বিকলাঙ্গ জাতি-প্রতিবন্ধী বিবেক
আপডেট: ১১:৩৪ এএম, ২০ এপ্রিল ২০১৫ সোমবার
নাদিরা কিরণ : বাংলা বর্ষের পহেলা দিনটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া বর্বরতার ঘটনা আবারও প্রমাণ করলো সভ্যতার পোষাকের আবরণে কিছুতেই ঢাকা যাচ্ছেনা এদেশের পুরুষের কাম-ক্রোধ-লালসার অবয়বটাকে। নারীর প্রতি আদিম তাড়ণা, লোলুপ দৃষ্টি আর অসভ্যতায় কলুষিত মনটা পর্দার আড়াল থেকে বেড়িয়ে পড়ছে বারবার। লালসার লক্ লকে জিহবা মুখ গহবরে কিছুতেই যেন থাকতে চাইছেনা আর। নারী মানুষ নয়, সে কেবলই ভোগ্যপণ্য, কামনার খোরাক, তাদের সঙ্গে যা ইচ্ছা তাই করা চলে-এমন চিন্তা-পুষ্ট কতোগুলো পুরুষের পৈশাচিকতার শিকার হলো কয়েকজন নারী। কিন্তু এ বিকৃত চিন্তা-ধারণার বাহক কি কেবল এই পুরুষ গুলোই? ঐ ঘটনা যারা অবলোকণ করলো তারা কি এই ধ্যান-ধারণার বাইরে? কতগুলো কামুক পুরুষের বর্বরতা ঠেকানোর জন্যে ওখানে, ঐ গোটা শাহবাগ, চারুকলা, টিএসসি তে আর কতো পুরুষের জমায়েত দরকার পড়তো? সবার সঙ্গেই কি শিশু বা বয়স্ক মা ছিলো যে তাদের হাত ছাড়া করে বিপদে ফেলতে চাননি? বোন, বৌ বা বান্ধবী যারাই সঙ্গে থাকুন, নিরাপদ দুরত্বে সরিয়ে দিয়ে কেনো তারা ফিরে এলেন না অসহায় মেয়েগুলোকে বাচাঁতে? নিজে না সাহস পান,একা লিটন যখন সাহস করে এগিয়ে গেলো ওতোগুলো নরপশুকে ঠেকাতে, আরো কয়েকজন লিটনের বিবেক কেনো জাগ্রত হলোনা? কেনো এগিয়ে গেলেননা তারা? মুখ লুকিয়ে, পাশ কাটিয়ে গেলেন তারা। আর থেকে গেলো সেই সব পুরুষ যারা ঐ ঘটনার সুত্রপাতে ভুমিকা না রাখতে পারলেও শেষতক বর্বরতায় শামিল থেকে পুষিয়ে নিতে কার্পণ্য করেনি পৌরষত্যের আদিম বাসনা।
টানা ঘন্টা খানেকেরও বেশী সময় ধরে কিছু উচ্ছৃঙ্খল মানুষের নারকীয় বর্বরতার সঙ্গে যারা সামিল হননি। তবে দাড়িয়ে দেখেছেন, তাদের বিবেক লুকিয়ে ছিলো কোন আঁচলের তলে? তারা কি নপুংসক? যদি তাই হয়। তাহলে বলার কিছু নেই। তবু আফসোস করে শান্তনা পেতে পারতাম, উল্লাসের ভিড়ে সত্যিকারের পুরুষ গুলো হয়তো সরে গিয়েছিলো অন্যত্র। আর ভুল করে কিছু নপুংসকের দল এসে পড়েছিলো সেখানে, যেখানে কতগুলো নরপশুরা মেতেছিলো কামনার উদ্যামতায়। আর কিছু করার মুরোদ না থাকায় অসহায় নপুংসকেরা লালসার জিহবায় লেহন করছিলো সেই দৃশ্য। নাহলে জোরপুর্বব নারীকে অর্ধনগ্ন করার দৃশ্য
দেখেও কেনো বিবেক তাড়িত করেনি তাদের? আমরা কি বিকলাঙ্গ জাতিতে পরিনত হচ্ছি? প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ছে কি গোটা জাতির বিবেক? নাহলে নির্লিপ্ত কেন আমরা?
বাংলা নববর্ষের প্রাণের মেলার মুল আয়োজন যে এলাকায়, বাঙ্গালীর ঐতিহ্য - সংস্কৃতির আনন্দযজ্ঞে শামিল হতে এতো মানুষের মিলন মেলা যে চত্বরে, সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তার বিষয়টিও কতটা নাজুক তাও প্রকট হয়ে জানান দিলো আবার। মাত্র কিছুদিন আগে ব্লগার অভিজিৎ হত্যাকান্ডের সময় স্ত্রী রাফিদার চিৎকারের পরও দীর্ঘসময় পুলিশের অনুপস্থিতি যেমন প্রশ্ন তুলেছিলো। পরে আহত অবস্থায় পড়ে থাকা অভিজিৎকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাফিদার আকুতি স্বত্ত্বেও পাশে দাড়িয়ে থাকা পুলিশটির নিরব ভুমিকাও প্রশ্ন তৈরী করেছিলো স্বাভাবিকভাবেই। সেই পুলিশটির দ্বায়িত্ব তবে কি ছিলো? খুনীদের ধরতে না পারলেও মানুষের বিপদে তাকে সাহায্য করবেনা? আহত অভিজিৎকে হাসপাতালে নিতে তার এক ডাকেইতো যেকোন গাড়ি দাড়িয়ে যেত। এসব বিশ্ময়বোধক প্রশ্নগুলো পাক খেতে খেতেই আবার সেই চত্বরে বিকেলের ষ্পষ্ট আলোতে এ তান্ডব! সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে ঘটনাস্থলে জটলা দেখে স্পষ্ট বোঝা যায় তা পরিকল্পনা করে ইচ্ছাকৃতভাবে সৃষ্টি করা হচ্ছিলো। পাশে পুলিশের উপস্থিতিও চোখে পড়ছিলো অনায়াসে । দীর্ঘসময় ধরে এমন অপকর্ম করার অপচেষ্টার সময় অদুরে লাঠি তুলে কিছুটা দায়সারা ভীড় ঠেলার মত কর্মকান্ড করেই ান্ত ছিলেন তারা। সিসি ক্যামেরায় শব্দ না এলেও উল্লাস আর হুলুস্থুলের শব্দ আর মেয়েদের আর্ত-চিৎকার কি কানে প্রবেশ করেনি তাদের?এতো নির্লিপ্ত ছিলেন তারা কিভাবে? কোথাও কোথাও পুলিশি উপস্থিতিও নেই। এতো বিশাল জন সমাবেশে তাহলে নিরাপত্তা ব্যবস্থাটা কি ছিলো? পুলিশের উধ্ধতন কর্মকর্তাদের প্রশ্ন করলেই নিছ্দ্রি নিরাপত্তার কথা বলেন। এ নিছ্দ্রি নিরাপত্তার বলতে তাহলে তারা কি বোঝান?
দায় এড়াতে পারেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে উপাচার্য ও। শিার পাদপীঠ, বাঙ্গালীর সংস্কৃতির চর্চাকেন্দ্র , বাংলা ও বাঙ্গালীত্ব সৃষ্টির ইতিহাসে অন্যতম প্রধান স্বার রাখা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক ঘটনা ঘটছে। তিনি কতটা সোচ্চার হয়েছেন? কেবল গনমাধ্যমে -ন্যাক্কারজনক ঘটনা, দোষীদের শাস্তি দিতে হবে -এমন বক্তব্য দিয়েই দায় সারা কি তার চলে? এ পাদপীঠকে এভাবে কলঙ্কিত করতে না পারে সেজন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য কেন তিনি সোচ্চার হননি? কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিকদের জড়ো করেননি-কেন জবাব চাননি - কয়েকজনকে ধরার পরও পুলিশ কেন তাদের ছেড়ে দিলো? তাদের শক্তির খুঁটি কোথায়? যে দলেরই হোক। অপরাধী অপরাধীই। তার জন্যে কোন ছাড় চলবেনা। এমন জোরালো ভুমিকা কেনো আসেনি তাঁর
কাছ থেকে? কেনো কিসের মোহে? উচ্চ শিার উচ্চাসনের চেয়ে মর্যাদার চেয়ে আরো কত বড় আসনের লোভে? এসব ঘটনার পরও সে আসনের মর্যাদাও কি থাকে? আর কতো ঘটনা ঘটলে তাঁর টনক নড়বে?
একই দিনে জগন্নাথ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও নারী শ্লীলতাহানীর ঘটনা ঘটেছে। সুতরাং এ ঘটনায় কয়েকদিন প্রতিবাদ, মিছিল আর টক শো’তে আলোচনা করে তীব্র প্রতিবাদ প্রকাশেই ক্ষান্ত হলে চলবেনা আর। প্রয়োজন একটি সংঘবদ্ধ আন্দোলনের। কেবল নারী সমাজ নয়, সচেতন সকল পুরুষদের শামিল হতে হবে সেই জমায়েতে। নিজেকে ঐসব নরপশু ও নপুংসকদের থেকে আলাদা করে তোলার জন্যেই এটা জরুরী। দরকার আরেকটি জাগরনী মঞ্চ করার। প্রকম্পিত চিৎকার তোলা উচিৎ এর বিরুদ্ধে। অপরাধীদের গ্রেফতার করে সাজা না দেয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে নারী নির্যাতনকারীদের হাতেনাতে ধরে এদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য কঠোর আইন ও বিধিমালা চাইতে হবে। নতুবা অনেকে ক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া ঘটনার ভিক্টিম মেয়ে বা তার পরিবার গুলোকে অনেক সময় নানা হুমকি ও জীবন নাশের ঘটনাও ঘটতে পারে। সুতরাং আসুন, আমরা সামিল হই সেই মিছিলে। কাতারে কাতারে। আমাদের কারো ভুলে গেলে চলবেনা-এ বর্বরতা কেবল নারীর সম্ভ্রম কেড়ে নেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বাঙ্গালীর ঐতিহ্য-সংস্কৃতি হরন করার জন্যেও এ অপতৎপরতা। আমাদের সংস্কৃতিকে বিলিন করে , আমাদের মুক্ত চিন্তাবোধকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রের বীজ ছড়িয়ে দিতে চাইছে তারা। নারীরা ঘরে ঢুকবে, প্রভাত ফেরী বা আনন্দ মিছিল হবেনা, ভোরের রাগ-ভৈরবী চলবেনা -এমন আরো আরো অনেক অনেক ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকবে সেই অপশক্তি গুলো। তাই সকল সচেতন মানুষ পথে আসুন, আসুন মিছিলে, দলে দলে। জেলায় জেলায় সংঘবদ্ধ হোন। এর বিহিত না করে এ মিছিল হবেনা শেষ। - ঢাকায় স্ত্রী হত্যায় স্বামীর ফাঁসির রায়
- অভিনেত্রী কাজলের ভিডিও ফাঁস
- দেশে দেশে শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কড়াকড়ি
- বর্ষায় পাটশাক খেলে মিলবে ৬ স্বাস্থ্য উপকারিতা
- গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ
- অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তান ব্যর্থ হয়েছিল, দাবি ইমরান খানের বোনের
- ভারী বৃষ্টিপাত নিয়ে আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা
- চাঁদপুরে ইলিশের সঙ্কট, কারণ অনুসন্ধানে বিশেষজ্ঞ দল
- ৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের দুই প্যাকেজ ঘোষণা
- মেসিকে ছাড়াই দেশে ফিরল আর্জেন্টিনা দল
- বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে স্পেন
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ঢাবি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ
- মহাকবি কায়কোবাদের ৭৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
- চাঁপাইয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা-মেয়েসহ ৩ নারীর প্রাণহানী
- পিরিয়ডের ব্যথা দূর করবে এই উপকারী পানীয়
- চাঁপাইয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা-মেয়েসহ ৩ নারীর প্রাণহানী
- হার মেনে নিয়ে যা বললেন কিংবদন্তি মেসি
- দিনেই নামবে রাত, ৬ মিনিট অন্ধকারে ডুবে থাকবে পৃথিবী
- ১১০৪ জনকে নিয়োগ দেবে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন
- কলা কেনার আগে জেনে নিন ৫ সহজ কৌশল
- লামিন ইয়ামালের জীবনের হার নামানা গল্প
- আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন
- গোল্ডেন বল জিতলেন রদ্রি, গোল্ডেন গ্লাভ পেলেন সিমন
- দীর্ঘ সময় গ্যাস সংকটে ভুগবেন যেসব এলাকার বাসিন্দারা
- সড়কে যান চলাচল নিয়ে ডিএমপির জরুরি নির্দেশনা
- বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে স্পেন
- মেসিকে ছাড়াই দেশে ফিরল আর্জেন্টিনা দল
- টানা দ্বিতীয়বার গোল্ডেন বুট জিতলেন এমবাপ্পে
- পেরুতে ৫.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৬










