ঢাকা, শুক্রবার ২৩, অক্টোবর ২০২৬ ১৭:০৮:১৬ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ২৬ অক্টোবর থেকে চলবে মহানগর এক্সপ্রেস তিব্বতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প: নিহত ১৬, আহত অর্ধশতাধিক অপ্রতীম হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় আনা সেই রাবি শিক্ষার্থী আর নেই আজ থেকে রাত ৮টায় বন্ধ হবে দোকানপাট ও শপিং মল বাজারে ক্রেতা কম, তবু দামে স্বস্তি নেই

জমে উঠেছে শেষ সময়ের ঈদ বাজার

অনু সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:৫৭ পিএম, ১৫ মার্চ ২০২৬ রবিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে এখন ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে কয়েকগুণ। রোজার শেষ সপ্তাহে এসে জমে উঠেছে শেষ সময়ের ঈদ বাজার। দিনের চেয়ে সন্ধ্যার পর থেকেই রাজধানীর মার্কেটগুলোতে বাড়ছে মানুষের ঢল। নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, পাঞ্জাবি, শাড়ি থেকে শুরু করে নানা রকম ঈদের সামগ্রী কিনতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মার্কেটে ভিড় করছেন ক্রেতারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, এলিফ্যান্ট রোড, বায়তুল মোকাররম মার্কেটসহ আশপাশের বিপণিবিতানগুলোতে এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। মার্কেটের ভেতরে দোকানগুলোতে জায়গা পাওয়া দায় হয়ে পড়েছে। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পছন্দের পোশাক খুঁজে বেড়াচ্ছেন এক দোকান থেকে আরেক দোকানে। দোকানিরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতাদের সামলাতে।

নিউ মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী শামীম আহমেদ বলেন, “কাজের ব্যস্ততার কারণে আগে কেনাকাটা করা হয়নি। তাই এখন শেষ সময়েই পরিবারের জন্য পোশাক কিনতে এসেছি। মার্কেটে ভিড় অনেক বেশি, তবু ঈদের আনন্দে কেনাকাটা না করলে ভালো লাগে না।”

গাউছিয়া মার্কেটে শাড়ি কিনতে আসা গৃহিণী নাজমা আক্তার বলেন, “ঈদের আগে মেয়েদের জন্য শাড়ি আর থ্রি-পিস কিনতেই আসা। দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে, তারপরও পছন্দ হলে কিনতেই হচ্ছে।”

বিক্রেতারা বলছেন, রোজার শুরুতে বেচাকেনা কিছুটা কম থাকলেও শেষের দিকে এসে বিক্রি বেড়ে গেছে। নিউ মার্কেটের একটি পোশাক দোকানের বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম জানান, “শেষ সপ্তাহে এসে বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। প্রতিদিনই রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে হচ্ছে। ক্রেতারা এখন বেশি আসছেন।”

মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, নারীদের পোশাকের দোকানগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড়। থ্রি-পিস, গাউন, ঘারারা, লেহেঙ্গা ও বিভিন্ন ডিজাইনের শাড়ি কিনতে নারীদের আগ্রহ বেশি। থ্রি-পিস বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে। অন্যদিকে শাড়ির দাম পড়ছে দেড় হাজার থেকে শুরু করে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত।

পুরুষদের জন্য পাঞ্জাবি ও পায়জামার দোকানেও দেখা গেছে ভিড়। বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ড পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে। এছাড়া জুতার দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

শুধু বড় মার্কেট নয়, রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের ফুটপাতেও বসেছে জমজমাট ঈদ বাজার। সেখানে তুলনামূলক কম দামে পোশাক কিনতে ভিড় করছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। ফুটপাতের দোকানিরা বলছেন, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভালো বিক্রি হচ্ছে।

ফুটপাতের এক বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, “ঈদের আগে এই কয়েকদিনই আমাদের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। অনেকে কম দামে ভালো পোশাক খুঁজে ফুটপাতেই চলে আসেন।”

এদিকে ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে মার্কেটগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের আগের শেষ কয়েকদিনে বিক্রি আরও বাড়বে। আর ক্রেতারাও বলছেন, ভিড় থাকলেও ঈদের আনন্দে কেনাকাটার এই ব্যস্ততাই যেন উৎসবের অন্যতম আনন্দ।