ঢাকা, রবিবার ১২, জুলাই ২০২৬ ১৯:২৯:০৬ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
প্রাথমিকের বৃত্তির ফল প্রকাশ, যেভাবে জানা যাবে আঝোর বৃষ্টিতে ডুবেছে রাজধানী, দুর্ভোগে নগরবাসী বন্যা-পাহাড়ধসে চট্টগ্রামে ৬ দিনে ৪৩ জনের মৃত্যু ঢাকায় বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ, কিছু স্কুলে পরীক্ষা বন্ধ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ডিএমপির জরুরি নির্দেশনা ম্যারাডোনার রেকর্ড ভাঙলেন মেসি সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, প্রতিপক্ষ কারা

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস আজ: দূষিত দুধের ঘাটি বাংলাদেশে

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:০০ পিএম, ১ জুন ২০১৯ শনিবার

আজ বিশ্ব দুগ্ধ দিবস। দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্যের উপকারিতা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার উদ্যোগে ২০০১ সাল থেকে প্রতি বছর জুন মাসের প্রথম দিন দিবসটি পালিত হচ্ছে। প্রতি বছরের মতো এবারও যথাযথভাবে দিবসটি পালন করা হবে। এ উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে।

বর্তমানে দেশে ক্রমবর্ধমান জিডিপিতে পশুসম্পদের অবদান ৩ দশমিক ২১ শতাংশ। দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রত্যক্ষভাবে ২১ শতাংশ এবং মোট আমিষের ৮ শতাংশ আসে দুগ্ধ সেক্টর থেকে। বর্তমানে এই সেক্টরে বহু বেকার শিক্ষিত যুবক বিনিয়োগ করছে। অনেক প্রবাসীও এই সেক্টরে বিনিয়োগ করেছে। 

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল জব্বার জানান, দেশে দুগ্ধ শিল্প অনেক পিছিয়ে আছে। বর্তমানে দেশে দুধের চাহিদা বছরে ১৪৬ দশমিক ৫১ লাখ টন। উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৭২ দশমিক ৭৫ লাখ টন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যে প্রতিদিন অন্তত ২৮০ মিলিলিটার দুধ গ্রহণ করা উচিত। অথচ আমরা মাথাপিছু প্রতিদিন দুধ গ্রহণ করছি মাত্র ১২৫ দশমিক ৫৯ মিলিলিটার। দেশে দ্রুত দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে হবে।
এদিকে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দুধ পান করা হয় বাংলাদেশে।
সম্প্রতি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ ও খাদ্যে ভেজালরোধে রীতিমত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের উচ্চ আদালত। দেশের অধিকাংশ খাদ্যই মানসমাপন্ন নয়। তবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য হলো দুধ। অথচ দুধকে সর্বঅধিক নিরাপদ ও সুষম খাবার বিবেচনা করা হয় সারা বিশ্বেই। বাংলাদেশীরা যে দুধ পান করেন, তা সমস্থ বিশ্বের সবচেয়ে অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ দুধ।বিষয়টি চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে বিপদটি প্রথম সর্বসমুখে ধরা পরে। 

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউট (বিএসটিআই) এর কাছে জানতে চাওয়া হয়, কেনো খাদ্যে ভেজাল দেওয়া এবং খাবারকে দূষিত করে এমন উপাদানযুক্ত খাদ্যসমিগ্রি বিক্রি করা আইনত দন্ডনিয় হবে না। সেসময় খাদ্যে কি ধরণের উপাদান আছে অনেকটা বাধ্য হয়েই সে বিষয়ে পরীক্ষা শুরু করে বিএসটিআই। অনেক খাদ্যেই সেসময় ভেজালের সন্ধান মেলে। 

তবে সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য পাওয়া যায় দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যে। বাজারে প্রাপ্ত ১৯০টি দুধ, প্যাকেটজাত দুধ, দই এবং দুগ্ধজাত খাদ্যে ক্ষতিকারক উপাদান ও ভেজালের অস্তিত্ব নিশ্চিতভাবেই পাওয়া গেছে এরমধ্যে রয়েছে ব্যাকটেরিয়া, অ্যাফ্লোটক্সিন, সিসা, টেরিটাসাইক্লন, মোল্ড এবং মানবস্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এমন আরো উপাদান। 

ভয়ংকর বিষয় হলো বাজারে এমন কোন দুধ বা দুগ্ধজাত পন্য নেই যাতে এই উপাদানগুলো পাওয়া যায়নি। একবাক্যে বললে, বাংলাদেশের কেউ বিশুদ্ধ দুধ পানের সুযোগ পাননা।

বাংলাদেশের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ফেব্রুয়ারি মাসেই জানিয়েছিলো দুধের মতো একটি সংবেদনশীল খাবারে যারা ভেজাল দেয় তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। কিন্তু মে মাস চলে গেলেও ব্যবস্থা তো দূরের কথা, সামান্য উদ্যোগও চোখে পড়েনি। ফলে বাধ্য হয়েই পর্দার সামনে চলে আসে বাংলাদেশের হাইকোর্ট। তবে দেশটিতে এতো ধরণের খাদ্যে ভেজাল, আলাদাভাবে দুধে নজরদারি করা কঠিন। আদালত দুধে ভেজাল মেশানো ব্যক্তিদের নাম জানাতে ১৫ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলো নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে। পরে সে সময়সীমা ২৩ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। 

বিশ্বে নিরাপদ দুধপান আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বলছেন শুধু বাংলাদেশ নয়, এই নামগুলো আন্তর্জাতিকভাবেই সামনে আনতে হবে। ওয়ার্ল্ড মিল্ক ড্রিঙ্কার্স সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছে, এই ব্যক্তিদের শুধু বাংলাদেশের আইনেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে বিচার করতে হবে।

কারণ দুধের মতো একটি নিরাপদ খাদ্যে ভেজাল দিয়ে তারা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে। বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ প্যাকেটজাত দুধ এবং ৫১ শতাংশ, দইতে মাইক্রোবায়োলজিকাল দূষকের অস্তিত্ব রয়েছে। আর শতভাগ গোখাদ্যেই রয়েছে ভারী ধাতু, প্যারাসাইট, ট্রোসাইক্লিন, ক্রিপ্টোক্সিন এবং অন্যান্য দূষক।