ঢাকা, মঙ্গলবার ২১, জুলাই ২০২৬ ০:১৮:৫৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
দীর্ঘ সময় গ্যাস সংকটে ভুগবেন যেসব এলাকার বাসিন্দারা পেরুতে ৫.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৬ উজানের ঢল আর ভারি বৃষ্টিতে বাড়ছে তিস্তার পানি হার মেনে নিয়ে যা বললেন মেসি গোল্ডেন বল জিতলেন রদ্রি, গোল্ডেন গ্লাভ পেলেন সিমন টানা দ্বিতীয়বার গোল্ডেন বুট জিতলেন এমবাপ্পে আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

শিক্ষকের রোষানলে ৫ বার ফেল, মেডিকেল শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:৪০ পিএম, ৪ এপ্রিল ২০২৬ শনিবার

অর্পিতা নওশিন। ফাইল ছবি

অর্পিতা নওশিন। ফাইল ছবি

শিক্ষকের রোষানলে একই বিষয়ে পাঁচবার পরীক্ষা দিয়েও উত্তীর্ণ হতে না পারায় মেডিকেল শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিন আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কুমিল্লার একটি হোস্টেলের নিজ কক্ষ থেকে তাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান সহপাঠীরা। পরে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সহপাঠীরা বলেন, নওশিন মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে ট্যাবলেট সেবন করে আত্মহত্যা করেন।

নওশিন কুমিল্লার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি খুলনা সদরে। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছোট। খুলনার সরকারি করোনেশন গার্লস হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কেসিসি উইমেন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন মেডিকেলে। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই ফিরছে তার নিথর দেহ।

সহপাঠীদের অভিযোগ, প্রথম বর্ষ থেকেই কলেজের এনাটমি বিভাগের প্রধান ডা. মনিরা জহিরের রোষানলে পড়েন নওশিন। প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় অন্যান্য সব বিষয়ে পাস করলেও এনাটমিতে ফেল করেন তিনি। এরপর গত তিন বছরে আরও চারবার একই বিষয়ে পরীক্ষা দিলেও প্রতিবারই অকৃতকার্য হন।

বন্ধুরা জানান, প্রথম বর্ষে থাকতেই প্রকাশ্যে তাকে ফেল করানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে ঠিক কী কারণে এমন আচরণ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

এদিকে এই মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরাও অভিযোগ করেন শিক্ষক মনিরা জহির কোনো কারণ ছাড়াই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন। তার বিষয়ে তদন্ত করলে নওশিনের আত্মহত্যার বিষয়টি স্পষ্ট হবে। 

নওশিনের বন্ধুরা বলেন, গত ৮ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে তাদের ব্যাচের তৃতীয় প্রফের ফল প্রকাশিত হয়েছে। একই সেশনের অন্য শিক্ষার্থীরা এখন পঞ্চম বর্ষে পড়লেও নওশিন প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষাতেই আটকে ছিলেন।

নওশিনের ভাই শাহরিয়ার আরমান বলেন, আমার বোনের আত্মহত্যা করার মতো মানসিকতা ছিল না। কলেজের মানসিক চাপই তাকে এই পথে ঠেলে দিয়েছে। প্রথম বর্ষ থেকেই তাকে মানসিকভাবে নিপীড়ন করা হয়েছে। সবাই পাস করলেও আমার বোনকে একটি বিষয়ে আটকে রাখা হয়েছে। তার সমস্যা কী, সেটাও কেউ বলেনি।

শাহরিয়ার আরমান বলেন, গতকালও তার সঙ্গে কথা হয়েছে। ফর্ম ফিলআপের জন্য টাকা চেয়েছিল। আমি আশ্বস্ত করেছিলাম টাকা পাঠাব। আজ এমন খবর পাব, কখনও ভাবিনি।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফজলুল হক লিটন ও এনাটমি বিভাগের প্রধান ডা. মনিরা জহিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।