ঢাকা, শুক্রবার ১০, জুলাই ২০২৬ ১:১৮:২৭ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধে অংশ নেবে না ইতালি: মেলোনি শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টায় কূটনৈতিক ঘাটতি নেই: শামা ওবায়েদ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ৭০ বছর পর ব্রিটিশ নারীর সাজা পরিবর্তন শিক্ষক পদে ৪৬ হাজার পরীক্ষার্থীর ফল পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হচ্ছেন আইরিন খান বান্দরবানে পাহাড়ধস, ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুসহ ৫ জনের প্রাণহানি

বাসায় গিয়ে প্রয়াত রবিউল হুসাইনকে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৬:৪১ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও স্থপতি প্রয়াত রবিউল হুসাইনের বাসায় গিয়ে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) বিকালে এই কবি ও স্থপতির বাসায় গিয়ে কিছু সময় অবস্থান করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রবিউল হুসাইনের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান ও সান্ত্বনা দেন এবং তার রূহের মাগফিরাত কামনা করেন।

এর আগে, এক শোকবার্তায় রবিউল হুসাইনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, তার মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন দেশপ্রেমিক ও বহুগুণে গুণান্বিত এক ব্যক্তিকে হারালো।

শেখ হাসিনা বলেন, রবিউল হুসাইন একাধারে স্থপতি, কবি, শিল্প-সমালোচক, ছোট গল্প লেখক, প্রবন্ধকার ও সাংস্কৃতিক কর্মী ছিলেন। পেশাগত দিক থেকে স্থপতি হলেও রবিউল হুসাইন বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। রবিউল হুসাইন তার কাজের মধ্য দিয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিউল হুসাইন মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ও ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

প্রসঙ্গত, ভাষা ও সাহিত্যে অবদান রাখায় ২০১৮ সালে একুশে পদক পান কবি ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি, স্থপতি রবিউল হুসাইন। তিনি একাধারে স্থপতি, কবি, শিল্প-সমালোচক, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক ও সংস্কৃতিকর্মী। পেশা স্থাপত্যশিল্প হলেও সম্পৃক্ততা ছিল বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষকও ছিলেন তিনি।

রবিউল হুসাইনের জন্ম ১৯৪৩ সালে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলায়। কুষ্টিয়ায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে তিনি ভর্তি হন ইস্ট পাকিস্তান ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজির (বর্তমান বুয়েট) আর্কিটেকচার ফ্যাকাল্টিতে। ছাত্রজীবনেই তার বেশ কিছু লেখা প্রকাশিত হয় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস মিলিয়ে দুই ডজনের বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে তার।

রবিউল হুসাইনের নকশায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তি ও স্বাধীনতা তোরণ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় গেইট, ভাসানি হল, বঙ্গবন্ধু হল, শেখ হাসিনা হল, খালেদা জিয়া হল, ওয়াজেদ মিয়া সায়েন্স কমপ্লেক্স, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়াম ও একাডেমিক ভবন কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে।

বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য রবিউল শিশু কিশোর সংগঠন কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর, ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ক্রিটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।

রবিউল হুসাইনের লেখা উল্লেখযোগ্য বই হলো- ‘কী আছে এই অন্ধকারের গভীরে’, ‘আরও ঊনত্রিশটি চাঁদ’, ‘স্থিরবিন্দুর মোহন সংকট’, ‘কর্পূরের ডানাঅলা পাখি’, ‘আমগ্ন কাটাকুটি খেলা’, ‘বিষুবরেখা’, ‘দুর্দান্ত’, ‘অমনিবাস’, ‘কবিতাপুঞ্জ’, ‘স্বপ্নের সাহসী মানুষেরা’, ‘যে নদী রাত্রির’, ‘এইসব নীল অপমান’, ‘অপ্রয়োজনীয় প্রবন্ধ’, ‘দুরন্ত কিশোর’, ‘বাংলাদেশের স্থাপত্য সংস্কৃতি’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘গল্পগাথা’, ‘ছড়িয়ে দিলাম ছড়াগুলি’ ইত্যাদি।

-জেডসি