ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৫, অক্টোবর ২০২৬ ৪:৩০:০২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ফারজানা রুপার পক্ষে মামলা লড়তে দুই ব্রিটিশ আইনজীবীর আবেদন হাম উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৩২৭ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আর ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯২০ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছুরি দিয়ে হামলার চেষ্টার অভিযোগ বিলিয়ন ডলারের উত্থানেও পিছিয়ে নারী ফুটবলাররা ভারতে গঙ্গায় নৌকাডুবি, শিশুসহ নিহত ১১

লামায় তিন দিন ধরে নিখোঁজ ৩ স্কুলছাত্রী, উৎকণ্ঠায় পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৬:৫৫ পিএম, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ইয়াংছার মুখ এলাকা থেকে তিন স্কুলছাত্রী তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। তাদের কোনো ধরনের খোঁজ না মেলায় পরিবার ও স্বজনদের মাঝে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।

নিখোঁজদের পরিবার সূত্র জানায়, রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনার কথা বলে ১১ অক্টোবর বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তারা। এরপর থেকে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। সন্তানদের ফিরে পাওয়ার আশায় দিন কাটছে তিন পরিবারে সদস্যদের। অন্যদিকে, নিখোঁজের কারণ ও তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিখোঁজ তিন কিশোরী হলো- লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-অংহ্লারী পাড়ার আবুল হাশেমের মেয়ে তানিয়া সুলতানা (১৩), শহিদুল ইসলামের মেয়ে রেশমি আক্তার (১৭) এবং বেলাল উদ্দিনের মেয়ে হালিমাতুচ্ছ সাদিয়া। তানিয়া সুলতানা ও হালিমাতুচ্ছ সাদিয়া ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। রেশমি আক্তার ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গত ১১ অক্টোবর রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় রেশমি আক্তার। পরে তার সঙ্গে অন্য দুই কিশোরীও বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্বজনেরা।

পরিবারের দাবি, রেশমি আক্তার মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। তবে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, নিখোঁজ তিন কিশোরীর কেউই তার বিদ্যালয়ে যায়নি। ফলে কী কারণে তারা বাড়ি থেকে বের হয়েছিল এবং পরে কোথায় গেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিন বলেন, নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীই বিদ্যালয়ে অনিয়মিত ছিল। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, গত রোববার সকালে মানিকপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় তারা। তাদের মধ্যে দুজন সপ্তম শ্রেণির এবং একজন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

তিনি আরও বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ তারা নিজ নিজ শ্রেণিতে উপস্থিত ছিল। এরপর আর বিদ্যালয়ে আসেনি। সোমবার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তাদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানতে পারি। এ ঘটনায় মঙ্গলবার লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের সন্ধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

নিখোঁজ তিন কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এরপর পুলিশ তাদের সন্ধানে কাজ শুরু করে। কিশোরীদের চকরিয়ায় যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও তারা সেখানে ঠিক কোথায় রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

একসঙ্গে তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-বধুরঝিরি এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। সন্তানদের কোনো বিপদ হয়েছে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। দ্রুত তাদের সন্ধান বের করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ বলেন, নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তাদের নিখোঁজ হওয়ার কারণ উদ্‌ঘাটন ও সন্ধান পেতে পুলিশ কাজ করছে।