ঢাকা, সোমবার ০৭, সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৩১:১৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নেমেই বিশ্বরেকর্ড হরমনপ্রীতের ভারত থেকে আসা নিম্নমানের চায়ে সয়লাব সিলেট আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৮১:রোড সেফটি ফাউন্ডেশন পরীমণির কোলে থাকা শিশুকে নিয়ে নানা জল্পনা চবিতে শিক্ষকসহ ৩ জন বরখাস্ত প্রতিবেশীর গোপন খবর বিক্রি করে দুটি বাড়ি কিনলেন নারী! কেপ ভার্দেতে শিক্ষা সফরের বাস খাদে পড়ে ২৫ শিশু-কিশোর নিহত

চবিতে শিক্ষকসহ ৩ জন বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:০১ পিএম, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সোমবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পৃথক ঘটনায় এক শিক্ষকসহ তিনজনকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এর মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কটাক্ষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরীকে (পিলু) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া দর্শন ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে স্থায়ী এবং আরেক শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।


অন্যদিকে, সহকারী প্রক্টরের গায়ে হাত তোলার ঘটনায় আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীর স্থায়ী বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাকে ছয় মাসের বহিষ্কারাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।


রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এসব তথ্য নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম।

জানা গেছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৮তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক ও দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক এসব সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।


জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে পোস্ট, শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুলাই প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে একটি পোস্ট দেন। পরে পোস্টটির স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ ওঠে, ওই পোস্টে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে ‘অশ্লীল ও কটাক্ষমূলক’ বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রাথমিকভাবে অভিযোগ খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেয়। এরপর গত ১২ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মো. আল আমিনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।


প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ৫৬৮তম সিন্ডিকেট সভায় ড. আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযোগটি অধিকতর তদন্তে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আল ফোরকান।


এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রথম তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিন্ডিকেট এ শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অধিকতর তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী বলেন, সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দেশনা পাননি।


দর্শন ও ইতিহাস বিভাগের সংঘর্ষের ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার

একই সিন্ডিকেট সভায় দর্শন ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষের ঘটনায় দর্শন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ওয়াসিমকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাহসির হাসানকে এক বছরের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নেওয়া এসব সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।


উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় একজনকে স্থায়ী এবং একজনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেটে অনুমোদিত হয়েছে।


হাইকোর্টে বদলাল শাস্তি

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. কোরবান আলীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আফসানা এনায়েত এমির বিরুদ্ধে আগে স্থায়ী বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। পরে হাইকোর্ট তার স্থায়ী বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। একই সঙ্গে তাকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়।


বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আফসানা এনায়েত এমি নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আদালত তাকে ছয় মাসের বহিষ্কারাদেশ দেন। মামলা পরিচালনায় সময় অতিবাহিত হওয়ায় আদালতের দেওয়া ওই ছয় মাসের শাস্তির মেয়াদও ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।


ওই কর্মকর্তা বলেন, আফসানা এনায়েত এমি তার দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আদালত তাকে ছয় মাসের বহিষ্কার আদেশ দেন। মামলা পরিচালনায় সময় গড়ানোর কারণে ওই ছয় মাস ইতোমধ্যে অতিবাহিত হয়েছে। ফলে আদালতের দেওয়া শাস্তিও বাস্তবায়িত হয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তগুলো সংশ্লিষ্ট তদন্ত, প্রতিবেদন এবং সিন্ডিকেটের অনুমোদনের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে।