ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯, জানুয়ারি ২০২৬ ১:৪৬:৫৭ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সারা দেশে অবাধে শিকার ও বিক্রি হচ্ছে শীতের পাখি ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে এখন পর্যন্ত ১৩ লাখ নিবন্ধন নারী, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বিষয়ে ১০ দফা সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার কাছে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ ইরানের পরিস্থিতি খারাপ হলে কঠোর হবে তুরস্ক

নিয়ন্ত্রণ এখন অন্য কারও

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:২৮ এএম, ১ জানুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

হুট করে না বুঝে, না জেনে অ্যাপ ডাউনলোড করার অভ্যাস রয়েছে অনেকেরই। কিন্তু সেই অ্যাপের ভেতরে কোনো গোপন প্রতারণার কৌশল লুকিয়ে আছে কিনা, তা নিয়ে খুব বেশি ভাবেন না। সাইবার চক্র ঠিক এমন দুর্বলতার অপেক্ষা করে সব সময়।

বয়স্কদের সঙ্গে এমন প্রতারণার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে। কখনও ব্যাংক থেকে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়া, কখনও আবার পুলিশের নামে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে কয়েক ধরনের অ্যাপ ফোনে ইনস্টল করিয়ে দেওয়ার নামে চলছে বিশেষ ধরনের প্রতারণা।

বিগত কয়েক মাসে এমন বেশ কয়েকটি প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, অপরাধীরা কোনো না কোনোভাবে নানা ছদ্মবেশে মিরর অ্যাপ ডাউনলোড করিয়ে দিচ্ছে ডিভাইসে। বিশ্বের কয়েকটি দেশের রাজধানীতে এ রকম অ্যাপ ডাউনলোডের ঘটনা আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অন্য সব ইনফরমেশন বা কোনো ওটিপি জানতে না চেয়ে বেশ কিছু অ্যাপ টার্গেট করা ব্যক্তির ডিভাইসে ইনস্টল করতে বলা হয়েছে। একে বিশেষজ্ঞরা বলছেন মিরর অ্যাপ্লিকেশন।

এ ধরনের অ্যাপ যে কারও ডিভাইসে আয়না হিসেবে সক্রিয় হয়।

প্রধানত এটি সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হলেও এখন তা অনেকের জন্য সমস্যার কারণ হয়েছে। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের ঠকানোর জন্য এই প্রযুক্তি বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।

কারণ ছাড়া কোনোভাবে এই অ্যাপ নিজের ডিভাইসে ব্যবহার করা শুরু করলে অন্য প্রান্তে থাকা ছদ্মবেশী সহজেই যে কোনো ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। এরপর ক্রেডিট কার্ডের লিমিট, বিদ্যুতের বিল দেওয়া বা ঋণ দেওয়ার নামে প্রথম ধাপে টার্গেট ব্যক্তির আস্থা অর্জনে কাজ করবে। কাউকে এই চক্রান্তে একবার ধরাশায়ী করতে পারলে শুরু হবে পরের কৌশল। ক্রমে বেড়ে যাবে অর্থ লেনদেনের পরিমাণ।

সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত তিনটি অ্যাপ কাজ করে মিরর অ্যাপ হিসেবে। যেমন– অ্যানি ডেস্ক, টিম ভিউয়ার ও মিঙ্গল ডেস্ক। এসব অ্যাপ্লিকেশন একবার কারও ডিভাইসে ইনস্টল করা হলে প্রযুক্তির সহায়তায় ওই ডিভাইস বা পিসিকে নিয়ন্ত্রণ করে প্রতারক চক্র।

ফলে ওই ফোন থেকে অন্যকে কল করা থেকে শুরু করে যেসব কাজ করবেন, তার সবই জেনে যাবে ওই প্রান্তে থাকা ব্যক্তিটি। এমনকি ব্যাংক লেনদেন করার সময়ে সেই ডিভাইসে আসা ওটিপি জেনে যাবে চক্রটি।

ভুল করেও যদি এই অ্যাপ ডাউনলোড করে ফেলেন, তাহলে কিছু বিষয় নজরে রাখতে হবে। আর তা হচ্ছে– যে কোনো অ্যাপ ইনস্টল করলে সে জন্য বেশ কিছু অনুমতির (পারমিশন) ক্ষেত্রে ওকে করতে হবে। ঠিক সেই মুহূর্তেই ওই অ্যাপ অতি গোপনে আক্রান্ত ডিভাইস থেকে কয়েক ধরনের তথ্য চুরি করার কাজ শুরু করবে। এতে সব জানতে পারে অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি। সুরক্ষা পেতে কাজ করবে বিশেষ পদ্ধতি।

অ্যাপ ইনস্টল করার সময় না বুঝে কোনো অনুমতি দেওয়া যাবে না। কারণ, শুরুতেই যদি ভুল করেও এমনটা করা হয়, এতে পরে কিছুই আর করার থাকবে না। জানা গেছে, বিশ্বের কয়েকটি রাজধানীতে বেশ কিছু প্রবীণ নাগরিককে আকর্ষণীয় সুবিধা দেওয়ার কথা বলে কিছু অ্যাপ ডাউনলোড করার পরামর্শ দেওয়া হয়। যখন তারা চক্রান্তে পড়েছেন, ততদিনে অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ খোয়া গেছে।

শনাক্ত করা এমন বেশ কিছু অ্যাপ প্লে স্টোরে জায়গা করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানান। ফলে সেখান থেকেও কোনো অ্যাপ ইনস্টল করতে হলে অবশ্যই এর আগে রিভিউ যাচাই করতে হবে। যদি ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ কেউ নিয়েছে বলে শঙ্কা তৈরি হয়, সে ক্ষেত্রে দ্রুত ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সিকিউরিটির সব ধরনের পদ্ধতি পরীক্ষা করে নিতে হবে।