতে পাননি। পরে জগতপুরের ধানখেতে পৌঁছালে আত্মরক্ষার জন্য পালানোর চেষ্টা করে তাজমিন। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।


পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের পাশে অটোরিকশাটিও পড়ে ছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে তার পরিচয় শনাক্ত করেন।


এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্তে সুমনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।


নিহত জান্নাতুল তাজমিন কুমিল্লা নগরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর স্কুলে উপস্থিত হয়নি। তার বাবা আব্দুল আলিম একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। পরিবার নিয়ে তারা কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামে।


এর আগে গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে বুধবার রাতে বাসায় ফেরার পথে সিএনজিচালকের অটোরিকশায় ওঠার পর এই মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হয় সে।