যৌন নির্যাতন বন্ধে পরিবার গুরুত্বপূর্ণ
সজীব সরকার | উইমেননিউজ২৪প্রকাশিত : ০৯:০৬ পিএম, ২৩ আগস্ট ২০১৯ শুক্রবার
সম্প্রতি আমরা ধর্ষণসহ নানা ধরনের যৌন নির্যাতনের যেসব খবর গণমাধ্যমে দেখছি, তাতে এ দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে : এক. বর্তমান সময়ে এ ধরনের অপরাধের সংখ্যা বা পরিমাণ বেড়ে গেছে; এবং দুই. এ সংখ্যা বা পরিমাণ সবসময়ই এমন ছিল - এখন কেবল প্রকাশের সংখ্যা বেড়েছে। এই দুই মতের মধ্যে বিরোধ থাকা বা না থাকায় এ ধরনের ঘটনা যে ঘটছে, সে বাস্তবতায় কোনো প্রভাব পড়ে না; আমাদের প্রতিক্রিয়া বরং কীভাবে এসব ঘটনা কমিয়ে একেবারে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা যায়, তাকে ঘিরে হওয়া বেশি দরকার।
সমাজবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী, নৃতত্ত্ববিদ, দার্শনিকসহ বিদ্বৎজনেরা যুগে যুগেই মানুষের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা নিয়ে গবেষণা করছেন এবং নানান তত্ত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। কোনো তত্ত্বই ভুল নয়, আবার কোনো তত্ত্বই এর কারণ ব্যাখ্যায় স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় এবং তাই যথেষ্ট নয়। ফলে, কোনো তত্ত্ব দিয়ে এই সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই।
প্রতিটি ব্যক্তির মনোজগত আলাদা, তার পরিবেশ-প্রতিবেশ আলাদা। প্রতিটি মানুষ ভিন্ন ভিন্ন কারণে অপরাধ করে থাকে। তাই এসব কর্মকাণ্ড ঠেকানোর সরলরৈখিক কোনো সমাধান পাওয়া দুষ্কর। তবে মানুষের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া এখানে একটি বড় ভূমিকা রাখে বলেই সবার সাধারণ বিশ্বাস।
আমাদের অভিজ্ঞতা লাভের প্রক্রিয়া জন্মের অব্যবহিত পর থেকে শুরু হয়ে মৃত্যু অবধি চলে। শৈশবের অভিজ্ঞতা আমাদের কৈশোরকে নির্মাণ করে, আর কৈশোরের অভিজ্ঞতা যৌবনকে। এভাবেই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ বা পূর্ণবয়স্ক মানুষ তৈরি হয়। সহজ করে বললে, একজন ব্যক্তি হলো তার সারা জীবনের অভিজ্ঞতার যোগফল। সেই প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করলে এটি প্রতীয়মান হয় যে, শৈশব থেকে যদি একজন ব্যক্তির অভিজ্ঞতা থেকে নির্যাতন বা সহিংসতাকে দূরে রাখা যায় বা অন্তত যথাযথভাবে তাকে এ বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা যায়, তাহলে এর একটি ইতিবাচক প্রভাব ব্যক্তির জীবনে পড়বে বলে আশাবাদী হওয়া যায়। তবে এ কথা অনস্বীকার্য, জীবনের কোনো একটি সময়ে এসে কোনো একটি পরিস্থিতিতে ব্যক্তি ভিন্নরূপ আচরণ করার ঝুঁকি তাতে শতভাগ নির্মূল হয় না।
এরপরও বিশেষজ্ঞরা একমত পোষণ করেন যে, পরিবার মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক; পরিবারের শিক্ষা ব্যক্তির জীবনের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। ফলে পরিবারের মধ্যে নারীর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। পরিবারের মধ্যে যদি এই চর্চা থাকে যেখানে নারীকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়, নারীকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয় এবং নারীর প্রতি ভুল বা মিথ্যা ধারণা বা কুসংস্কারকে প্রশ্রয় না দিয়ে নারীর প্রতি শ্রদ্ধার বোধ নিশ্চিত করা হয়, তাহলে পরিবারের ছেলে বা পুরুষ সদস্যেরা নারীর প্রতি সহিংস নয় বরং শ্রদ্ধাপূর্ণ বোধ নিয়ে বেড়ে ওঠার সুযোগ ও সম্ভাবনা দুটোই বাড়বে এবং এভাবে নারীর ওপর সহিংসতার ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই কমে আসার সুযোগ সৃষ্টি হয়। আশৈশব লালিত ভ্রান্ত ধারণা সহিংসতার জন্ম দিলে আশৈশব লালিত শ্রদ্ধার বোধ সহিংসতার পরিবর্তে সংবেদনশীলতা তৈরি করবে - এমন আশা করাই যায়!
আমাদের সমাজ প্রচণ্ডভাবে পুরুষতান্ত্রিক এবং নারীবিদ্বেষী; পরিবারের মধ্যেই এমন বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাবের অঙ্কুরোদগম হয়। তাই পরিবার যদি তার সদস্যদের মধ্যে নারীর প্রতি সংবেদনশীলতার ও শ্রদ্ধাবোধের শিক্ষা দেয়, তাহলে নারীর প্রতি সহিংসতার মাত্রা বা সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে।
আমাদের পরিবারগুলো ভবিষ্যত প্রজন্মকে নারীর প্রতি সংবেদনশীল ও উদার (প্রকারান্তরে নারীবান্ধব) এবং সর্বোপরি কুসংস্কারমুক্ত, বিজ্ঞানমনষ্ক ও মানবতাবাদে বিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তুলবে - এই প্রত্যাশাই থাকল।
লেখক : সজীব সরকার : সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ারপারসন, জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি। ই-মেইল : [email protected]
- সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার
- ইউএনজিএ নির্বাচনে জয় ১৭ কোটি বাংলাদেশির: শামা
- নিলামে উঠছে পেলের প্রথম বিশ্বকাপ জার্সি
- মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট
- সোনা: পৃথিবীর সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ধাতুর গল্প
- এবার বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম
- তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা
- হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো
- সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ
- এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল
- নারীদের টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে নিগার-তৃষ্ণার উন্নতি
- হায় জীবন, মায়ের মরদেহের পাশে পচে যায় মানবিকতা!
- ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে
- নারী-শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে শিগগিরই দেশব্যাপী কর্মসূচি
- খানজাহান আলী (রহ:) মাজারের দিঘির কুমিরটি সরিয়ে নেয়া হবে
- ডরোথি হাইট: নাগরিক অধিকার আন্দোলনের ‘গডমাদার’
- কুমিরে টেনে নেয়া শিশু ফাতেমার লাশ উদ্ধার
- ভাঙ্গায় ট্রাকে গাড়ির ধাক্কা, শিশুসহ নিহত ৫
- রামিসা হত্যা মামলায় আজ থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ
- রামিসা হত্যা: দোষির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি রামিসার বাবার
- টেনিসে ফিরছেন টেনিস কিংবদন্তি সেরেনা
- সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পেন্টাগন
- মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় আবারও কমল স্বর্ণের দাম
- বায়ু দূষণে শীর্ষে কিনশাসা, ঢাকার অবস্থান ১২
- দুপুরের মধ্যে যে অঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা
- ৩ পদে নিয়োগ দেবে একুশে টেলিভিশন
- মায়ের মরদেহে পচন, যুগ্ম-সচিব ছেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
- ত্রিদেশিয় সিরিজে প্রথম জয় পেল বাংলাদেশের মেয়েরা
- দরোজায় কড়া নাড়ছে ফুটবলের মহা আয়োজন
- ছুটি শেষে সচিবালয়ে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য


