ঢাকা, বুধবার ০৮, জুলাই ২০২৬ ১৬:১২:৪৪ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে নারীর মৃত্যু কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ চট্টগ্রাম বোর্ডের বুধবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে আর্জেন্টিনার রূপকথার জয় ফরাসি আদালতের রায়: নির্বাচনে লড়ার সুযোগ পাচ্ছেন পেন

বিশ্বকবির জীবনাদর্শ দেশ গড়তে অনুপ্রাণিত করবে: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:২৮ পিএম, ৭ মে ২০২০ বৃহস্পতিবার

বিশ্বকবির জীবনাদর্শ দেশ গড়তে অনুপ্রাণিত করবে: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বকবির জীবনাদর্শ দেশ গড়তে অনুপ্রাণিত করবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনাদর্শ ও তাঁর সৃষ্টিকর্ম শোষণ-বঞ্চনামুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে চিরদিন বাঙালিকে অনুপ্রাণিত করবে।
আগামীকাল ৮ মে (২৫ বৈশাখ, ১৪২৭) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার দেয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বসাহিত্যের এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। বাংলা ও বাঙালির অহংকার। প্রতিভা ও শ্রমের যুগলবন্দির সম্মিলনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অসাধারণ সব সাহিত্যকর্ম দিয়ে বাংলা সাহিত্যকে করেছেন ঐশ্বর্য্যমন্ডিত।
তিনি বলেন, কালজয়ী এ কবি জীবন ও জগৎকে দেখেছেন অত্যন্ত গভীরভাবে যা তাঁর কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, গীতিনাট্য, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী, সংগীত ও চিত্রকলায় সহস্রধারায় উৎসারিত হয়েছে। আবহমান বাংলার রূপ যেমন তাঁর সাহিত্য সৃষ্টিতে ভাস্বর হয়েছে, তেমনই মানবতাবাদী বাণী তাঁর সাহিত্যকে দিয়েছে অতুলনীয় মহিমা।
শেখ হাসিনা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। সাহিত্য, সংগীত ও শিল্প মাধ্যমে প্রতিটি শাখায় তাঁর অনায়াস বিচরণ সত্যিই বিস্ময়কর। কবির সমস্ত সৃষ্টির মূলে নিহিত মানবতাবাদ তাঁকে বিশিষ্টতা দান করেছে। শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ ছিলেন প্রকৃতির চিরন্তন সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যের সাধক।
প্র্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ২৪ বছরের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রবি ঠাকুরের লেখনী আমাদের উজ্জীবিত করেছে। তাঁর জাতীয়তাবোধ বাঙালির অনন্ত প্রেরণার উৎস। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর কবিতা ও গান মুক্তিকামী বাঙালিকে উদ্দীপ্ত করেছে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। জীবনের প্রতিটি সমস্যা-সংকট, আনন্দ-বেদনা এবং আশা-নিরাশার সন্ধিক্ষণে রবীন্দ্রসৃষ্টি আমাদের চেতনাকে আন্দোলিত করে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের রবীন্দ্রনাথ একান্ত আপনজন। শিলাইদহ, শাহজাদপুর ও পতিসরে অবস্থানকালে এসব অঞ্চলের মাটি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। শিলাইদহ ও পতিসর অঞ্চলেই তিনি রচনা করেছিলেন ‘ছিন্নপত্র’র সিংহভাগ এবং অসামান্য কিছু গান। গ্রামীণ দরিদ্র শ্রেণির মানুষের জন্য তাঁর পল্লী উন্নয়ন প্রচেষ্টা আজও আমাদের কাছে অনুসরণীয় হয়ে আছে। বিশ্বকবির স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে কালোত্তীর্ণ এ কবির সৃষ্টিকে প্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। রবি ঠাকুরের অমর সৃষ্টি ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি জাতির পিতা বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণ করেন, যা দেশের মানুষের মনে সঞ্চারিত করেছে দেশপ্রেমের নতুন প্রেরণা।
‘বাংলাদেশ সহ বিশ্বের এই ক্রান্তিালে করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ এর করাল থাবা থেকে আমরা মুক্ত হব, আবার এগিয়ে যাব সামনে পথ চলায়, এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ’ সেই লক্ষ্যে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের ভাষায় তিনি বলেন, ‘নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়।’
বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।