ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ১২:০২:৫৩ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

নীরবতার প্রশ্নে রাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা

অনু সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৩৩ পিএম, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ রবিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর হত্যাকাণ্ড—আর তা ঘিরে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা—প্রশ্ন তুলছে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধ, কূটনৈতিক সক্রিয়তা ও প্রবাসী সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে।

প্রথমত, এমন একটি ঘটনার পর সাধারণত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অন্তত একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া, শোকবার্তা কিংবা তদন্তের অগ্রগতি জানার আগ্রহ প্রকাশ প্রত্যাশিত। কিন্তু দৃশ্যত সেই প্রতিক্রিয়ার অভাব নাগরিকদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করছে। বিশেষ করে যখন ঘটনাটি বিদেশের মাটিতে, তখন দূতাবাসের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কাজ শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা নয়; প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা ও সংকট মুহূর্তে পাশে দাঁড়ানোও এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এমন পরিস্থিতিতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রকাশ্য বিবৃতি না আসা বা দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগের অভাব—এটা কি কৌশলগত নীরবতা, নাকি সমন্বয়হীনতা?

একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে—যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ হয়তো প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে সতর্কতা অবলম্বন করছে। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এমন সংবেদনশীল ঘটনায় অতিরিক্ত মন্তব্য কখনো কখনো তদন্তে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে, সতর্কতা মানেই সম্পূর্ণ নীরবতা নয়; মানবিক ও কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করা সবসময়ই সম্ভব।

দ্বিতীয়ত, এই নীরবতা প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। তারা প্রশ্ন তুলতে পারেন—সংকটের সময়ে রাষ্ট্র তাদের পাশে কতটা দৃশ্যমানভাবে দাঁড়াবে? একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র তার নাগরিকদের প্রতি দায়বদ্ধতা শুধু দেশের ভেতরে নয়, দেশের বাইরেও সমানভাবে বহন করে।

তৃতীয়ত, তথ্যপ্রবাহের ঘাটতিও একটি বড় কারণ হতে পারে। অনেক সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বা তথ্য যাচাইয়ের দীর্ঘসূত্রতা কারণে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিতে দেরি হয়। তবে বর্তমান দ্রুতগতির তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এ ধরনের বিলম্ব জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রয়োজন—দ্রুত, স্বচ্ছ ও সংবেদনশীল যোগাযোগ। অন্তত একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি, যেখানে নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ, ঘটনার প্রতি উদ্বেগ এবং তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস থাকবে—এটাই হতে পারত একটি দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।

সবশেষে, এই ঘটনা শুধু একটি অপরাধ নয়; এটি প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের কূটনৈতিক উপস্থিতির একটি পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় সফল হতে হলে নীরবতা ভেঙে দৃশ্যমান, মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়াই এখন সময়ের দাবি।