ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ১০:৪১:৫২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

মহান মে দিবস আজ: শ্রমিকের অধিকার আদায়ের গৌরবগাঁথা

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:১৯ এএম, ১ মে ২০২৬ শুক্রবার

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

আজ মহান মে দিবস। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক দিন। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে আত্মত্যাগের স্মৃতিবিজড়িত এ দিনটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা সভা, র‌্যালি, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। জাতীয় দৈনিকগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে, আর টেলিভিশন চ্যানেলগুলো প্রচার করছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।
বাংলাদেশে দিনটি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীর শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
যে ইতিহাস থেকে মে দিবসের সূচনা
মে দিবসের ইতিহাস শ্রমিক আন্দোলনের এক রক্তাক্ত কিন্তু গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের নাম। উনিশ শতকের শেষদিকে শিল্পবিপ্লবের পর ইউরোপ ও আমেরিকার কলকারখানায় শ্রমিকদের দিনে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হতো। ছিল না নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, ন্যায্য মজুরি কিংবা শ্রমিক সুরক্ষার ব্যবস্থা।
এই অমানবিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিকরা সংগঠিত হতে শুরু করেন। তাঁদের প্রধান দাবি ছিল—‘আট ঘণ্টা কাজ, আট ঘণ্টা বিশ্রাম, আট ঘণ্টা বিনোদন।’
১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় তিন লাখ শ্রমিক ধর্মঘট ও বিক্ষোভে অংশ নেন। ৪ মে শিকাগোর হে মার্কেট স্কয়ারে শ্রমিকদের সমাবেশে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এক পর্যায়ে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিহত হন এবং পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। নিহত হন বহু শ্রমিক। পরে শ্রমিকনেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করে কয়েকজনকে ফাঁসি দেওয়া হয়।
এই আত্মত্যাগ বিশ্ব শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। শিকাগোর সেই রক্তঝরা ঘটনার স্মৃতিকে ধারণ করেই ১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে-কে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থেকেই দিনটি বিশ্বজুড়ে ‘মে দিবস’ বা ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে মে দিবসের তাৎপর্য
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষ। তৈরি পোশাকশিল্প, নির্মাণখাত, কৃষি, পরিবহন, চা-বাগান, জাহাজভাঙা শিল্পসহ নানা খাতে লাখো শ্রমিক দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
তবে এখনও অনেক শ্রমিক ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
শ্রম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মে দিবস কেবল উদ্‌যাপনের দিন নয়; এটি শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন। শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
এবারের প্রতিপাদ্য
এ বছর মে দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—
“শ্রমিক-মালিক এক হয়ে, গড়ব এ দেশ নতুন করে”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিল্পোন্নয়ন ও শ্রমিক কল্যাণকে একসূত্রে গাঁথতে পারলেই দেশের উৎপাদনশীলতা আরও বাড়বে।
শ্রমিক নেতাদের প্রত্যাশা
শ্রমিক নেতারা বলছেন, শ্রম আইনের যথাযথ প্রয়োগ, ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীনতা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও মাতৃত্বকালীন সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিশ্বজুড়ে পালন
এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ র‌্যালি, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস। কোথাও শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিক্ষোভ, কোথাও বা অর্জনের উৎসব।
সংগ্রামের চেতনা জাগ্রত রাখার আহ্বান
১৩৮ বছর আগে শিকাগোর শ্রমিকদের আত্মত্যাগ বিশ্বজুড়ে শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের ভিত্তি রচনা করেছিল। মহান মে দিবস সেই সংগ্রামের চেতনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। দিনটি শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় আরও দৃঢ় করার আহ্বান জানায়।