ঢাকা, মঙ্গলবার ২১, জুলাই ২০২৬ ১:৩৬:১৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
দীর্ঘ সময় গ্যাস সংকটে ভুগবেন যেসব এলাকার বাসিন্দারা পেরুতে ৫.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৬ উজানের ঢল আর ভারি বৃষ্টিতে বাড়ছে তিস্তার পানি হার মেনে নিয়ে যা বললেন মেসি গোল্ডেন বল জিতলেন রদ্রি, গোল্ডেন গ্লাভ পেলেন সিমন টানা দ্বিতীয়বার গোল্ডেন বুট জিতলেন এমবাপ্পে আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

হামে বাড়ছে শিশু রোগী, চাপে হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৭:০০ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ শনিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীর ভিড় বেড়েছে, উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকরা। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সংক্রামক ব্যাধি ও শিশু হাসপাতালগুলোতে নতুন রোগীর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ভর্তি থাকা শিশুদের সংখ্যাও বাড়ছে।

ফরিদপুরের আনসার শাওনের ছয় মাস বয়সী সন্তান জন্মের পর থেকেই নানা জটিলতায় ভুগছে। ঈদের পরদিন শিশুটিকে রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার শরীরে হাম শনাক্ত হয়। চিকিৎসা ব্যয় সামলাতে গিয়ে এখন চরম বিপাকে পড়েছেন তিনি। “সব টাকা শেষ, ধার-দেনাও হয়ে গেছে”—কথাগুলো বলতে গিয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন এই বাবা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত এক মাসে নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছে ৩৭ জন। একই সময়ে উপসর্গ নিয়ে আরও ১৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৩ জন, আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ২ জন। প্রতিদিনই বাড়ছে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা। এক দিনে ১ হাজার ১১৫ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১২৭ জনের হাম নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ৩ হাজার ১৯২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ সময় সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৪৬৭ জনে, যার মধ্যে ১১ হাজার ২৪৩ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

ঢাকা বিভাগে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক। এখানে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৯ হাজার ২৭৪ জন সন্দেহভাজনের মধ্যে ১ হাজার ৯৬৫ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের শিশু হাসপাতাল ও মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সরকারি ছুটির দিনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে নতুন রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে এক থেকে দুই দিন পর্যন্ত সিনিয়র চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

পাবনা থেকে আসা অভিভাবক সাজেদুল ইসলাম জানান, তার সন্তান প্রায় ১৫ দিন ধরে অসুস্থ। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকায় নিয়ে আসেন। “হাসপাতালে মৃত্যুর খবর শুনে ভয় লাগছে, খরচও সামলাতে পারছি না,” বলেন তিনি।

বরিশাল বিভাগেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়েছে এবং হাম সন্দেহে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে। ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩৩১ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনেই সেখানে প্রায় ৯০০ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ইপিআই কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন বিভাগে ইতোমধ্যে ১৩ লাখের বেশি শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী নতুন করে টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হবে, যেখানে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে অন্তত এক ডোজ টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, দ্রুত টিকাদান নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। একই সঙ্গে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করাও জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শিশুদের ওপর এই প্রভাব আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।