ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯, অক্টোবর ২০২৬ ১৪:৫০:১০ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ লাইনচ্যুত, ঢাকা-উত্তরবঙ্গ ট্রেন চলাচল বন্ধ মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ,যান চলাচল ব্যাহত তেঁতুলিয়ায় বাড়ছে শীতের অনুভূতি গাজার শিশুদের বাঁচাতে হামজার উদ্যোগ, সংগ্রহ ১ লাখ পাউন্ড ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তর করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে

চরম ঝুঁকিতে দেশের পাঁচ শতাধিক সরকারি-বেসরকারি ওয়েবসাইট

প্রযুক্তি ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৩০ পিএম, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ পিএইচপিতে নতুন একটি নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত হওয়ায় দেশের সরকারি-বেসরকারি পাঁচ শতাধিক ওয়েবসাইট চরম সাইবার ঝুঁকিতে পড়েছে। সরকারের সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট এ বিষয়ে জরুরি সতর্কবার্তা দিলেও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইটের পুরোনো সংস্করণ হালনাগাদ করেনি। ফলে দেশের ডিজিটাল সেবার নিরাপত্তা ও নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেহাত হওয়ার মারাত্মক শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইটের ব্যাক-এন্ড বা নেপথ্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রেই পিএইচপি ব্যবহৃত হয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ ও উইজ-এর গবেষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে পিএইচপিতে দুটি গুরুতর ত্রুটি শনাক্ত করেন, যা ২১ অক্টোবর সংশোধন করে পিএইচপি কর্তৃপক্ষ।


কিন্তু ২৩ অক্টোবর পিএইচপির সেশন ব্যবস্থাপনা ও ফাইল আপলোডের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জায়গায় নতুন আরেকটি ত্রুটি ধরা পড়ে, যার কোনো নিরাপত্তা সংশোধনী (প্যাচ) এখনো প্রকাশিত হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা সহজেই সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা চালানোর সুযোগ পেয়ে যেতে পারে।

বিজিডি ই-গভ সার্টের সাইবার থ্রেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের নজরদারিতে দেখা গেছে, দেশের আর্থিক ও জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি সাইটসহ অন্তত পাঁচ শতাধিক ওয়েবসাইট এই মুহূর্তে ঝুঁকিতে রয়েছে।

সার্টের প্রকল্প পরিচালক নাজমুল হক খন্দকার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ওয়েবসাইটের এই সংখ্যা বেশ উদ্বেগজনক। যেহেতু নতুন ত্রুটির কোনো প্যাচ এখনো আসেনি, তাই সম্ভাব্য সাইবার হামলা ঠেকাতে সার্ট সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পিএইচপির ‘সেশন আপলোড প্রগ্রেস’ সুবিধা সাময়িক বন্ধ রাখা, সার্ভারের প্রয়োজনীয় সেবা পুনরায় চালু করা, বিন্যাস পরীক্ষা করা এবং যেকোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে।

সতর্ক করার পরও অনেক প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা হালনাগাদে চরম গাফিলতি করছে। একটি বেসরকারি হোস্টিং কোম্পানির প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) জুনায়েদ মিয়াজী বলেন, “অনেকে ওয়েবসাইট সচল থাকাকেই নিরাপদ থাকার লক্ষণ মনে করেন। এ কারণে নিয়মিত সফটওয়্যার হালনাগাদ ও ত্রুটি সংশোধনের বিষয়ে তারা গাফিলতি করেন।”

দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তায় সার্ট মূলত সাইবার হুমকি শনাক্ত ও সতর্কবার্তা দেওয়ার কাজ করে। কিন্তু সেই নির্দেশনা মানা হচ্ছে কি না, তা দেখার সুনির্দিষ্ট কেউ নেই।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির মনে করেন, ওয়েবসাইটের নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হলেও জাতীয় পর্যায়ে সাইবার নিরাপত্তার একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠানগুলো সেই নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করছে কি না, তা যাচাই ও নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী তদারকি কাঠামো থাকা অপরিহার্য।