ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১২, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০:০৮:৩৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
রাত পোহালেই ভোট: দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ নেপালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস নদীতে, নিহত ১২ ঢাকায় ৩৯৪ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও ১৯৭ বিদেশি সাংবাদিক কানাডায় স্কুলে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ১০ রাজধানী ফাঁকা, ভোটের টানে বাড়ি গেছে নগরবাসী

জামালপুরে দৃষ্টিহীন নারীর ভাতা আত্মসাত

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৩৪ পিএম, ৬ জুলাই ২০১৯ শনিবার

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে প্রতিবন্ধী এক নারীর ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে স্থানীয় একজন ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ওই নারীর নাম রাজিয়া খাতুন (৬৫)। তিনি উপজেলার চরআমখাওয়া ইউনিয়নের সবুজপাড়া গ্রামের মৃত তহর আলীর স্ত্রী। যার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে, তার নাম সাহার আলী। তিনি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য সাহার আলী বলেন, আমিই ওই নারীকে ভাতার কার্ডটি করে দিয়েছিলাম। ব্যাংকেও টাকা তুলতে নিয়ে গেছিলাম। তবে ওই নারীর কার্ড ব্যাংকে ছিল না। তাই টাকাও পায় নাই। পরে তাকে কার্ড দিতে চেয়েছি। ব্যক্তিগতভাবে এক হাজার টাকাও দিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে কিছু লোক চক্রান্ত করে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।’

জানা গেছে, এক যুগ আগে রাজিয়া খাতুনের স্বামী তহর আলী মারা যান। বিধবা ওই নারী বর্তমানে অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় আছেন। নানা রোগশোকে ধীরে ধীরে তার দুই চোখের আলো নিভে গেছে। রাজিয়ার দুই ছেলেও হতদরিদ্র। তারা ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান। মায়ের নামে একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করার জন্য তারা স্থানীয় ইউপি সদস্য সাহার আলীর কাছে যান। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাজিয়ার নামে একটি ভাতার কার্ড হয়। কিন্তু তারা বিষয়টি জানতে পারেননি। কার্ডের টাকা কোথায় যায়, তারা জানেন না। ইউপি সদস্যকে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাদের সব সময় বলেন, কার্ড হয়নি।

রাজিয়া খাতুনের ছেলে মো. আজিবর বলেন, আমরা সবাই অশিক্ষিত। দেড় বছর আগে হঠাৎ ইউপি সদস্য সাহার আলী তার এক বোনকে বাড়িতে পাঠান আমার মাকে ব্যাংকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। মাকে ব্যাংকে নিয়ে যান। ব্যাংকে নিয়ে কিছুক্ষণ রাখেন। 

তিনি বলেন, পরে ব্যাংক ভবনের নিচে নেমে মাকে বলেন, কার্ড আসেনি। ব্যাংকে আপনার নাম নেই। তখন ওই ইউপি সদস্য আমার মায়ের হাতে ১ হাজার টাকা তুলে দেন।

আজিবর পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ব্যাংকে তার মায়ের নামে ৭ হাজার ৫০০ টাকা এসেছিল। রাজিয়া খাতুন নামের একটি হিসাব বইও রয়েছে। কিন্তু তার মা ভাতার কোনো টাকা পাননি। এতে আজিবরের ধারণা হয়, ইউপি সদস্য সাহার আলী হয়তো টাকাগুলো আত্মসাৎ করে আসছেন। এ অবস্থায় তিনি গত সপ্তাহে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

এ প্রসঙ্গে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাঠ কর্মকর্তা সোহেল আহমেদ বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রাজিয়া খাতুনের প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা আত্মসাতের বিষয়ে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।