ঢাকা, শনিবার ২১, মার্চ ২০২৬ ১৫:৪৮:১২ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
রাজধানীতে আজ বন্ধ থাকছে মেট্রোরেল ঈদের দিন ফাঁকা রাজধানী, নিস্তব্ধতায় ভিন্ন এক ঢাকা জাতীয় ঈদগাহে একসঙ্গে নামাজ আদায় করলেন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে ‘যমুনা’য় জনতার ঢল চাঁদরাতে কেনাকাটা: ভিড়ে মুখর নগর জীবন নারীদের জন্য রাজধানীর কোথায় কখন ঈদ জামাত আজ ঈদুল ফিতর, দেশজুড়ে আনন্দ-উৎসব

সিট দখলে গিয়ে মারধরের অভিযোগ ছাত্রলীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৩৭ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০২২ মঙ্গলবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

হলের সিট দখলে গিয়ে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত রাজধানীর ইডেন সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রলীগের এক নেত্রীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার জেরে শিক্ষকদের গায়েও হাত তোলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত ওই নেত্রী হলেন কলেজের গণিত বিভাগের ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী নুজহাত ফারিয়া রোকসানা। তিনি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের অনুসারী ও ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রীনিবাসে (হল) মারধরের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় কলেজ ও ছাত্রীনিবাস থেকে অভিযুক্ত ওই ছাত্রলীগ নেত্রীর বহিষ্কারাদেশ চেয়ে সোমবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে অধ্যক্ষ ও তত্ত্বাবধায়কের কাছে আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নুজহাতকে ছাত্রীনিবাস থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইডেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।

পরে এ ঘটনায় সাধারণ ও পলিটিক্যাল শিক্ষার্থীদের বের করে সেই কক্ষে তালা দিয়েছে কলেজ প্রশাসন। সোমবার দুপুরে ১১৪ জন লিগ্যাল (বৈধ) ছাত্রীর সই নিয়ে রোকসানাকে কলেজ ও ছাত্রীনিবাস থেকে বহিষ্কার করতে কলেজ অধ্যক্ষ ও তত্ত্বাবধায়কের কাছে আবেদন জমা দেয়া হয়।

আবেদনপত্রে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, গত ১০ এপ্রিল বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রীনিবাসের পঞ্চম তলার ৫০৭ নম্বর কক্ষে সিট দখল করতে সেই কক্ষের বৈধ ছাত্রীদের ওপর হঠাৎ হামলা করেন কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য নুজহাত ফারিয়া রোকসানা ও তার অনুসারীরা।

তখন চার নম্বর বেডের বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থী ফারিয়া হক অর্পিতাকে ছাত্রলীগের ওই নেত্রী ও তার অনুসারীরা মারধর করেন। এক পর্যায়ে মারধরের শিকার ওই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এ ঘটনায় রুমের বাকি সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

শুধু বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রীনিবাসের শিক্ষার্থীরাই নয় বরং ক্যাম্পাসে প্রত্যেক সাধারণ ছাত্রীই নিয়মিতভাবে তার উশৃঙ্খল আচরণের জন্য সবসময় ভীত থাকেন। এছাড়াও ওই ছাত্রলীগ নেত্রী অবৈধভাবে হলের কক্ষ দখল, সাধারণ শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ধর্ষণের হুমকি দেয়া, অবৈধভাবে বহিরাগত মেয়েদের দিয়ে সিট দখল করা, অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, জিনিসপত্র ভাঙচুর, টাকা ও অন্যান্য জিনিসপত্র চুরি, মেয়েদের জোরপূর্বক রাজনীতিতে জড়ানো, মেয়েদের জোর করে আপত্তিকর ছবি তোলা ও বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করেন বলেও আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, রোকসানা ছাত্রীনিবাসের সিট বাণিজ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি সিট পাইয়ে দেয়ার নামে নতুন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে থাকেন। একই কারণেও এ ঘটনার সূত্রপাত। গত ৯ এপ্রিল ৫০৭ নম্বর কক্ষে বৈধ শিক্ষার্থীদের সিট থেকে সরিয়ে নতুন শিক্ষার্থীকে দেয়ার জন্য বলেন।

ওইসময় কক্ষের বৈধ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানালে তখনই তাদের প্রতি ক্ষিপ্ত হন রোকসানা। এরপর হল সুপার নাজমুন নাহারের নেতৃত্বে চারজন সহকারী তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষক সেখানে যান। উশৃঙ্খল আচরণের কৈফিয়ত চাওয়ার এক পর্যায়ে তার সঙ্গে শিক্ষকদের ধস্তাধস্তি হয়। এসময় আসমা আক্তার নামের এক সহকারী তত্ত্বাবধায়কের পেছনে হাতমোড়া দিয়ে ধরেন। পরে তার বাজে আচরণের কারণে শিক্ষকরা সেই কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।

সেদিন সফল না হলেও পরদিন রোববার ইফতারের পরপরই ওই কক্ষে আবারও আসেন রোকসানা। কোনো কথা ছাড়াই চার নম্বর সিটের যাবতীয় জিনিসপত্র মাটিতে ফেলে দেন। কারণ জানতে ফারিয়া হক অর্পিতা এগিয়ে গেলে তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এর এক পর্যায়ে তাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে বের হয়ে যান। ধাক্কা খেয়ে মেঝেতে পড়ে জ্ঞান হারান অর্পিতা। জ্ঞান ফিরলেও অনবরত বমি করতে থাকায় ছাত্রীনিবাসের তত্ত্বাবধায়কসহ অন্যান্যদের সহায়তায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, এমন ঘটনার কারণে সবসময় ভয়ে থাকেন তারা। এর আগেও তারা এমন ঘটনায় কলেজ প্রশাসনকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকেও জানিয়েছেন তারা। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত রোকসানা বলেন, ‘এটা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। যারা মারধরের অভিযোগ করেছেন, তারা পারলে প্রমাণ দিক। ওই মেয়ে তো অজ্ঞান হওয়ার অভিনয় করেছে। তারা হলের সাধারণ শিক্ষার্থী। সাধারণ থাকবে, ঝামেলায় যেতে চাইবে কেন? তাছাড়া, তারা কীভাবে পলিটিক্যাল মেয়েদের বের হয়ে যেতে বলে। এত পাওয়ার তারা কোথায় পায়?’

তার মতে, লিগ্যাল মেয়েদের রুমে পলিটিক্যাল মেয়ে থাকলে অসুবিধা কী? সবাই তো ইডেনের ছাত্রী। তবে পলিটিক্যাল রুমে লিগ্যাল ছাত্রী রাখা যায় কি না এমন প্রশ্নে তিনি কোনো জবাব দেননি।

নুজহাত বলেন, এ ঘটনায় জবাব চেয়ে আমাকে হল থেকে নোটিশ দেয়া হয়েছে। আমি দ্রুতই জবাব দেব।

অন্যদিকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রী নিবাসের হল সুপার নাজমুন নাহারকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি প্রথমে বলেন, আসলে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মেয়েটা একটু পড়ে গিয়েছিল। এছাড়াও শিক্ষকদের সঙ্গে নুজহাতের ধস্তাধস্তির কথা তুললে তিনি এ রকম কিছু হয়নি বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, ওর (নুসরাত) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমরা ওকে হলে রাখতে চাই না। তাকে হল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এছাড়া ওই রুমে সাধারণ শিক্ষার্থীরাই থাকবে, কোনো পলিটিক্যাল মেয়ে থাকবে না বলে জানান ওই শিক্ষার্থী।