ঢাকা, শনিবার ২৪, অক্টোবর ২০২৬ ১৮:৫৩:০৯ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
রাজধানীতে প্রতিদিন গড়ে ভাঙছে প্রায় ৪৪টি সংসার সৌদিতে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা কতটা আছে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে,৩জনের প্রাণহানী কমছে না পোলাওর চাল ও আটা-ময়দার দাম ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ২৬ অক্টোবর থেকে চলবে মহানগর এক্সপ্রেস তিব্বতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প: নিহত ১৬, আহত অর্ধশতাধিক অপ্রতীম হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল

রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ০১:৫৬ পিএম, ১৯ জুলাই ২০১৮ বৃহস্পতিবার

রাজধানীতে এবছর ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি হয়ে থাকে। চলতি বছর মৌসুমের আগেই এর প্রকোপ বেড়ে গেছে। সাথে সাথে বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। 

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী জুন মাসে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত আড়াইশ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। আর জুলাই মাসের শুরুর দু’দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯ জন। মাসের প্রথম সপ্তাহে যা ঠেকেছে প্রায় চারশ জনে। এদের মধ্যে মারা গেছেন অন্তত চার জন রোগী। মাসের মাঝামাঝি এসে এ হার হেয়েছে প্রায় প্রায় দ্বিগুণ।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীতে সারাবছরই লেগে থাকে ডেঙ্গুর প্রকোপ। এখন আর ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার নির্ধারিত মৌসুম আর সময়ও নেই। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতোমধ্যে বিশেষ সভা আহ্বান করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। রাজধানীর ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই এবং এ রোগে আক্রান্তের চিকিৎসার সুব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তবে দিনকে দিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নগরবাসী এখন এ রোগ নিয়ে এক ধরনের আতঙ্কে ভুগছেন।

 

বিশেষজ্ঞরা জানান, রাজধানী ঢাকায় বছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশার উপদ্রব বাড়ে। এ সময়কে ডেঙ্গু জ্বরের মৌসুম ধরা হয়। চলতি বছরের শুরু থেকেই বৃষ্টি হওয়ায় মশার প্রচুর বংশবিস্তার হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টি হওয়ায় রাজধানীর অনেক স্থানেই পানি জমে বংশবিস্তার করছে এডিস মশা। বর্ষা মৌসুম এডিস মশার বিস্তার ও প্রজননের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। ফলে ঢাকায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার ও বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডাঃ এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, নগরীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। গত বছরের মতো এ বছরও হিমোরেজিক ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যাই বেশি দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের ডেঙ্গুতে আক্রান্তরা নাক ও দাঁত দিয়ে এবং কাঁশির সময় রক্তক্ষরণে ভুগে থাকে। আর আক্রান্তরা পিঠ, ঘাড়, মাথা ও চোখের পেছনে ব্যথা অনুভূত হওয়ার কথা বলে থাকে।

 

তিনি বলেন, ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে জ্বর না কমলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। আর চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার আগে জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল ছাড়া কোন ওষুধ দেয়া ঠিক হবে না। রোগীকে বেশি মাত্রায় পানি বিশেষ করে শরবত খাওয়ানো যেতে যারে। দিনের বেলায় ঘুমানোর সময়ও মশারি ব্যবহার করা উচিত। বাসায় খোলা পাত্রে পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। এতে এডিস মশা ডিম পাড়ে। বাসায় সর্বত্র পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য পরামর্শ দেন ডাঃ এবিএম আব্দুল্লাহ।


ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন গত ১৯ মার্চ এক সভায় এডিস মশার জীবাণু পেলে বাড়ির মালিককে জেল ও জরিমানা করার ঘোষণা দেন। এ কার্যক্রম নিয়মিত চলছে না বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসাীরা। তবে ডিএসসিসির কর্মকর্তারা জানান, এডিস মশার লার্ভা ও প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রত্যেক ওয়ার্ডে একটি করে কমিটি করা হয়েছে। কমিটির কার্যক্রমও নিয়মিত চলছে।

 

তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। জমে থাকা পানিতে যেন মশা বংশবিস্তার করতে না পারে, বাড়ির আশপাশ যাতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে,সর্বোপরি সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে রাজধানীবাসীকেই।