ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:৫৬:৩৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

ও লেভেল শিক্ষার্থী: পড়াশোনা, মানসিক স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি

ফয়েজ রেজা | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:১৭ পিএম, ১৯ মে ২০২৬ মঙ্গলবার

ও লেভেল শিক্ষার্থী: পড়াশোনা, মানসিক স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি 

ও লেভেল শিক্ষার্থী: পড়াশোনা, মানসিক স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি 

ভোরের নরম আলোয় বইয়ের পাতা খুলে বসে অনেক ও লেভেলের শিক্ষার্থী। কারও চোখে স্বপ্ন—ভালো কলেজে পড়ার, কারও মনে ভয়—রেজাল্ট যদি খারাপ হয়! এই বয়সটা এমন এক সময়, যখন পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেকে গড়ে তোলার যুদ্ধ চলে প্রতিদিন।

পড়াশোনা মানে শুধু বই মুখস্থ নয়: ও লেভেলের সিলেবাস বড়, বিষয়ও বেশ কঠিন। কিন্তু শুধু মুখস্থ করলে টিকে থাকা যায় না। বিষয় বুঝে পড়াই আসল চাবিকাঠি।

শিক্ষকদের মতে, প্রতিদিন অল্প অল্প করে পড়লে চাপ কমে, আত্মবিশ্বাস বাড়ে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পড়ার রুটিন, দুর্বল বিষয়গুলো আলাদা করে সময় দেওয়া, আগের বছরের প্রশ্ন অনুশীলন করা।

প্রযুক্তি: বন্ধু না শত্রু?: মোবাইল, ট্যাব, ল্যাপটপ—এসব এখন পড়াশোনার অংশ। অনলাইন ভিডিও লেকচার, নোটস, মক টেস্ট—সবই পাওয়া যায়। কিন্তু অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া পড়াশোনার মনোযোগ কেড়ে নেয়।

তাই পড়ার সময় ফোন অবশ্যই সাইলেন্ট করে রাখতে হবে।
নির্দিষ্ট সময়েই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা উচিত এবং শিক্ষামূলক অ্যাপ ব্যবহার দরকার।

মানসিক চাপ সামলানো সবচেয়ে জরুরি: পরীক্ষার সময় অনেকেই হতাশ, আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বাবা-মায়ের প্রত্যাশা, শিক্ষকের চাপ, নিজের ভয়—সব মিলে মাথা ভার হয়ে যায়।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ভালো রেজাল্টের জন্য শান্ত মন সবচেয়ে জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম, হালকা ব্যায়াম বা হাঁটা, বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে কথা বলা এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলরের সাহায্য নেয়া দরকার।

ভবিষ্যতের জন্য এখনই প্রস্তুতি: ও লেভেল মানে শুধু পরীক্ষা নয়, ভবিষ্যতের ভিত তৈরি।
এই সময় থেকেই শিক্ষার্থীদের উচিত—নিজের আগ্রহ খুঁজে বের করা (বিজ্ঞান, ব্যবসা, মানবিক), ক্যারিয়ার সম্পর্কে ধারণা নেওয়া, সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত থাকা (ডিবেট, ক্লাব, খেলাধুলা)

শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভূমিকাও বড়: শুধু নম্বর নয়, শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থাও বুঝতে হবে। বকা না দিয়ে বোঝানো, ভয় না দেখিয়ে উৎসাহ দেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।

উপসংহার: ও লেভেলের জীবন মানে চাপের জীবন নয়—এটা নিজেকে চেনার সময়। নিয়মিত পড়াশোনা, সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার, মানসিক যত্ন আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—এই চারটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়েই গড়ে ওঠে একজন আত্মবিশ্বাসী শিক্ষার্থী।

মনে রাখতে হবে, এই বয়সে শেখার অভ্যাসই ঠিক করে দেয় আগামী দিনের পথচলা।


ফয়েজ রেজা: ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞ।