ঢাকা, শুক্রবার ১০, জুলাই ২০২৬ ১০:২৮:৫৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধে অংশ নেবে না ইতালি: মেলোনি শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টায় কূটনৈতিক ঘাটতি নেই: শামা ওবায়েদ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ৭০ বছর পর ব্রিটিশ নারীর সাজা পরিবর্তন শিক্ষক পদে ৪৬ হাজার পরীক্ষার্থীর ফল পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হচ্ছেন আইরিন খান বান্দরবানে পাহাড়ধস, ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুসহ ৫ জনের প্রাণহানি

শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু, আজ মহাষষ্ঠী

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:২২ এএম, ৪ অক্টোবর ২০১৯ শুক্রবার

আকাশে-বাতাসে এখন শারদ উৎসবের শিহরণ। ‘দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনে’ দুর্গতিনাশিনীর আগমন আনন্দে মেতেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। কৈলাস শিখরে স্বামী গৃহ ছেড়ে দেবী দুর্গা আজ শুক্রবার মর্ত্যে পিত্রালয়ে পৌঁছেছেন। ঢাকের বোল, সানাই-শঙ্খ-উলুধ্বনি আর ভক্তকুলের আবাহনের মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে গতকাল বৃহস্পতিবারই মা দুর্গার অকাল বোধন হয়েছে। তাকে গতকালই মর্ত্যে নেমে আসার আহ্বান জানানো হয়। আজ বরণ করে নেওয়ার পালা। ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব।

পঞ্জিকা মতে, আজ শুক্রবার সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটের মধ্যে ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ, সায়ংকালে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস। গতকাল সন্ধ্যা থেকে ষষ্ঠী তিথির সূচনা ঘটেছে। তাই আজ সকালের মধ্যেই বেল গাছের নিচে পালন করা হবে বিল্লে ষষ্ঠী। সন্ধ্যায় প্রাণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে খুলে যাবে দুর্গার আয়ত চোখের পলক। জেগে উঠবেন দশভুজা। অসুরবধে চক্র, গদা, তীর, ধনুক, খড়্গ-কৃপাণ-ত্রিশূল হাতে মাতৃরূপে অসুরদলনী দেবী উঠবেন হেসে।

আশীর্বাদ দেবেন মনোবাঞ্ছা নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের। মন্দিরে মন্দিরে পূজার মন্ত্রোচ্চারণ, ধূপ-ধুনোয় ভক্তদের নৃত্য আরতি, ঢাক-ঢোল, কাঁসর-মন্দিরার পাশাপাশি মাইকের আওয়াজ আর বর্ণাঢ্য আলোকচ্ছটায় আজ সারাদেশের পূজাম-পগুলো উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে। আজ রাতে শুরু হবে মহাসপ্তমী তিথি। কাল শনিবার প্রভাতে ঢাক-ঢোলক-কাঁসর বাজিয়ে কলাবউ স্নান ও আদরিণী উমার সপরিবারে তিথি বিহিত পূজা। রবিবার মহাঅষ্টমী কল্পরম্ভ ও বিহিত পূজা, অষ্টমীর দিনে দুপুর ২টা ২৭ থেকে ৩টা ১৪ মিনিটের মধ্যে সন্ধি পূজা। সোমবার মহানবমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পরদিন মঙ্গলবার সকাল ৯টায় পূজা সমার্পণ ও পরে দর্পণ বিসর্জন-শান্তিজল গ্রহণ। পাঁচ দিনব্যাপী সর্ববৃহৎ এ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে সারাদেশের ম-পগুলোতেই সাজ সাজ রব।

সনাতন বিশ্বাস ও পঞ্জিকা মতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার পিতৃগৃহে এসেছেন ঘোটকে বা ঘোড়ায় চড়ে। ফলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, রোগ-শোক, হানাহানি, মারামারি, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংসারিক ক্ষেত্রে অস্থিরতা প্রকাশ পাবে। বিজয়া দশমীতে দেবী বিদায় নেবেনও ঘোড়ায় চড়ে। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সারাদেশেই নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির-মেলাঙ্গনের নিরাপত্তা পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো সহিংস ঘটনার তথ্য আমাদের কাছে নেই। ঝুঁকিপূর্ণ কোনো ম-পও পাওয়া যায়নি।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকনও গতকাল রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ এবং ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দুর্গাপূজার সর্বশেষ প্রস্তুতি সরেজমিন পরিদর্শন করেন।

এ সময় মেয়র বলেন, ‘ধর্ম যার যার কিন্তু উৎসব সবার। এ মূল মন্ত্রকে ধারণ করে বর্তমান সরকার সব সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন। ভক্তরা যেন নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে পূজার আনন্দ উপভোগ করতে পারে সেজন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ মন্দিরগুলোর আশপাশের রাস্তা মেরামত, বিদ্যুৎ বাতির ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়েছে।’ বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি কাজল দেবনাথ বলেন, ‘পূজাটা হিন্দুদের হলেও উৎসব সবার। আশা করি সবাই এ উৎসব উপভোগ করবেন। দেশবাসীর কাছে আনন্দদায়ক হয়ে উঠবে শারদীয় দুর্গোৎসব।’

এবার রাজধানীতে ২৩৭টি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে, যার মধ্যে চারটি পারিবারিক। ২৩৩টি পূজার মধ্যে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন, বনানী ও কলাবাগানের সার্বজনীন দুর্গাপূজাকে ‘বিশেষ’ শ্রেণিভুক্ত করেছে ডিএমপি। এ ছাড়া সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ী, রমনা কালীবাড়ী, বসুন্ধরা সার্বজনীন দুর্গাপূজা, উত্তরা ও কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের পূজাকে ‘বৃহত্তম’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া রাজধানীতে ৮৬টি মণ্ডপে দুই তারকা, ৭৭টিকে এক তারকা এবং ৬১টিকে সাধারণ ক্যাটাগরিতে রেখেছে পুলিশ। পূজায় যেসব মন্দিরের পাশে মেলা হবে তা সংক্ষিপ্ত করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ডিএমপির পক্ষ থেকে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরা যেসব মন্দিরে যাবেন, সেখানে ডগ স্কোয়াড ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এ ছাড়া পূজার সময় ঢাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও রেখেছে ডিএমপি। প্রতিটি ম-পে স্বেচ্ছাসেবকদের বিশেষ আর্মব্যান্ড পরার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

দুর্গাপূজার সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে গতকাল ঢাকেশ্বরী মন্দিরে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে লিখিত বক্তব্যে কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিশোর রঞ্জন মণ্ডল মহানগর এলাকার মন্দিরগুলোকে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে-নারী ও পুরুষের চলাচলের আলাদা পথ রাখা; প্রতিটি মণ্ডপে কমপক্ষে ১০ জন নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক ও ২৪ ঘণ্টা তদারকির ব্যবস্থা করা; আতশবাজি ও পটকা না ফোটানো; ৮ অক্টোবর রাত ১০টার মধ্যে বিসর্জন সম্পন্ন; মন্দির ও সমগ্র এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা; ভক্তিমূলক সংগীত ছাড়া অন্য সংগীত বাজানো থেকে বিরত থাকা; প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা ইত্যাদি। কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদারসহ অন্যরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

পুরাণ মতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। বসন্তে তিনি পূজার আয়োজন করায় দেবীর এ পূজাকে বাসন্তী পূজা বলা হয়। কিন্তু রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে লঙ্কা যাত্রার আগে শ্রীরামচন্দ্র দেবী পূজার আয়োজন করেছিলেন শরৎকালের অমাবস্যা তিথিতে, যা শারদীয় দুর্গোৎসব নামে পরিচিত। দেবীর শরৎকালের পূজাকে এজন্যই হিন্দুমতে অকাল বোধনও বলা হয়।