ঢাকা, রবিবার ২৬, সেপ্টেম্বর ২০২১ ৬:৩৯:৫৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ওয়াশিংটন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে হোটেলে নারী হত্যা: প্রধান আসামি সাগর গ্রেপ্তার ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ হাজার ছাড়ালো করোনা শনাক্ত হাজারের নিচে, মৃত্যু ২৫ ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’

অস্ট্রেলিয়ায় বসে রোজীর জাল ভিসা বাণিজ্য  

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৬:৫৮ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ রবিবার

প্রতারক চক্রের মূলহোতা উম্মে ফাতেমা রোজী।  ছবি : সংগৃহীত

প্রতারক চক্রের মূলহোতা উম্মে ফাতেমা রোজী। ছবি : সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়া নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে সিআইডি। তবে এ প্রতারণার মূল কলকাঠি নাড়ছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী উম্মে ফাতেমা রোজী। তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে প্রত্যাশা করছে সিআইডি।

আজ রোববার দুপুরে মালিবাগের সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন জানান, উম্মে ফাতেমা রোজী নামে এক অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীর কাছে ৭৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট এম এ বি এম খায়রুল ইসলাম (৪৭)। এরপর খিলগাঁও থানায় তিনি রোজীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার তদন্ত করতে গিয়ে রোজীর সহযোগী চক্রের দুজনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। গ্রেপ্তার দুজন হলেন- মো. সাইমুন ইসলাম (২৬) ও আশফাকুজ্জামান খন্দকার (২৬)।

উম্মে ফাতেমা রোজী (৩৫) একজন অস্ট্রেলিয়ান প্রবাসী। গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি। মাঝে মধ্যে দেশে এসে টার্গেট করে কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। সেই সম্পর্কের জেরে বাংলাদেশিদের কম খরচে পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখায় সে। ভুয়া ভিসা ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় রোজী।

ডিআইজি ইমাম হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ান রিলেটিভ স্পনসর মাইগ্রেশন (৮৫৫) পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট জাল ভিসা প্রস্তুত করে বাংলাদেশিদের অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর কথা বলে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে রোজী। সে মাঝে মধ্যে দেশে এসে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করেন। দেশের উচ্চবিত্তদের টার্গেট করে আত্মীয় ভিসায় অস্ট্রেলিয়া নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখান।

রোজী অস্ট্রেলিয়া ইমিগ্রেশন কনস্যুলার জেনারেল হিসেবে ভুয়া পরিচয় দেন। এ ছাড়া তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের কাছ থেকে নেওয়া পুরস্কারের ছবি মানুষকে দেখাতেন। ফলে অস্ট্রেলিয়া যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা তাকে বিশ্বাস করেন। এভাবে ধাপে ধাপে কাগজপত্র ও ভিসার কথা বলে টাকা নিতেন তিনি। একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে এভাবে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা।

সিআইডির এই কর্মকর্তা জানান, এমন ফাঁদে পড়ে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের আট সদস্য নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যেতে চেয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম এ বি এম খায়রুল ইসলাম। এরপর দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৭৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা রোজীর অ্যাকাউন্টে দেন তিনি। পরে কাগজপত্র ও ভিসা হাতে পেয়ে সেগুলো যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে দেখেন সব ভুয়া ও জাল। এভাবে প্রতারণা করে রোজী একাধিক মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়া দূতাবাসের লোগোসহ ভিসা সংক্রান্ত সকল প্রকার কাগজপত্র রোজীর কাছে পাঠাত। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে জাল ভিসা প্রস্তুত কাজে ব্যবহৃত একটি কম্পিউটার, সাতটি অস্ট্রেলিয়ার জাল ভিসা গ্রান্ট নোটিশ, ফ্রি চিকিৎসার জন্য পাঁচটি কার্ড ও বিমানের ছয়টি টিকিট জব্দ করা হয়।